• ২০২৬ মার্চ ১৮, বুধবার, ১৪৩২ চৈত্র ৩
  • সর্বশেষ আপডেট : ০১:০৩ পূর্বাহ্ন
English
পরিচালনাপর্ষদ
আমাদের সাথে থাকুন আপনি ও ... www.timebanglanews.com

তেঁতুলিয়ায় খেজুর নিতে আসা শিক্ষকদের সাথে দুর্ব্যহারের অভিযোগ পিআইওর বিরুদ্ধে

  • প্রকাশিত ০২:০৩ পূর্বাহ্ন বুধবার, মার্চ ১৮, ২০২৬
তেঁতুলিয়ায় খেজুর নিতে আসা শিক্ষকদের সাথে দুর্ব্যহারের অভিযোগ পিআইওর বিরুদ্ধে
File
মুহম্মদ তরিকুল ইসলাম, পঞ্চগড় প্রতিনিধি

পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলায় খেজুর বিতরণের সময় মাদ্রাসা শিক্ষকদের সাথে দূর্বব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মাইদুল ইসলাম শাহ এর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তীব্র নিন্দা জানিয়ে খেজুর না নিয়েই ফিরে যেতে দেখা যায় মাদ্রাসা শিক্ষকদের।  সোমবার (১৬ মার্চ) বিকেলে তেঁতুলিয়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা কার্যালয়ের সামনে এ ঘটনাটি ঘটে।

মাদ্রাসা শিক্ষকরা অভিযোগ করে বলেন, সোমবার দুপুরে খেজুর বিতরণ করা হবে এমব খবর দেয়ার পর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে মাদ্রাসা শিক্ষকরা উপজেলা পরিষদ প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ে আসেন। এ সময় বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা মাদ্রাসা শিক্ষকদের দুপুর ১২টা থেকে উপজেলা চত্ত্বরে অপেক্ষ্যমান রাখা হয়। পরে বিকেল ৩টার দিকে পিআইও মাইদুল ইসলাম শাহ তার কার্যালয়ে খেজুর বিতরন শুরু করেন। বিতরনের সময় খেজুরে মান ও প্রয়োজনের তুলনায় মাত্র ১ কেজি খেজুর বিতরণের বিষয়ে পিআইওর কাছে জানতে চাইলে তিনি রাগান্বিত হয়ে শিক্ষকদের সাথে দূর্ব্যবহার করেন। এছাড়া তিনি  শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘খেজুর নিলে নেন, না নিলে আপানরা আনন্দোলন ও  মিছিল করেন।’ এমন অভিযোগ শিক্ষকদের।  

শিক্ষকরা পিআইও মাইদুল ইসলাম শাহ কর্তৃক দুর্ব্যবহারের ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে খেজুর না নিয়েই ফিরে যান। এদিকে শিক্ষকদের সাথে এই কর্মকর্তার কর্মকান্ডের বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে।  

এ বিষয়ে উপজেলার দেবনগড় ইউনিয়নের মদিনাতুল উলুম নুরানী ও হাফেজিয়া মাদ্রাসার মুহতামিম হাফেজ মাওলানা মফিজার রহমান বলেন, আমাদেরকে চেয়ারম্যান সাহেব খবর দিয়ে বলেন আপনারা তেঁতুলিয়ায় যান আপনাদেরকে চার/পাঁচ কেজি করে খেজুন দিবেন। আমরা দুপুর ১২টা, ১টা ও ২টা পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকা থেকে শিক্ষকরা উপজেলায় এসেছি। আামাদের দুপুর থেকে অপেক্ষা করিয়ে বিকেল সাড়ে ৩টায় এক প্যাকেট (১ কেজি) খেজুর হাতে ধরিয়ে দেয়। আমরা জিজ্ঞেস করায় উল্টো পিআইও মাইদুল ইসলাম শাহ আমাদের সাথে খারাপ আচরণ করেন। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানায়। উপজেলার রনচন্ডি নুরানী তালিমুল কোরআন ও হাফেজিয়া এতিমখানা মাদ্রাসার নাজেরা শাখার সহকারী শিক্ষক ও ভজনপুর দারুস সালাম হাফেজিয়া মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক হাফেজ মাওলানা মো. আমিনার রহমান বলেন, তারা দুপুরের দিকে উপজেলা পরিষদে এলেও বিকাল প্রায় সাড়ে ৩টার দিকে খেজুর দেওয়া শুরু হয়। খেজুরে মান ও প্রয়োজনের তুলনায় প্রতি মাদ্রাসায় মাত্র ১ কেজি খেজুর বিতরণের বিষয়ে পিআইওকে জিজ্ঞাসা করলে রাগান্বিত হয়ে দুর্ব্যবহার করেন এবং খেজুর নিলে নেন, না নিলে আপানরা আনন্দোলন ও  মিছিল করেন বলে অপমানিত করেন।  

