• ২০২৬ মে ০৩, রবিবার, ১৪৩৩ বৈশাখ ২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৭:০৫ অপরাহ্ন
English
পরিচালনাপর্ষদ
আমাদের সাথে থাকুন আপনি ও ... www.timebanglanews.com

বন্ধ কলকারখানা চালু করে কর্মসংস্থান বাড়ানো হবে: প্রধানমন্ত্রী

  • প্রকাশিত ০৭:০৫ অপরাহ্ন রবিবার, মে ০৩, ২০২৬
বন্ধ কলকারখানা চালু করে কর্মসংস্থান বাড়ানো হবে: প্রধানমন্ত্রী
File
শহীদুর রহমান জুয়েল সিলেট জেলা প্রতিনিধি

বন্ধ কলকারখানা চালু করে কর্মসংস্থান বাড়ানো হবে: প্রধানমন্ত্রী


প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশে বন্ধ হয়ে পড়া সব কারখানা চালু করা হবে। সরকার গঠনের ৫/৭ দিনের মধ্যে আপনাদের সন্তান মুক্তাদিরকে (শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রী) নিয়ে আমি বসেছিলাম। তাকে বলেছিলাম, কোথায় কোথায় বন্ধ কল কারখানা আছে তা বের করেন, বন্ধের কারণ বের করেন। এবং সবগুলো আমরা ধীরে ধীরে চালু করবো। যাতে করে আমাদের দেশের বেকার মানুষদের কর্মমসংস্থান হয়।

শনিবার দুপুরে সিলেট সদর উপজেলার কান্দিগাঁও ইউনিয়নে বাসিয়া নদী পূণঃখনন কাজ উদ্বোধন শেষে অনুষ্ঠিত এক জনসভায় এমনটি বলেন।

তিনি বলেন, দেশের ভেতরে যারা শিল্প উদ্যোক্তা আছেন, তাদের নিয়ে আমরা বসেছি। যাতে তারা নতুন নতুন কারখানা তৈরি করতে পারেন। এতে আমাদের দেশের ছেলেমেয়রা চাকরি পাবেন। শুধু তাই, যেসব দেশের শ্রম বাজার বন্ধ আছে সেগুলোও আমরা চালু করার ব্যবস্থা করছি। অতিদ্রুতই সেসব দেশে মানুষ যাওয়া আবার শুরু হবে।

তিনি আরও বলেন, বিএনপি নির্বাচনের আগে যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল তা বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। আমরা নির্বাচনের আগে বলেছিলাম, সারাদেশে খাল খনন কার্যক্রম শুরু করবো। আমরা শুরু করেছে। আজ এই বাসিয়া খাল পূণঃখনন কাজের উদ্বোধন করলাম। এই খাল খনন শেষে দুই পারে আমরা ৫০ হাজার গাছ লাগাবো। সেখানে স্থানীয়রা প্রকৃতির সান্নিধ্য পাবেন। আমরা ফলজ গাছও লাগাবো। বাসিয়া পুণঃখনন শেষ হলে সরাসরি ৮০ হাজার কৃষক উপকৃত হবে। আর পরোক্ষভাবে উপকৃত হবে আরও অন্তত দেড় লাখ মানুষ। এতে বছরে আরও ৭ হাজার মেট্রিক টন অতিরিক্ত খাদ্যশস্য উৎপাদন হবে। আমরা দেশের ৬০ জেলায় খাল খনন শুরু করেছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের আগে আমরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম আমরা ফ্যামিলি কার্ড দিবো। আমরা তা শুরু করেছি। আমরা কৃষকদের কৃষি কার্ড দেওয়ার কাজও শুরু করেছি। এই কার্ড দিয়ে তারা যেমন সার কীটনাশক বীজ পাবেন তেমনি কৃষি ঋণও পাবেন। ইতিমধ্যে আমাদের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ১২ লাখ কৃষকের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ মওকুফ করেছি।

তিনি বলেন, ইমাম মুয়াজ্জিনসহ অন্যান্য ধর্মীয় গুরুদের আমরা ভাতা দেওয়া শুরু করেছি।

প্রসঙ্গত, ১৯৭৯ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান তার ‘খাল কাটা কর্মসূচীর’ আওতায় সর্বশেষ এই নদীটি খনন করেছিলেন। দীর্ঘ ৪৭ বছর পর তার সন্তান বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত ধরে নদীটি পুনরায় খনন হতে যাচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বাসিয়া নদীর প্রায় সাড়ে ২৩ কিলোমিটার অংশ ১২ কোটি টাকা ব্যয়ে খনন করা হবে। এর ফলে সিলেটের দক্ষিণ সুরমা, ওসমানীনগর, বিশ্বনাথ ও সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার প্রায় ৯০ হাজার কৃষক সরাসরি উপকৃত হবেন। প্রায় ২০ হাজার হেক্টর জমি চাষাবাদের আওতায় আসবে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধানে এই প্রকল্পে নদীটি প্রায় দেড় থেকে দুই মিটার গভীর করা হবে। উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী বাসিয়া নদীর পাড়ে বৃক্ষরোপণ করেন এবং স্থানীয় জনগণের সাথে সংক্ষিপ্ত মতবিনিময় করেন।

