রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধে আরও দুই বাংলাদেশীর মৃত্যু।
সরকার বদলায়, শাসক বদলায়, স্লোগান। বদলায়কিন্তু বদলায় না বাংলার সাধারণ মানুষের ভাগ্য।প্রতি বছর হাজার হাজার নয়, লক্ষ লক্ষ ছেলে-মেয়ে কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সার্টিফিকেট হাতে বের হয়। বুকভরা স্বপ্ন নিয়ে তারা চাকরির পেছনে ছুটে বেড়ায়। কিন্তু চাকরি নেই। আর যা আছে, তার বেতনে এই দ্রব্যমূল্যের বাজারে একটি পরিবারের ন্যূনতম চাহিদাও পূরণ হয় না।
একজন তরুণ যখন দিনের পর দিন ব্যর্থতার ভার বয়ে বেড়ায়,
যখন বাবার চোখের দিকে তাকাতে লজ্জা লাগে,
যখন মায়ের মুখে চাপা দীর্ঘশ্বাস জমে থাকে,
তখন সে বাধ্য হয় দেশের মাটি ছেড়ে দূর প্রবাসে পা বাড়াতে।
এই অসহায়ত্বের সুযোগ নেয় কিছু নিষ্ঠুর দালাল।
চাকরির স্বপ্ন দেখিয়ে বাংলার টগবগে যুবকদের বিদেশে পাঠানো হয়। কেউ ভাবে ভালো ভবিষ্যৎ অপেক্ষা করছে, কিন্তু পরে দেখা যায় তারা ভয়াবহ যুদ্ধের মধ্যে আটকে গেছে। জীবন-মৃত্যুর অনিশ্চয়তায় প্রতিটি মুহূর্ত কাটছে।
কেউ হয়তো বুঝেই যায়, তবুও যায়…
কারণ তার কাছে যুদ্ধের ভয় থেকেও বড় ভয় হলো — বেকারত্ব, অভাব আর পরিবারের ক্ষুধা।
একটি রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় শক্তি তার যুবসমাজ।
কিন্তু সেই যুবকরাই যখন হতাশা, দারিদ্র্য আর অনিশ্চয়তার কারণে জীবনকে ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেয়, তখন শুধু একটি পরিবার নয়, পুরো জাতিই ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
আমাদের দেশের তরুণরা যুদ্ধ চায় না,
তারা শুধু বাঁচতে চায়…
নিজের মাটিতে সম্মানের সাথে দুমুঠো ভাতের নিশ্চয়তা চায়।
কিন্তু সেই নিশ্চয়তাটুকুই আজ সবচেয়ে অনিশ্চিত।
মতামত দিন