• ২০২৬ অক্টোবর ২৯, বৃহস্পতিবার, ১৪৩৩ কার্তিক ১৪
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৪:১০ অপরাহ্ন
English
পরিচালনাপর্ষদ
আমাদের সাথে থাকুন আপনি ও ... www.timebanglanews.com

২২ জেলার যোগাযোগে নতুন গতি আনবে হাটিকুমরুল ইন্টারচেঞ্জ।*

  • প্রকাশিত ০৪:১০ অপরাহ্ন বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ২৯, ২০২৬
২২ জেলার যোগাযোগে নতুন গতি আনবে হাটিকুমরুল ইন্টারচেঞ্জ।*
Time Bangla news
ফজলে এলাহী সুমন | সাভার প্রতিনিধি | টাইম বাংলা নিউজ।

*২২ জেলার যোগাযোগে নতুন গতি আনবে হাটিকুমরুল ইন্টারচেঞ্জ।* 


 *উপশিরোনাম:* কাজ শেষ হতে দেরি, অগ্রগতি ৭৯.৫ শতাংশ; প্রকল্প চালু হলে কমবে যানজট, বাড়বে সড়ক নিরাপত্তা। 

সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুলে নির্মাণাধীন আধুনিক ইন্টারচেঞ্জ চালু হলে উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের ২২ জেলার মানুষের যাতায়াতে আসতে পারে বড় পরিবর্তন। ঢাকা-বগুড়া, ঢাকা-রাজশাহী ও ঢাকা-পাবনা মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থলটিতে যানজট কমানোর পাশাপাশি সড়ক নিরাপত্তা বাড়ানো এবং পণ্য পরিবহনে গতি আনার লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে প্রকল্পের কাজ। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্মাণ শেষ করা নিয়ে সংশয় থাকায় কবে নাগাদ পুরোপুরি চালু হবে, তা নিয়ে অপেক্ষা রয়েছে।

যমুনা সেতুর পশ্চিম প্রান্তে সাসেক-২ সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৭৪৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হচ্ছে এই ইন্টারচেঞ্জ। প্রকল্পের ৭৯ দশমিক ৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। বাকি ২০ দশমিক ৫ শতাংশ কাজ শেষ হলে ছয়টি পৃথক র‍্যাম্প ও একটি গ্রাউন্ড রোডের মাধ্যমে যানবাহন চলাচল আরও সুশৃঙ্খল করার পরিকল্পনা রয়েছে।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকালে প্রকল্প এলাকা ঘুরে দেখা যায়, মাটি ও বালু ভরাট, সীমানাপ্রাচীর, সেতু এবং সার্ভিস এলাকার বেশির ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। ইন্টারচেঞ্জ ও র‍্যাম্পের জন্য নির্মিত ১ হাজার ৩০২টি পাইলসহ পাইল ক্যাপ, পিয়ার স্টেম ও গার্ডার নির্মাণের কাজও অনেক দূর এগিয়েছে। ফলে দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে প্রকল্পের মূল অবকাঠামো।

 *সময়সীমা নিয়ে অনিশ্চয়তা* 

প্রকল্পটির কাজ শুরুর পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে নির্মাণ শেষ হওয়ার কথা ছিল। পরে সময় বাড়িয়ে ২০২৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়। প্রকল্প ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের আশা, বাকি কাজ দ্রুত শেষ করা গেলে নতুন বছরের শুরুতেই ইন্টারচেঞ্জটি আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা সম্ভব হবে।

তবে প্রকল্পে কর্মরত কয়েকজন শ্রমিক ও প্রকৌশলীর দাবি, পুরো কাজ শেষ হতে আগামী বছরের এপ্রিল বা মে মাস পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তাঁরা জানান, অবশিষ্ট কাজের পরিমাণ বিবেচনায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সবকিছু সম্পন্ন করা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।

প্রকল্প ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী সরফরাজ হোসাইন বলেন, ইতিমধ্যে ৭৯ দশমিক ৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। বাকি কাজ দ্রুত সম্পন্ন করতে দিন ও রাত—দুই পালায় কাজ চলছে। তাঁর আশা, নির্ধারিত লক্ষ্য অনুযায়ী প্রকল্পটি চালু করা সম্ভব হবে।

 *আলাদা পথে চলবে যানবাহন* 

সড়ক ও জনপথ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, হাটিকুমরুল গোলচত্বর দেশের উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানীর যোগাযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। অন্তত ১০টি স্থলবন্দরের সড়ক যোগাযোগেও এ এলাকার ভূমিকা রয়েছে।