এদিকে একই অভিযোগ করেন হাফেজ আবু সাঈদ আনসারী নামে আরেক মাদ্রাসা শিক্ষক। তিনি বলেন, একজন সরকারি কর্মকর্তা কতৃক আলেমদের সাথে এমন আচরণের তীব্র নিন্দা জানায়। তিনি আমাদের ডেকে নিয়ে এসে এমন আচরণ করতে পারেন না।  আমাদের ২ থেকে ৩ ঘন্টা বসিয়ে রেখে এক প্যাকেট খেজুর ধরিয়ে দেয়। আমাদের ছাত্র আছে ৭০-১০০ তারও অধিক, আর আমাদের দিচ্ছে এক প্যাকেট। যা প্রয়োজনের অনেক কম, এটা হাস্যকর। খেজুরের মান নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে।

ঘটনার সময় উপস্থিত মজিবুর রহমান নামে এক ব্যক্তি বলেন, দুপুর থেকে ডেকে নিয়ে এসে বসিয়ে রেখে শিক্ষকদের সাথে এমন অপমান করা ঠিক করেনি।  দেখে অনেক খারাপ লাগলো। যারা বিতরণের লোক আছে তারা সুন্দর পরিবেশে বিতরণ করে দিলেই হয়ে যায়। রাষ্ট্রের জিনিস নিয়ম ও পরিবেশ বজায় রেখে বিতরণ করলেই ভাল হয়।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. মাইদুল ইসলাম শাহ বলেন, ‘আমার এখানে তালিকা আসছে ৭৩টি। আমার কাটুন হলো ১৫টি। প্রতি কাটুনে ৮টা ১ কেজি করে মোটে ১২০ কেজি আমি যদি দুই কেজি করেও দিতে চাই তাহলে ৭৩ টির জন্য ১৪৬ টা লাগে তাহলে আমি কি করবো, যেখানে ২ টা লাগে সেখানে ২টা দিবো, যেখানে আরও বেশি সেখানে ৩টা দেবো। যেখানে কম সেখানে ১টা দিবো, এটাই হলো সিস্টেম।’ মিছিল ও আন্দোলন করতে বলার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি অস্বীকার করে বলেন, ‘মিছিল করতে বলিনি, ওনারা যখন নিবে না, তখন আমি বলছি, আমার জিনিস এটাই, নিলে নেন না নিলে করার কিছুই নাই।’ তবে আরও বিশদভাবে জানতে পিআইওকে মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলে তিনি কলটি রিসিভ করেননি।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফরোজ শাহীন খসরু বলেন, তিনি ওই দিন ব্যস্ত থাকায় পিআইওকে অপেক্ষা করতে বলেন কিন্তু পিআইও অপেক্ষা না করেই খেজুর বিতরণ শুরু করে দেন। পরে জানতে পারেন, পিআইও মাদ্রাসার আলেমদের সঙ্গে এমন আচরণ করেছেন। এর আগে পিআইওর বিরুদ্ধে একাধিক সংবাদ প্রকাশ হলে অধিদপ্তর থেকে তদন্ত করা হয়েছে, তবে কোন ব্যবস্থা নেয়নি অধিদপ্তর। তিনি আরও বলেন, তেঁতুলিয়ায় কেউ সহজে আসতে চাইনা। তবে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন জানানো হয়েছে।

সর্বশেষ