• ২০২৬ সেপ্টেম্বর ২৭, রবিবার, ১৪৩৩ আশ্বিন ১১
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৩:০৯ পূর্বাহ্ন
English
পরিচালনাপর্ষদ
আমাদের সাথে থাকুন আপনি ও ... www.timebanglanews.com

*AI নিয়ে বিল গেটসের বড় সতর্কবার্তা: অপব্যবহারে প্রাণহানি হতে পারে ১০০ কোটি*।

  • প্রকাশিত ০৩:০৯ পূর্বাহ্ন রবিবার, সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬
*AI নিয়ে বিল গেটসের বড় সতর্কবার্তা: অপব্যবহারে প্রাণহানি হতে পারে ১০০ কোটি*।
Time Bangla news
ফজলে এলাহী সুমন | সাভার প্রতিনিধি | টাইম বাংলা নিউজ ।

*AI নিয়ে বিল গেটসের বড় সতর্কবার্তা: অপব্যবহারে প্রাণহানি হতে পারে ১০০ কোটি*।


 *উপশিরোনাম:* স্বনিয়ন্ত্রণ যথেষ্ট নয়, AI খাতে সরকারি নজরদারি চান মাইক্রোসফটের সহপ্রতিষ্ঠাতা ।

*প্রযুক্তির। এবার উন্নত AI প্রযুক্তি ভুল হাতে পড়লে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় ঘটতে পারে বলে সতর্ক করেছেন মাইক্রোসফটের সহপ্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস। তাঁর আশঙ্কা, অত্যাধুনিক AI-এর অপব্যবহারে একপর্যায়ে ১০০ কোটি মানুষের প্রাণহানির মতো পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম NBC-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে AI-এর সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে নিজের উদ্বেগের কথা জানান বিল গেটস। তিনি বলেন, প্রযুক্তিটি নিজে ভালো বা খারাপ—এভাবে দেখার সুযোগ নেই; বরং এটি কার হাতে এবং কীবোর্ড hJILkcxcvxxkxkkxxkltkk উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হচ্ছে, সেটিই বড় বিষয়। অসৎ ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর হাতে অত্যন্ত শক্তিশালী AI চলে গেলে এর পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে বলে মনে করেন তিনি।

গেটসের ভাষ্য অনুযায়ী, AI এমন কিছু কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত হতে পারে, যার পরিণতিতে বিপুলসংখ্যক মানুষের মৃত্যু ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। তিনি এ ধরনের সম্ভাবনাকে শতভাগ নিশ্চিত ভবিষ্যদ্বাণী হিসেবে দেখছেন না। তবে তাঁর মতে, আধুনিক AI-এর মতো এত শক্তিশালী প্রযুক্তি এর আগে কখনো এমন মাত্রায় অপব্যবহারের ঝুঁকি তৈরি করেনি।

এই পরিস্থিতিতে AI প্রযুক্তির ওপর কার্যকর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দিয়েছেন বিল গেটস। তাঁর মতে, সরকার ও নীতিনির্ধারকদের এখনই এ বিষয়ে সক্রিয় হতে হবে। প্রয়োজন কঠোর আইন, উন্নত নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং কার্যকর নজরদারি। AI প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সরকারকে সমন্বয়ের মাধ্যমে নিরাপত্তার কাঠামো গড়ে তোলারও আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

তবে গেটসের মতে, নিয়ন্ত্রণ আরোপের অর্থ AI গবেষণা বা প্রযুক্তিগত অগ্রগতি থামিয়ে দেওয়া নয়। বরং নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করেই AI উন্নয়নের গতি বজায় রাখা সম্ভব। এর জন্য প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর বাড়তি দায়িত্ব ও কিছু অতিরিক্ত কাজের চাপ তৈরি হলেও তা সামগ্রিক উদ্ভাবনকে থামিয়ে দেবে না বলে মনে করেন তিনি।

AI-এর ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা প্রযুক্তি বিশ্বের শীর্ষ ব্যক্তিদের তালিকায় অবশ্য বিল গেটসই প্রথম নন। এর আগে OpenAI-এর প্রধান স্যাম অল্টম্যানও উন্নত AI-এর সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করেছেন। টেসলার প্রধান ইলন মাস্কসহ প্রযুক্তি অঙ্গনের আরও কয়েকজন ব্যক্তিও AI উন্নয়নের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন।

সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের Alan Turing Institute-ও Frontier AI-এর সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করেছে। প্রতিষ্ঠানটির একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে অত্যন্ত উন্নত AI মানুষের বুদ্ধিবৃত্তিক সক্ষমতার সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে পারে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন ক্ষেত্রে মানুষের নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হয়ে পড়ার আশঙ্কাও তুলে ধরা হয়েছে।

প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়, AI-এর সক্ষমতা মানুষের জ্ঞান ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতাকে ছাড়িয়ে গেলে এর নিজস্ব কৌশল ও কর্মকৌশল মানুষের জন্য নতুন ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এমনকি উন্নত AI ব্যবস্থার অপব্যবহারের মাধ্যমে রাসায়নিক বা জৈবিক অস্ত্র তৈরির মতো বিপজ্জনক কর্মকাণ্ডের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া হয়নি।

এর আগে Anthropic-এর সঙ্গে যুক্ত থাকা জেকব কক্সোনও AI-এর ভবিষ্যৎ ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, চলতি দশকের শেষ নাগাদ AI মানুষের জন্য প্রাণঘাতী হুমকিতে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ফলে AI-এর সক্ষমতা যত দ্রুত বাড়ছে, একই সঙ্গে এর নিরাপত্তা, নিয়ন্ত্রণ, নজরদারি এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তাও সামনে আসছে। প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ অগ্রগতির সঙ্গে মানবনিরাপত্তার ভারসাম্য কীভাবে নিশ্চিত করা যায়—এখন সেটিই নীতিনির্ধারক ও প্রযুক্তি বিশ্বের অন্যতম বড় প্রশ্ন।

সর্বশেষ