নির্মাণাধীন ইন্টারচেঞ্জে ঢাকা, পাবনা, রাজশাহী ও রংপুরমুখী যানবাহনের জন্য পৃথক র‍্যাম্প থাকবে। পাশাপাশি নিচের গ্রাউন্ড রোড দিয়ে চলবে ধীরগতির যানবাহন। এতে বিভিন্ন দিক থেকে আসা গাড়ির একই স্থানে মুখোমুখি হওয়ার প্রবণতা কমবে এবং যান চলাচলে শৃঙ্খলা বাড়বে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ইতিমধ্যে ছয়টি লেন চালু হওয়ায় কিছুটা স্বস্তি মিলছে চালকদের। বগুড়াগামী পিকাপ চালক আলমগীর হোসেন বলেন, আগে হাটিকুমরুল গোলচত্বরে পৌঁছালে প্রায়ই যানজটে আটকে থাকতে হতো। এখন চালু হওয়া লেনগুলো ব্যবহার করে তুলনামূলক সহজে চলাচল করা যাচ্ছে। পুরো প্রকল্প চালু হলে ভোগান্তি আরও কমবে বলে আশা তাঁর।

 *থাকছে বুদ্ধিমান ট্রাফিক ব্যবস্থা* 

প্রকল্পটির অন্যতম আকর্ষণ ইন্টেলিজেন্ট ট্রাফিক সিস্টেম (আইটিএস)। আধুনিক প্রযুক্তি, সেন্সর ও স্বয়ংক্রিয় নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার মাধ্যমে যানবাহন চলাচল পরিচালনা এবং নিরাপত্তা জোরদার করার পরিকল্পনা রয়েছে এতে।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. হাদিউজ্জামান বলেন, আইটিএসের মাধ্যমে কোন গাড়ি কোন লেন ব্যবহার করবে, কোথায় চলাচল করবে কিংবা কোথায় থামবে—এসব নিয়ন্ত্রণে প্রযুক্তির সহায়তা নেওয়া সম্ভব। কোনো গাড়ি ভুল লেনে প্রবেশ করলে সতর্কসংকেত দেওয়ার ব্যবস্থাও থাকতে পারে। এ প্রযুক্তি কার্যকরভাবে ব্যবহার করা গেলে যানজটের চাপ কমানোর পাশাপাশি সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা উন্নত হবে।

প্রকল্পে প্রতিটি লেনের নিচে দীর্ঘস্থায়ী পট ও রাবার বিয়ারিং ব্যবহারের কথা জানিয়েছেন ব্যবস্থাপক সরফরাজ হোসাইন। এ ছাড়া মূল সড়কের পাশে মোটরসাইকেল ও সাইকেলের জন্য পৃথক লেন এবং চালক-যাত্রীদের বিশ্রামের সুবিধা রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।

সিরাজগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ইমরান ফারহান সুমেল জানান, ইন্টারচেঞ্জটি আলোকিত করতে সৌরবিদ্যুতের ব্যবস্থা থাকবে। এতে মাসে প্রায় ১৫ লাখ টাকা বিদ্যুৎ খরচ সাশ্রয় হতে পারে। তাঁর মতে, যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করা গেলে দীর্ঘ সময় ধরে অবকাঠামোটি ব্যবহার করা সম্ভব হবে।

 *বাণিজ্য ও পর্যটনে নতুন সম্ভাবনা* 

বর্তমানে এ পথে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৮ হাজার যানবাহন চলাচল করে। প্রকল্পটি পুরোপুরি চালু হলে দৈনিক যানবাহন চলাচলের সংখ্যা বেড়ে ৪০ হাজারে পৌঁছাতে পারে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা। উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা চালু হলে পণ্য পরিবহন সহজ হওয়ার পাশাপাশি আঞ্চলিক ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্পায়নেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী রমজান মল্লিক বলেন, যমুনা সেতু চালুর পরও উত্তরাঞ্চলের মানুষ যোগাযোগব্যবস্থার সব সম্ভাবনার সুফল পুরোপুরি কাজে লাগাতে পারেননি। হাটিকুমরুল ইন্টারচেঞ্জ চালু হলে এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নতুন গতি আসতে পারে।

প্রকল্পসংশ্লিষ্টদের মতে, দিনের প্রাকৃতিক পরিবেশ ও রাতের আলোকসজ্জা এলাকাটিকে পর্যটকদের কাছেও আকর্ষণীয় করে তুলতে পারে। ভবিষ্যতে এখানে হোটেল, মোটেল, রেস্তোরাঁ ও অন্যান্য পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসা সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

সব মিলিয়ে, হাটিকুমরুল ইন্টারচেঞ্জ উত্তরাঞ্চলের সড়ক যোগাযোগে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনার সম্ভাবনা তৈরি করেছে। তবে সেই সম্ভাবনা বাস্তবে রূপ দিতে বাকি নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করা, আধুনিক ট্রাফিক ব্যবস্থা কার্যকর করা এবং দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করাই হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

তথ্যসূত্র: প্রতিদিনের দৃশ্যপট।

সর্বশেষ