• ২০২৬ নভেম্বর ০৭, শনিবার, ১৪৩৩ কার্তিক ২৩
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:১১ অপরাহ্ন
English
পরিচালনাপর্ষদ
আমাদের সাথে থাকুন আপনি ও ... www.timebanglanews.com

জ্বালানি ব্যয়ের চাপে বৈদ্যুতিক গাড়িতে ঝুঁকছেন ক্রেতারা।

  • প্রকাশিত ১০:১১ অপরাহ্ন শনিবার, নভেম্বর ০৭, ২০২৬
জ্বালানি ব্যয়ের চাপে বৈদ্যুতিক গাড়িতে ঝুঁকছেন ক্রেতারা।
Time Bangla news
ফজলে এলাহী সুমন | সাভার প্রতিনিধি | টাইম বাংলা নিউজ।

*জ্বালানি ব্যয়ের চাপে বৈদ্যুতিক গাড়িতে ঝুঁকছেন ক্রেতারা।* 


 *উপশিরোনাম:* শুল্কছাড় ও নীতিগত সুবিধায় বাড়ছে ইভির সম্ভাবনা; ২০৩০ সালের মধ্যে ১ হাজার ২০০ চার্জিং স্টেশন স্থাপন এবং ৩০ শতাংশ যানবাহন বিদ্যুৎচালিত করার লক্ষ্য সরকারের।

জ্বালানির বাড়তি দাম, তুলনামূলক কম পরিচালন ব্যয় এবং পরিবেশদূষণ কমানোর সচেতনতা—সব মিলিয়ে দেশে বৈদ্যুতিক গাড়ির (ইভি) প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহ বাড়ছে। সরকারের শুল্কছাড়, নীতিগত সুবিধা ও চার্জিং অবকাঠামো সম্প্রসারণের উদ্যোগও এ বাজারের প্রসারে ভূমিকা রাখছে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্য অনুযায়ী, ২৫ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত মূল্যের আমদানিকৃত বৈদ্যুতিক গাড়ির মোট করভার ৯৩ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৬৪ শতাংশ করা হয়েছে। ২৫ হাজার থেকে ৫০ হাজার ডলার পর্যন্ত মূল্যের গাড়িতে করভার নির্ধারণ করা হয়েছে ৮০ শতাংশ। একই সঙ্গে ১ হাজার ৮০০ সিসি পর্যন্ত প্লাগ-ইন হাইব্রিড গাড়ির করভার কমিয়ে ৭৩ দশমিক ৪৪ শতাংশ করা হয়েছে।

অন্যদিকে, ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ সিসি ইঞ্জিনের প্রচলিত জ্বালানিচালিত গাড়ির করভার ১৩২ দশমিক ৩৬ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৫৫ দশমিক ৮৮ শতাংশ করা হয়েছে। বৈদ্যুতিক গাড়ির চার্জার ও চার্জিং স্টেশনের সরঞ্জাম আমদানিতেও শুল্ক ও কর শূন্য শতাংশ করা হয়েছে।

শিল্পসংশ্লিষ্টদের মতে, বৈদ্যুতিক গাড়ির জনপ্রিয়তার অন্যতম কারণ কম জ্বালানি ব্যয়। প্রচলিত অকটেনচালিত গাড়িতে প্রতি কিলোমিটার চলতে ১২ থেকে ১৫ টাকা খরচ হলেও বাসায় চার্জ দেওয়া বৈদ্যুতিক গাড়িতে ব্যয় হয় মাত্র ১ টাকা ৫০ পয়সা থেকে ২ টাকা ৫০ পয়সা।

রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়ও তুলনামূলক কম। এসব গাড়িতে প্রচলিত ইঞ্জিন, গিয়ারবক্স, রেডিয়েটর ও স্পার্ক প্লাগ না থাকায় ইঞ্জিন অয়েল, অয়েল ফিল্টার ও এয়ার ফিল্টার পরিবর্তনের মতো নিয়মিত খরচ নেই। তবে ব্যাটারি, ব্রেক প্যাড ও টায়ারের রক্ষণাবেক্ষণ প্রয়োজন হয়।

 *বাজারে বাড়ছে আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড* 

চাহিদা বাড়ায় বিওয়াইডি, চাঙ্গান ডিপাল, এমজি, অডি ও বিএমডব্লিউর মতো আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড বাংলাদেশের বাজারে বৈদ্যুতিক গাড়ি বিক্রি করছে।

শোরুমের তথ্য অনুযায়ী, বিওয়াইডি সিল ৫ ডায়নামিকের দাম ৩৫ লাখ, সিলায়ন ৫ এসেনশিয়াল ৪৭ লাখ ৯০ হাজার, সিল ৬ প্রিমিয়াম পিএইচইভি ৫২ লাখ এবং অ্যাটো ৩ সুপিরিয়র ৫৫ লাখ ৯০ হাজার টাকা। চাঙ্গান ডিপাল এস০৫-এর দাম ৪৯ লাখ ৫০ হাজার এবং এস০৭ এসইউভির দাম ৫৭ লাখ টাকা। এমজি জেডএস ইভির দাম ৪০ থেকে ৪৫ লাখ টাকা।