এর আগে সিলেট এসে নগরের বন্যা ও জলাবদ্ধতা নিরসনে একটি মেঘাপ্রকল্পের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।

এরপর নগর ভবনে সুধি সমাবেশে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী। এতে তিনি বলেন, নির্বাচনের আমি যখন সিলেট এসেছিলাম তখন বলেছিলাম, সিলেট থেকে লন্ডন যেতে ৯ সাড়ে ৯ ঘন্টা সময় লাগে। অথচ সিলেট থেকে বাইরোডে ঢাকা যেতে ১০ ঘন্টা সময় লাগে। তাই আমি সিলেট-ঢাকা মহানসড়কের উন্নয়নের কথা বলেছিলাম।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার গঠনের পর আমি খোঁজ নিয়ে দেখেছি, সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক সম্প্রসারণ কাজের জমি অধিগ্রহণে ১১ টি জায়গায় সমস্যা ছিলো। এজন্য কাজ আটকে ছিলো। এই সমস্যাগুলো ইতোমধ্যে দূর করা হয়েছে। আমরা আশা করছি, আমরা দ্রুত সময়ের মধ্যে কাজ শুরু করতে পারবো। কাজ শেষ হতে দেরি হবে। তবে শুরু হলে তো শেষও হবে। এতে মানুষের যাতায়াতের কষ্ট লাঘব হবে।

কেবল সড়কপথ নয়, সরকার রেল যোগাযোগ বৃদ্ধির উদ্যোগও নিয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা ঢাকা-সিলেট রেল রেলপথেকে ডাবল লাইন করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি।

সিলেটে পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকা ২০০ শয্যার হাসপাতাল দ্রুত চালু করা হবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এছাড়া সিলেট হাসপাতালকে (ওসমানী হাসপাতাল) আমরা ১২শ’ শয্যার উন্নীতের চেষ্টা করবো।

তিনি বলেন, কেবল চিকিৎসা ব্যবস্থা নয়, আমাদের মতো দেশগুলোকে রোগ প্রতিরোধেও সচেতন হওয়া দরকার। এজন্য আমরা ১ লাখ স্বাস্থ্য কর্মী নিয়োগ করবো। যাদের ৮০ ভাগ হবেন নারী। এই স্বাস্থ্যকর্মীরা গ্রামে গ্রামে মানুষের বাড়িতে গিয়ে স্বাস্থ্য ও পুষ্টি বিষয়ে সচেতন করবেন। কোন খাবার বেশি খেলে কোন রোগ হয় এসব ব্যাপারে অবগত করবেন।

বন্ধ কলকারখানা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যত দ্রুত সম্ভব এগুলো চালু করার উদ্যোগ নিয়েছি। দরকার হলে প্রাইভেট খাতে ছেড়ে দিয়ে চালু করতে চাই। এতে কর্মসংস্থান বাড়বে। বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্টেরও চেষ্টা করছি।

তিনি বলেন, সিলেটে একটি আইটি পার্ক আছে। কিন্তু এটি সচল নেই। আমরা এটি দ্রুত সচল করার চেষ্টা করছি। যাতে তরুণরা এখানে কাজের সুযোগ পায়। ভকশেনাল সেন্টারগুলো আপডেট করারও উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

নগরের জলাবদ্ধতা সমস্যা সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এয়ারপোর্ট থেকে আসার সময় দেখছিলাম, বৃষ্টির কারণে পানি জমে গেছে। বৃষ্টির কারণে সুনামগঞ্জের অনেক কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন। এছাড়া সব নগরেই ভূগর্ভূস্থ পানির স্থর নিচে নেমে যাচ্ছে। এটি ধীরে ধীরে ভয়াবহ পরিস্থিতির দিকে নিয়ে যাচ্ছে। এজন্য আমরা খাল খনন কর্মসূচী নিয়েছি। তাতে বৃষ্টির পানি আমরা ব্যবহার করতে পারবো। জলাবদ্ধতাও নিরসন হবে।

নদী ও পরিবেশ রক্ষায় সচেতনতা তৈরির আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, নদীতে প্লাস্টিকের স্থর জমে পানি বিষাক্ত হয়ে গেছে। এই বিষয়ে মানুষকে সচেতন করতে হবে। সিটি করপোরেশন এলাকায় স্কুলগুলোতে উদ্যোগ নিয়ে শিশুদের পরিবেশের বিষয়ে সচেতন করে তুলতে হবে।

তিনি বলেন, যে প্রতিশ্রুতি আমরা দেশের মানুষকে দিয়েছিলাম তা আমরা বাস্তবায়ন করা শুরু করেছি। আমরা ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড চালু করেছি। শিশুদের খেলাধুলায় আকৃষ্ট নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস চালু করেছি।

সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধানসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীর সভাপতিত্বে এতে বক্তব্য রাখেন শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদীর, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর পররষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, হুইপ জিকে গউছ ও সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাই রাফিন সরকার।

সর্বশেষ