• ২০২৬ অগাস্ট ০৩, সোমবার, ১৪৩৩ শ্রাবণ ১৮
  • সর্বশেষ আপডেট : ০২:০৮ পূর্বাহ্ন
English
পরিচালনাপর্ষদ
আমাদের সাথে থাকুন আপনি ও ... www.timebanglanews.com

চরফ্যাশনে "শেষ ঠিকানা দাফন সেবা" নামে আধুনিক কবরস্থান ও মানবকল্যাণ কমপ্লেক্স নির্মাণের উদ্যোগ, জমি ক্রয় ও ভরাট সম্পন্ন

  • প্রকাশিত ০৩:০৮ পূর্বাহ্ন সোমবার, অগাস্ট ০৩, ২০২৬
চরফ্যাশনে "শেষ ঠিকানা দাফন সেবা" নামে আধুনিক কবরস্থান ও মানবকল্যাণ কমপ্লেক্স নির্মাণের উদ্যোগ, জমি ক্রয় ও ভরাট সম্পন্ন
উদ্যোক্তা ও প্রধান পৃষ্ঠপোষক জনাব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম নয়ন
সাইদুজ্জামান সেলিমঃ ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ ব্যুরো চিফ

বিশেষ প্রতিবেদনঃ  ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ঘোষের হাট মহাসড়কের পাশে আমিনাবাদ এলাকায় "শেষ ঠিকানা দাফন সেবা (আধুনিক কবরস্থান ও মানবকল্যাণ কমপ্লেক্স)" নামে একটি সমন্বিত মানবকল্যাণমূলক প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটির উদ্যোক্তা ও প্রধান পৃষ্ঠপোষক জনাব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম নয়ন। সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পের জন্য নির্ধারিত জমি ইতোমধ্যে ক্রয় করা হয়েছে এবং ভরাটের কাজও সম্পন্ন হয়েছে।

উদ্যোক্তারা জানান, দ্রুত বর্ধনশীল জনসংখ্যার তুলনায় পরিকল্পিত ও সুশৃঙ্খল কবরস্থানের সংকট বিবেচনায় রেখে প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়েছে। এর লক্ষ্য হলো আধুনিক ব্যবস্থাপনায় মর্যাদাপূর্ণ দাফন সেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ধর্মীয়, সামাজিক ও মানবিক সেবাকে একই প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসা।

প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, কমপ্লেক্সটিতে থাকবে পরিকল্পিত ব্লকভিত্তিক কবরস্থান, প্রতিটি কবরের ইউনিক নম্বর ও ডিজিটাল তথ্য সংরক্ষণ, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে জিপিএস লোকেশন, প্রশস্ত অভ্যন্তরীণ সড়ক, পরিবারভিত্তিক কবর জোন, জানাজার মাঠ, জানাজা মসজিদ, নারী ও পুরুষের জন্য পৃথক অজুখানা, গোসলখানা ও কাফন প্রস্তুতি কেন্দ্র, প্রশাসনিক ভবন, দর্শনার্থীদের বিশ্রামাগার, বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা, সৌরবিদ্যুৎ, সিসিটিভি নিরাপত্তা, ডিজিটাল তথ্যকেন্দ্র এবং সবুজায়নের ব্যবস্থা।

এছাড়া ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণ পরিকল্পনায় হাফেজখানা, কোরআন শিক্ষা কেন্দ্র, নূরানী ও কওমি মাদ্রাসা, এতিমখানা, বৃদ্ধাশ্রম, ফ্রি মেডিকেল সেবা, অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস, রক্তদাতা নেটওয়ার্ক এবং বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

উদ্যোক্তা ও প্রধান পৃষ্ঠপোষক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম নয়ন বলেন, "মানুষের শেষ বিদায় যেন সম্মান, শৃঙ্খলা ও ইসলামী মূল্যবোধের সঙ্গে সম্পন্ন হয়, সেই লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ। পাশাপাশি সমাজের অসহায়, এতিম, দুস্থ ও প্রবীণ মানুষের কল্যাণে একটি স্থায়ী সেবামূলক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার স্বপ্ন নিয়ে আমরা কাজ করছি।"

তিনি আরও বলেন, "এই প্রকল্প কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের একার উদ্যোগে বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, ব্যবসায়ী, প্রবাসী বাংলাদেশি, দাতা সংস্থা, সামাজিক সংগঠন এবং সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা, অংশগ্রহণ ও দোয়া আমাদের একান্ত প্রয়োজন।"

প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা জানান, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও আধুনিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে প্রকল্পটি পরিচালনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তাদের প্রত্যাশা, বাস্তবায়ন হলে এটি শুধু চরফ্যাশন বা ভোলা নয়, বরং দেশের অন্যান্য অঞ্চলের জন্যও পরিকল্পিত ইসলামী কবরস্থান ও মানবকল্যাণ কার্যক্রমের একটি অনুসরণযোগ্য মডেল হয়ে উঠতে পারে।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, পরিকল্পিতভাবে বাস্তবায়িত হলে এমন উদ্যোগ মর্যাদাপূর্ণ দাফন ব্যবস্থা নিশ্চিত করার পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণ, সামাজিক সেবা এবং জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম সম্প্রসারণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।

সর্বশেষ