ক্রেতাদের আস্থা বাড়াতে আমদানিকারকেরা ব্যাটারি ও বৈদ্যুতিক মোটরের ক্ষেত্রে আট বছর অথবা দেড় লাখ কিলোমিটার পর্যন্ত ওয়ারেন্টি দিচ্ছেন। তবে মডেলভেদে শর্ত আলাদা।

বিআরটিএর নিবন্ধনব্যবস্থায় বৈদ্যুতিক গাড়ির নম্বরপ্লেট দেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, প্রচলিত গাড়ির তুলনায় এসব গাড়ির বার্ষিক ট্যাক্স টোকেন ও ফিটনেস ফি প্রায় ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ কম।

 *চার্জিং স্টেশন সম্প্রসারণে বড় পরিকল্পনা* 

বৈদ্যুতিক গাড়ির প্রসারে পর্যাপ্ত চার্জিং স্টেশন না থাকা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে মহাসড়কে দ্রুত চার্জিং সুবিধা সীমিত।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দ্রুত চার্জিং স্টেশনের জন্য পাইকারি বিদ্যুতের দাম প্রতি ইউনিট ১১ টাকা ৩৬ পয়সা। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো সেবামূল্যসহ গ্রাহকদের কাছ থেকে প্রতি ইউনিটে ১৬ থেকে ১৯ টাকা নিচ্ছে। গাড়ি ও চার্জারের সক্ষমতা অনুযায়ী ৩০ থেকে ৪০ মিনিটে ব্যাটারির ৮০ শতাংশ চার্জ দেওয়া সম্ভব।

একটি সাধারণ বৈদ্যুতিক গাড়ি সম্পূর্ণ চার্জ করতে প্রায় ৩০০ থেকে ৭৫০ টাকা খরচ হয়। ব্যাটারির ধারণক্ষমতা ও গাড়ির মডেল অনুযায়ী একবার চার্জে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দেওয়া সম্ভব।

এ সীমাবদ্ধতা কাটাতে ২০৩০ সালের মধ্যে দেশে ১ হাজার ২০০টি বাণিজ্যিক দ্রুত চার্জিং স্টেশন স্থাপনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার।

এ ছাড়া নতুন আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবনে ইভি-উপযোগী পার্কিং এবং চার্জিং সংযোগের ব্যবস্থা রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) ও চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) ভবন নির্মাণসংক্রান্ত বিধিমালায় এ ধরনের সুবিধা যুক্ত করার কথা বলা হয়েছে।

 *সরকারি গাড়ি কেনায়ও ইভির ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ* 

পরিবেশবান্ধব যানবাহনের ব্যবহার বাড়াতে সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের নতুন গাড়ি কেনার ক্ষেত্রে ২০ থেকে ৩০ শতাংশ বৈদ্যুতিক গাড়ি রাখার নীতিগত উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ব্যাটারির নিরাপত্তা ও পরিবেশ সুরক্ষায় লিথিয়াম-আয়ন এবং লিথিয়াম আয়রন ফসফেট (এলএফপি) প্রযুক্তির ব্যাটারি ব্যবহারে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এলএফপি ব্যাটারির কার্যকাল যথাযথ ব্যবস্থাপনায় ১০ থেকে ১২ বছর পর্যন্ত হতে পারে। মেয়াদোত্তীর্ণ ব্যাটারি পুনর্ব্যবহার ও নিরাপদ নিষ্পত্তির জন্য নির্ধারিত শিল্পাঞ্চলে কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে। এ পরিকল্পনায় গাজীপুরে বিআরটিসির ডিপো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

বৈদ্যুতিক গাড়ি চলাচলের সময় সরাসরি ধোঁয়া বা দূষণকারী গ্যাস নির্গত করে না। পাশাপাশি এসব গাড়ির শব্দদূষণও তুলনামূলক কম। ফলে ব্যবহার বাড়লে বড় শহরগুলোতে বায়ু ও শব্দদূষণ কমাতে সহায়তা করতে পারে।

সরকারের কৌশলগত পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট যানবাহনের অন্তত ৩০ শতাংশ বিদ্যুৎচালিত করার লক্ষ্য রয়েছে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়িত হলে জীবাশ্ম জ্বালানির আমদানি নির্ভরতা কমানো এবং বৈদেশিকর মুদ্রা সাশ্রয়ের সুযোগ তৈরি হবে।

তবে বৈদ্যুতিক গাড়ির বাজার টেকসই করতে গাড়ির দাম সাধারণ ক্রেতাদের নাগালে আনা, পর্যাপ্ত চার্জিং স্টেশন স্থাপন, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং পুরোনো ব্যাটারির নিরাপদ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা জরুরি।

সর্বশেষ