• ২০২৬ অক্টোবর ২৮, বুধবার, ১৪৩৩ কার্তিক ১৩
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৫:১০ অপরাহ্ন
English
পরিচালনাপর্ষদ
আমাদের সাথে থাকুন আপনি ও ... www.timebanglanews.com

বেতন-সম্পদের হিসাব নিয়ে প্রশ্ন, সাবরেজিস্ট্রার নুরুল আমিনের সম্পদ যাচাইয়ে দুদক ।*

  • প্রকাশিত ০৫:১০ অপরাহ্ন বুধবার, অক্টোবর ২৮, ২০২৬
বেতন-সম্পদের হিসাব নিয়ে প্রশ্ন, সাবরেজিস্ট্রার নুরুল আমিনের সম্পদ যাচাইয়ে দুদক ।*
Time Bangla news
ফজলে এলাহী সুমন | সাভার প্রতিনিধি | টাইম বাংলা নিউজ।

*বেতন-সম্পদের হিসাব নিয়ে প্রশ্ন, সাবরেজিস্ট্রার নুরুল আমিনের সম্পদ যাচাইয়ে দুদক ।* 


 *উপশিরোনাম:* 

টাঙ্গাইল থেকে ঢাকার পূর্বাচল—বাড়ি, ফ্ল্যাট, দোকান ও জমির তথ্য সামনে | স্বজনদের নামেও সম্পদ থাকার অভিযোগ | আয়ের সঙ্গে সম্পদের সামঞ্জস্য যাচাই করছে দুর্নীতি দমন কমিশন। 

সরকারি চাকরিতে যোগদানের পর থেকে অবসর পর্যন্ত আয়ের সঙ্গে সম্পদের সামঞ্জস্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে অবসরপ্রাপ্ত সাবরেজিস্ট্রার খন্দকার নুরুল আমিনের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, চাকরিজীবনে তিনি নামে-বেনামে বিপুল সম্পদ গড়ে তুলেছেন, যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ১০০ কোটি টাকা। টাঙ্গাইলের বাড়ি, ফ্ল্যাট ও বাণিজ্যিক স্থাপনার পাশাপাশি রাজধানীর পূর্বাচল ও মিরপুরেও সম্পদ থাকার তথ্য সামনে এসেছে। এসব সম্পদের প্রকৃত পরিমাণ এবং অর্থের উৎস খতিয়ে দেখছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ঢাকার মিরপুরে সাবরেজিস্ট্রার হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় নুরুল আমিনের বিরুদ্ধে প্রতি মাসে ৭০ থেকে ৮০ লাখ টাকা অবৈধভাবে আয়ের অভিযোগ রয়েছে। ওই সময় তার একটি সিন্ডিকেট সক্রিয় ছিল বলেও অভিযোগ উঠেছে। চাকরিজীবনে দুর্নীতির অভিযোগ এবং শাস্তিমূলক বদলির তথ্যও পাওয়া গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে কর্মরত অবস্থায় তিনি চাকরি থেকে অবসর নেন।


 *টাঙ্গাইলে বাড়ি, ফ্ল্যাট ও বাণিজ্যিক সম্পদ* 


প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, টাঙ্গাইল শহরের বিশ্বাস বেতকা এলাকায় নুরুল আমিনের স্ত্রীর নামে পাঁচতলা, দুই ইউনিটের একটি বাড়ি রয়েছে। সংশ্লিষ্ট জমির আনুমানিক মূল্য দুই কোটি টাকা এবং ভবন নির্মাণে ব্যয় হয়েছে প্রায় তিন কোটি টাকা। বাড়িটি ভাড়া দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।


একই এলাকায় খাদ্যগুদামের সীমানাপ্রাচীরসংলগ্ন পাঁচ শতাংশ জমির মূল্য আনুমানিক এক কোটি টাকা বলে উল্লেখ করা হয়েছে। পুরোনো বাসস্ট্যান্ড এলাকার ‘প্যারাডাইস শাহজাহান সিরাজ নিবাস’ ভবনে তার একাধিক ফ্ল্যাট থাকার তথ্যও পাওয়া গেছে। এর মধ্যে একটি ফ্ল্যাট ‘স্বপ্ন’ সুপারশপকে ভাড়া দেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। একই ভবনে তার আরেকটি ফ্ল্যাটের আনুমানিক মূল্য প্রায় এক কোটি ৬০ লাখ টাকা।


এ ছাড়া টাঙ্গাইলের ভিক্টোরিয়া রোডের দত্ত টাওয়ারে প্রায় ৭০ লাখ টাকা মূল্যের একটি দোকান এবং বাসাইল উপজেলার বিয়ালা গ্রামে নিজ বাড়িতে আনুমানিক ৬০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি ভবন থাকার তথ্য পাওয়া গেছে।

 *পূর্বাচলে প্লট, মিরপুরেও সম্পদের তথ্য* 

রাজধানীর পূর্বাচলে প্রায় সাত কোটি টাকা মূল্যের একটি প্লট রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মিরপুর-১০ নম্বরের শাহ আলী মার্কেটেও দোকান ও অফিস থাকার তথ্য সামনে এসেছে।

নুরুল আমিনের বড় ভাই, বোন, ভাগনে, শাশুড়ি ও শ্যালকদের নামেও জমি ও সম্পদ কেনার অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব সম্পদের মালিকানা, ক্রয়ের সময়, অর্থের উৎস এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে তার আর্থিক সম্পর্কের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

 *সম্পদের উৎস নিয়ে প্রশ্নের স্পষ্ট জবাব মেলেনি* 

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা তথ্য অনুযায়ী, নুরুল আমিন ২০০৯ সালে সাবরেজিস্ট্রার পদে যোগ দেন এবং ২০২৪ সালে অবসরে যান। টাঙ্গাইলের বাড়ি ভাড়া দেওয়ার বিষয়টি তিনি স্বীকার করেছেন বলে জানা গেছে।

তবে সম্পদগুলো কখন কেনা হয়েছে, কীভাবে অর্থের সংস্থান করা হয়েছে এবং চাকরিজীবনের আয় দিয়ে এসব সম্পদ অর্জন সম্ভব কি না—এমন প্রশ্নের সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা তিনি দিতে পারেননি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। গাড়িতে লোকজন থাকার কথা জানিয়ে পরে বিস্তারিত বলবেন বললেও পরবর্তী সময়ে তার সঙ্গে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

 *সম্পদের হিসাব যাচাই করছে দুদক* 

দুদকের একটি সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নুরুল আমিনের সম্পদের বিষয়ে যাচাই-বাছাই চলছে। এ প্রক্রিয়া শেষে কমিশনে প্রতিবেদন উপস্থাপনের কথা রয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে জমির দলিল, ফ্ল্যাট ও ভবনের মালিকানা, নির্মাণব্যয়, ব্যাংক হিসাব, আয়কর রিটার্ন এবং চাকরিজীবনের আয়-ব্যয়ের নথি পর্যালোচনা করা জরুরি। একই সঙ্গে স্বজনদের নামে থাকা সম্পদের প্রকৃত মালিকানা ও অর্থের উৎসও যাচাই করতে হবে।

তবে এখন পর্যন্ত পাওয়া অভিযোগ বা সম্পদের আনুমানিক মূল্যকে চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। দুদকের অনুসন্ধান, নথিপত্র যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের মাধ্যমেই সম্পদের প্রকৃত পরিমাণ ও অর্থের উৎস সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব।

সর্বশেষ