• ২০২৬ সেপ্টেম্বর ২৪, বৃহস্পতিবার, ১৪৩৩ আশ্বিন ৮
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:০৯ অপরাহ্ন
English
পরিচালনাপর্ষদ
আমাদের সাথে থাকুন আপনি ও ... www.timebanglanews.com

অল্প পুঁজির হাঁসের খামার, আজ হামিদ মিয়ার সাফল্যের ঠিকানা

  • প্রকাশিত ০১:০৯ পূর্বাহ্ন বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬
অল্প পুঁজির হাঁসের খামার, আজ হামিদ মিয়ার সাফল্যের ঠিকানা
টাইম বাংলা নিউজ
মোয়াজ্জেম হোসেন, দিনাজপুর জেলা প্রতিনিধি

দিনাজপুর, ঘোড়াঘাট: একসময় সংসার চালানোই ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। হাতে ছিল সামান্য পুঁজি, আর ছিল সফল হওয়ার অদম্য ইচ্ছা। সেই ইচ্ছাশক্তি, কঠোর পরিশ্রম ও ধৈর্যের জোরে আজ সফল খামারি হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার সিংড়া ইউনিয়নের রামেরসরপুর গ্রামের হামিদ মিয়া। মাত্র ৮০টি হাঁস নিয়ে যাত্রা শুরু করে বর্তমানে প্রায় ৭৫০টি হাঁসের একটি লাভজনক খামার গড়ে তুলেছেন তিনি। এই খামারের আয়েই চলছে পরিবারের সব খরচ, সন্তানের উচ্চশিক্ষা এবং ভবিষ্যতের স্বপ্ন।

প্রায় ২০ বছর আগে অল্প পুঁজি নিয়ে হাঁস পালন শুরু করেন হামিদ মিয়া। শুরুতে নানা প্রতিকূলতা, লোকসান ও আর্থিক সংকটের মুখোমুখি হলেও তিনি হাল ছাড়েননি। সময়ের সঙ্গে অভিজ্ঞতা অর্জন করে ধীরে ধীরে নিজের খামারকে সম্প্রসারণ করেছেন।

বর্তমানে তার খামারে প্রায় ৭৫০টি হাঁস রয়েছে। প্রতিদিন ২৫০ থেকে ৩০০টি ডিম উৎপাদিত হয়। বাজারদরের ওপর নির্ভর করে প্রতিদিন প্রায় ৩ হাজার ২৫০ থেকে ৩ হাজার ৭৫০ টাকা আয় হয়। মাস শেষে এই আয় প্রায় এক লাখ টাকার কাছাকাছি পৌঁছে যায়।

হামিদ মিয়ার খামারের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো প্রাকৃতিক খাদ্যনির্ভর হাঁস পালন। ধান কাটার পর কৃষকদের ফাঁকা জমিতে হাঁস ছেড়ে দেওয়া হয়। সেখানে শামুক, পোকামাকড় ও অন্যান্য প্রাকৃতিক খাদ্য খেয়ে হাঁসগুলো বেড়ে ওঠে। ফলে খাদ্য ব্যয় কমে যায় এবং উৎপাদন খরচও নিয়ন্ত্রণে থাকে।

বর্তমানে ৪৫ বছর বয়সী হামিদ মিয়ার দুই সন্তান। বড় মেয়ে নার্সিংয়ের তৃতীয় বর্ষে পড়াশোনা করছেন এবং ছেলে মাদরাসায় অধ্যয়নরত। হাঁসের খামার থেকেই তাদের পড়াশোনাসহ পরিবারের সব ব্যয় নির্বাহ করা হচ্ছে।

হামিদ মিয়া বলেন, "মাত্র ৮০টি হাঁস দিয়ে শুরু করেছিলাম। অনেক কষ্ট করেছি, অনেক বাধা এসেছে। কিন্তু কখনো হাল ছাড়িনি। আজ এই খামারই আমার পরিবারের সবচেয়ে বড় অবলম্বন।"

তিনি জানান, খামারের প্রতিটি কাজে তার স্ত্রীও সমানভাবে সহযোগিতা করেন। পরিবারের সম্মিলিত প্রচেষ্টাই তাকে আজকের অবস্থানে নিয়ে এসেছে।

সিংড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাজ্জাদ হোসেন বলেন, হামিদ মিয়ার মতো উদ্যোক্তারা গ্রামীণ অর্থনীতিকে এগিয়ে নিচ্ছেন। সরকারি সহায়তা ও প্রশিক্ষণ বাড়ানো গেলে আরও অনেক তরুণ এ খাতে আগ্রহী হবেন।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. রবিউল ইসলাম বলেন, প্রাকৃতিক খাদ্যনির্ভর হাঁস পালন কম খরচে লাভজনক একটি উদ্যোগ। নিয়মিত টিকাদান ও সঠিক পরিচর্যা নিশ্চিত করা গেলে এটি দীর্ঘমেয়াদে টেকসই আয়ের অন্যতম মাধ্যম হতে পারে।

সর্বশেষ