• ২০২৬ অগাস্ট ১৬, রবিবার, ১৪৩৩ ভাদ্র ১
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৬:০৮ অপরাহ্ন
English
পরিচালনাপর্ষদ
আমাদের সাথে থাকুন আপনি ও ... www.timebanglanews.com

দেশজুড়ে তীব্র বিদ্যুৎ সংকট ও জনদুর্ভোগ: বিদ্যুৎমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি সাধারণ মানুষের

  • প্রকাশিত ০৬:০৮ অপরাহ্ন রবিবার, অগাস্ট ১৬, ২০২৬
দেশজুড়ে তীব্র বিদ্যুৎ সংকট ও জনদুর্ভোগ: বিদ্যুৎমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি সাধারণ মানুষের
Time Bangla news
তানিয়া আক্তার রানু (নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি ঢাকা):

দেশজুড়ে তীব্র বিদ্যুৎ সংকট ও জনদুর্ভোগ: বিদ্যুৎমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি সাধারণ মানুষের

:

সারাদেশে চলমান তীব্র বিদ্যুৎ সংকট, ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিং এবং জ্বালানি খাতের দীর্ঘমেয়াদি অব্যবস্থাপনায় অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন সাধারণ মানুষ। প্রচণ্ড দাবদাহের মধ্যে পল্লী এলাকা থেকে শুরু করে রাজধানী—সর্বত্র বিদ্যুৎ বিভ্রাটে জনজীবন বিপর্যস্ত। সাধারণ জনগণের একটাই প্রশ্ন: “যদি পর্যাপ্ত সেবা দিতে না-ই পারেন, তবে দায়িত্বে কেন থাকবেন?” এই চরম জনদুর্ভোগের সুষ্ঠু দায়ভার গ্রহণ করে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রীর পদত্যাগের জোর দাবি তুলেছেন ভুক্তভোগী নাগরিক সমাজ ও সচেতন গোষ্ঠী।

​জনদুর্ভোগের চরম চিত্র

​গৃহস্থালি জীবনে স্থবিরতা: তীব্র গরমে দিনে ও রাতে ১০ থেকে ১৬ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ না থাকায় শিশু, প্রবীণ ও অসুস্থ ব্যক্তিদের হাঁসফাঁস অবস্থা। স্বাভাবিক রান্নাবান্না, রাতে ঠিকমতো ঘুমানো এবং দৈনন্দিন গৃহস্থালি কাজ সম্পূর্ণ ব্যাহত হচ্ছে।

​শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ব্যাঘাত: সামনে বিভিন্ন পরীক্ষা থাকা সত্ত্বেও বিদ্যুতের অভাবে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনায় মন দিতে পারছে না। গরমে মোমবাতি কিংবা চার্জার লাইটের মৃদু আলোতে পড়ালেখা চালানো তাদের জন্য চরম মানসিক ও শারীরিক যন্ত্রণা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

​কৃষি ও ব্যবসার ক্ষতি: সেচ পাম্প চালাতে না পেরে বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। এছাড়া বিদ্যুৎনির্ভর ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, ওয়ার্কশপ, পোল্ট্রি খামার ও বড় বড় শিল্পকারখানাগুলো উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় প্রতিদিন মোটা অঙ্কের আর্থিক লোকসানের মুখে পড়ছে।

​কেন উঠছে পদত্যাগের যুক্তিযুক্ত দাবি?

​সাধারণ মানুষ ও খাতসংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদ্যুৎমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিটি কোনো রাজনৈতিক বা অহেতুক ক্ষোভ নয়; বরং এর পেছনে রয়েছে সুস্পষ্ট যুক্তি:

​পূর্বপরিকল্পনা ও দূরদর্শিতার অভাব: বিশ্ববাজারে কিংবা স্থানীয়ভাবে জ্বালানি (গ্যাস ও কয়লা) সংকটের আগাম পূর্বাভাস থাকা সত্ত্বেও বিকল্প কোনো কার্যকর সমাধান তৈরি করা হয়নি।

​অবকাঠামোগত ব্যর্থতা: বিদ্যুৎ উৎপাদনের যে বড় বড় ক্যাপাসিটি বা ক্ষমতার কথা বলা হয়, জ্বালানি সরবরাহের সঠিক ব্যবস্থাপনা না থাকায় সেই অবকাঠামো জনগণের কোনো কাজে আসছে না।

​জবাবদিহিতার অনুপস্থিতি: একের পর এক আশ্বাস দেওয়া সত্ত্বেও পরিস্থিতি দিন দিন আরও অবনতির দিকে যাচ্ছে। সাধারণ জনগণের করের টাকায় পরিচালিত একটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের প্রধান হিসেবে এই চরম অব্যবস্থাপনার নৈতিক দায়ভার মন্ত্রীকেই নিতে হবে।

​জনগণের ক্ষোভ এখন আর শুধু ফেসবুক কিংবা আলোচনার টেবিলে সীমাবদ্ধ নেই; অনেক স্থানে পল্লী বিদ্যুৎসহ স্থানীয় বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে সাধারণ মানুষের অসন্তোষ প্রকাশ পাচ্ছে। জনস্বার্থ রক্ষা এবং একটি দায়িত্বশীল প্রশাসনিক সংস্কৃতির স্বার্থে ব্যর্থতার দায় স্বীকার করে পদত্যাগ করাই এখন সময়ের দাবি বলে মনে করছে দেশবাসী।

সর্বশেষ