*ফেসবুক পোস্ট ঘিরে আলোচনায়, জামালগঞ্জের এসিল্যান্ডকে সিলেটে সংযুক্ত।*
সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আরিফুর রহমান শান্তকে সিলেটের বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে। রোববার বিকেলে এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এতে সই করেন বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের সিনিয়র সহকারী কমিশনার মো. মুজিবুল ইসলাম।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) তাপস শীল।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের মৃত্যুর জন্য জামালগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শিল্পী রানী মোদককে দায়ী করে একটি পোস্ট দেন আরিফুর রহমান। এরপর তাঁর শারীরিক ও মানসিক অবস্থার অবনতি এবং অস্বাভাবিক আচরণের বিষয়টি সামনে আসে।
ইউএনও শিল্পী রানী মোদকের ভাষ্য অনুযায়ী, শুক্রবার রাতে তাঁর তিন বছর বয়সী মেয়ের জন্মদিনের ঔঅনুষ্ঠানে স্ত্রীসহ উপস্থিত ছিলেন আরিফুর রহমান। অনুষ্ঠান থেকে বের হওয়ার পর তিনি ফেসবুকে পোস্ট দেন। পরে তাঁর বাসায় গিয়ে অস্বাভাবিক আচরণ করতে দেখা যায় তাঁকে। এ সময় পরিচিত ব্যক্তিদের চিনতে না পারা, বাসায় থাকা এক আনসার সদস্যকে মারধর এবং টেবিলের কাচ ভাঙার ঘটনাও ঘটে।
পরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক তাঁকে দেখেন। ঘুমের ওষুধ দেওয়ার পরও আচরণে স্বাভাবিকতা না ফেরায় তাঁর স্ত্রী তাঁকে সিলেটে নিয়ে যান। সেখানে প্রথমে একটি বেসরকারি হাসপাতাল এবং পরে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। চিকিৎসকদের পরামর্শে পরবর্তী সময়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ঢাকায় নেওয়া হয়।
সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. মতিউর রহমান খান জানান, প্রশাসনের পক্ষ থেকে আরিফুর রহমানের নিয়মিত খোঁজখবর রাখা হচ্ছে। তাঁর আগে থেকেই মানসিক স্বাস্থ্যগত সমস্যা ছিল বলে তাঁরা জানতে পেরেছেন। চিকিৎসকেরা তাঁর রোগকে সিজোফ্রেনিয়া হিসেবে শনাক্ত করেছেন বলেও জানান তিনি।
ইউএনও শিল্পী রানী মোদক আরও জানান, আরিফুর রহমানের স্ত্রী তাঁকে জানিয়েছেন, জামালগঞ্জে পানিতে ডুবে এক শিশুর মৃত্যুর পর নদীতে শিশুটির মরদেহ দেখে তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন। প্রথম দিকে তাঁর মোবাইল ফোন হ্যাক হওয়ার কথা শোনা গেলেও পরে তাঁর স্ত্রী জানান, ফোন হ্যাক in হয়নি; আরিফুর রহমান নিজেই ফেসবুক পোস্টগুলো দিয়েছিলেন। পরে পোস্টগুলো মুছে ফেলা হয়।
প্রায় দুই মাস আগে জামালগঞ্জ উপজেলায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে যোগ দেন আরিফুর রহমান। তিনি উপজেলা সদরে স্ত্রীকে নিয়ে বসবাস করতেন।
মতামত দিন