কক্সবাজার প্রজনন মৌসুমে ইলিশ ধরা সরকারি নিষেধাজ্ঞা
কক্সবাজার অঞ্চল: ইলিশসহ সামুদ্রিক মাছের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে গত ১৫ এপ্রিল থেকে শুরু হয়েছে মাছ ধরার ওপর সরকারি নিষেধাজ্ঞা। পরবর্তী নির্দিষ্ট মেয়াদ পর্যন্ত (সাধারণত ৬৫ দিন, স্থানীয় নির্দেশনা অনুযায়ী) বঙ্গোপসাগর ও সংলগ্ন নদীগুলোতে সব ধরনের মাছ ধরা বন্ধ থাকবে। মৎস্য অধিদপ্তরের জানামতে, এই সময়ে মাছের ডিম ছাড়া এবং পোনা বড় হওয়ার জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা হয়। মাছের প্রজনন রক্ষা এবং দেশের মৎস্য সম্পদ বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রতি বছর এই সময়টিতে সাগরে ইঞ্জিনচালিত নৌকা ও ট্রলার চলাচলের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়।
কক্সবাজারের এক জেলে মোঃ করিম বলেন, “আমাদের একমাত্র আয়ের উৎস মাছ ধরা। নিষেধাজ্ঞার সময় সরকার যে সহায়তা দেয়, তা দিয়ে পুরো পরিবার চালানো সম্ভব হয় না।”
আরেক জেলে মোঃ রফিক জানান, “ধারে-ঋণে চলতে হয় এই সময়। অনেক সময় সুদের টাকা বাড়তে বাড়তে আমাদের বিপদ আরও বাড়ে।”
স্থানীয় মৎস্য ব্যবসায়ীরাও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, মাছ সরবরাহ বন্ধ থাকায় বাজারে প্রভাব পড়বে এবং অনেক ব্যবসায়ী ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দীর্ঘমেয়াদে মৎস্যসম্পদ রক্ষার জন্য এই নিষেধাজ্ঞা প্রয়োজনীয় হলেও, জেলেদের টেকসই বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা না গেলে প্রতি বছরই একই সংকট তৈরি হবে।
উপকূলে সারিবদ্ধভাবে নোঙর করে রাখা হয়েছে শত শত মাছ ধরার ট্রলার। প্রজনন মৌসুম শুরু হওয়ায় জেলেরা তাদের জাল ও সরঞ্জাম গুটিয়ে তীরে ফিরে এসেছেন। কর্মব্যস্ত ঘাটগুলোতে এখন সুনসান নীরবতা।
নিষেধাজ্ঞার ফলে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন হাজারো জেলে পরিবার। সাগরে যেতে না পারায় আয়ের পথ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে তাদের। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে জেলেদের জন্য বিশেষ ভিজিএফ (VGF) চাল বরাদ্দ করা হয়, তবে অনেক জেলের দাবি—তা চাহিদার তুলনায় অপর্যাপ্ত এবং সময়মতো পৌঁছায় না।
"পেটে ভাত নেই, কিস্তির টাকা শোধ করার উপায় নেই। মাছ ধরা বন্ধ থাকলে আমাদের না খেয়ে থাকা ছাড়া গতি নেই। আমরা চাই সরকার যেন আমাদের সহায়তার পরিমাণ আরও বাড়ায়।" — ঘাটে অবস্থানরত এক হতাশ জেলে।
স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কেউ সাগরে মাছ ধরতে নামলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একইসাথে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত জেলেদের তালিকা হালনাগাদ করে দ্রুত সরকারি সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
মতামত দিন