ঢাকার ওপর অতিরিক্ত চাপ কমিয়ে ভূমিকম্প ঝুঁকি হ্রাসের প্রয়োজনীয়তা।
বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা বর্তমানে দেশের প্রশাসনিক, অর্থনৈতিক ও শিল্প কার্যক্রমের প্রধান কেন্দ্র হিসেবে অত্যধিক জনসংখ্যা ও অবকাঠামোগত চাপ বহন করছে। দীর্ঘদিন ধরে অপরিকল্পিত নগরায়ণ, অতিরিক্ত বহুতল ভবন নির্মাণ এবং গ্রামাঞ্চল থেকে মানুষের ব্যাপক হারে ঢাকামুখী হওয়ার কারণে শহরটির ধারণক্ষমতা অনেকাংশে অতিক্রম করেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ঢাকা ভূমিকম্প ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলের মধ্যে অবস্থিত। এমন পরিস্থিতিতে যদি মাঝারি বা বড় ধরনের কোনো ভূমিকম্প আঘাত হানে, তাহলে ব্যাপক প্রাণহানি ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। অতিরিক্ত জনঘনত্ব এবং ঘনবসতিপূর্ণ নির্মাণ ব্যবস্থা সম্ভাব্য দুর্যোগের ক্ষতির মাত্রা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
এ কারণে এখনই দীর্ঘমেয়াদি ও কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণ করা জরুরি। সরকারের উচিত রাজধানীর ওপর চাপ কমানোর লক্ষ্যে ধাপে ধাপে বিভিন্ন সরকারি দপ্তর, শিল্পকারখানা এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক কার্যক্রম ঢাকার পার্শ্ববর্তী জেলা ও অন্যান্য অঞ্চলে স্থানান্তরের উদ্যোগ নেওয়া। এর ফলে একদিকে যেমন ঢাকার জনসংখ্যার চাপ কমবে, অন্যদিকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রসার ঘটবে।
পাশাপাশি প্রতিটি জেলায় পর্যাপ্ত কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা প্রয়োজন। স্থানীয় পর্যায়ে শিল্প ও সেবাখাতের উন্নয়ন হলে মানুষ জীবিকার জন্য রাজধানীমুখী হতে বাধ্য হবে না। এতে তারা নিজ এলাকায় থেকে কাজ করার সুযোগ পাবে, পারিবারিক ও সামাজিক বন্ধন অটুট থাকবে এবং জীবনযাত্রার অতিরিক্ত ব্যয়ও কমে আসবে।
সুষম আঞ্চলিক উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমে রাজধানী ঢাকার ওপর চাপ কমানো সম্ভব। একই সঙ্গে এটি সম্ভাব্য ভূমিকম্পসহ অন্যান্য দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। তাই দেশের টেকসই উন্নয়ন ও জনগণের নিরাপত্তার স্বার্থে এ বিষয়ে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা সময়ের দাবি।
মতামত দিন