• ২০২৬ অগাস্ট ০৪, মঙ্গলবার, ১৪৩৩ শ্রাবণ ২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ০১:০৮ অপরাহ্ন
English
পরিচালনাপর্ষদ
আমাদের সাথে থাকুন আপনি ও ... www.timebanglanews.com

গ্রামীণ নারীদের উচ্চশিক্ষার আস্থার ঠিকানা ঘোড়াঘাটের রানীগঞ্জ কলেজ

  • প্রকাশিত ০২:০৮ অপরাহ্ন মঙ্গলবার, অগাস্ট ০৪, ২০২৬
গ্রামীণ নারীদের উচ্চশিক্ষার আস্থার ঠিকানা ঘোড়াঘাটের রানীগঞ্জ কলেজ
টাইম বাংলা নিউজ
রুহুল আমিন, দিনাজপুর জেলা প্রতিনিধি

একসময় গ্রামীণ জনপদের অসংখ্য মেয়ের কাছে উচ্চশিক্ষা ছিল অধরা স্বপ্ন। দূরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা এবং সামাজিক নানা প্রতিবন্ধকতার কারণে অনেক মেধাবী শিক্ষার্থীর পড়াশোনা মাধ্যমিক বা উচ্চমাধ্যমিকের পরই থেমে যেত। সেই বাস্তবতায় আশার প্রদীপ হয়ে ১৯৯৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার রানীগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজ। প্রায় তিন দশক ধরে প্রতিষ্ঠানটি শুধু শিক্ষা প্রদানই নয়, গ্রামীণ নারীর শিক্ষা, আত্মবিশ্বাস ও ক্ষমতায়নের এক নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিজস্ব অবস্থান তৈরি করেছে।

ঘোড়াঘাটের রানীগঞ্জ বাজার–দুজ্বমুজ হাট সড়কের পাশে অবস্থিত কলেজটি এলাকার কয়েকজন শিক্ষানুরাগীর উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয়। সময়ের পরিক্রমায় এটি উত্তরাঞ্চলের অন্যতম সুপরিচিত নারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে উচ্চমাধ্যমিক ও স্নাতক পর্যায়ে মানবিক, বিজ্ঞান এবং ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে পাঠদান চলছে। কলেজটিতে বর্তমানে প্রায় ৬২০ জন শিক্ষার্থী নিয়মিত অধ্যয়ন করছে। গত তিন বছরে উচ্চমাধ্যমিক ও স্নাতক পরীক্ষায় শিক্ষার্থীরা উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করে প্রতিষ্ঠানটির সুনাম আরও বৃদ্ধি করেছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সভাপতির দিকনির্দেশনা এবং ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. মাহবুবুর রহমানের নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা কার্যক্রমে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। নিয়মিত পাঠদান, শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি ক্যাম্পাসে নির্মিত হয়েছে দৃষ্টিনন্দন পুকুরঘাট। এছাড়া শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের আওতায় প্রায় দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে একটি নতুন একাডেমিক ভবন নির্মাণের অনুমোদনও মিলেছে। বর্তমানে কলেজটিতে ২৩ জন সহকারী অধ্যাপক ও ১০ জন প্রভাষক কর্মরত রয়েছেন।

এই প্রতিষ্ঠানের বহু প্রাক্তন শিক্ষার্থী বর্তমানে সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ব্যাংকসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ পেশায় দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। তাদের সাফল্য বর্তমান শিক্ষার্থীদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে উঠেছে।

শুধু পাঠ্যসূচিভিত্তিক শিক্ষায় সীমাবদ্ধ না থেকে শিক্ষার্থীদের নৈতিক মূল্যবোধ, নেতৃত্বের গুণাবলি, সৃজনশীলতা ও আত্মনির্ভরশীলতা গড়ে তুলতে কলেজে নিয়মিত সাংস্কৃতিক, সামাজিক ও সহশিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হয়। ফলে শিক্ষার্থীরা শুধু ভালো ফলাফলই অর্জন করছে না, বরং সচেতন ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবেও নিজেদের গড়ে তোলার সুযোগ পাচ্ছে।

স্থানীয় শিক্ষাবিদ, সচেতন মহল ও অভিভাবকদের মতে, রানীগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজ প্রতিষ্ঠার ফলে গ্রামীণ পরিবারের মেয়েদের উচ্চশিক্ষার পথ অনেকটাই সহজ হয়েছে। নিরাপদ পরিবেশ, নিয়মিত পাঠদান, মানসম্মত শিক্ষা এবং ধারাবাহিক ভালো ফলাফলের কারণে প্রতিষ্ঠানটি এলাকাবাসীর আস্থা ও সুনাম অর্জন করেছে।

তাদের দাবি, সরকার কলেজটি জাতীয়করণের উদ্যোগ নিলে উত্তরাঞ্চলের হাজারো শিক্ষার্থীর উচ্চশিক্ষার সুযোগ আরও সম্প্রসারিত হবে। গ্রামীণ নারীদের শিক্ষার আলোয় আলোকিত করার যে স্বপ্ন নিয়ে তিন দশক আগে এই কলেজের যাত্রা শুরু হয়েছিল, সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথেই আজও এগিয়ে চলছে রানীগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজ।

সর্বশেষ