রামুর থোয়াইংগাকাটার জামাল উদ্দিন: মাদক মামলার আসামি একাধিক ফেইক আইডি স্থানীয়দের অভিযোগ!
কক্সবাজারের রামু উপজেলার খুনিয়াপালং ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের থোয়াইংগাকাটা এলাকার বাসিন্দা মৃত মোস্তাফিজুর রহমানের ছেলে জামাল উদ্দিনকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে নানা অভিযোগ রয়েছে। মাদক মামলায় আসামি হওয়া, অতীতের বিভিন্ন অভিযোগ এবং একাধিক ফেইক আইডি ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার ও মানুষের চরিত্রহননের অভিযোগ—সব মিলিয়ে স্থানীয়ভাবে তাঁকে নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন।
সম্প্রতি প্রতিবেদকের হাতে থাকা মাদক মামলা নং-৮৩৮, তারিখ ২১ ডিসেম্বর ২০২৫-এর নথিপত্র পর্যালোচনা করে জামাল উদ্দিনের মাদক মামলার নথিভুক্ত পলাতক আসামি।
দারিদ্র্যের মধ্যে বেড়ে ওঠা
তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, জামাল উদ্দিনের বাবা মৃত মোস্তাফিজুর রহমানের আদি বাড়ি উখিয়া উপজেলার হলোদিয়াপালং ইউনিয়নে। পরে তিনি পরিবার নিয়ে রামুর খুনিয়াপালং ইউনিয়নের থোয়াইংগাকাটা এলাকায় বসতি স্থাপন করেন।
বড় পরিবার ও আর্থিক সংকটের কারণে জামাল উদ্দিনের শিক্ষাজীবন শৈশবেই থেমে যায় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়। জীবিকার তাগিদে সে প্রথমে তাঁর চাচা মোহাম্মদ শফি সওদাগরের বাড়িতে গরুর রাখাল হিসেবে কাজ করেন। কয়েক বছর পর থোয়াইংগাকাটা বাজারের আবদুল হক মনুর একটি কীটনাশকের দোকানে চাকরি নেন।
চাকরি থেকে বিতর্কের শুরু
স্থানীয় একাধিক ব্যক্তির ভাষ্য অনুযায়ী, কীটনাশকের দোকানে চাকরির সময় ক্যাশের টাকা চুরির অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। এ অভিযোগের পর তাঁকে চাকরি থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
এরপর থেকেই এলাকায় তাঁর বিরুদ্ধে চুরি, ছিনতাই এবং চোরাই মোটরসাইকেল কেনাবেচাসহ বিভিন্ন অভিযোগ ছড়িয়ে পড়ে।
মাদক মামলার নথিতে জামাল উদ্দিন
প্রতিবেদকের হাতে থাকা মাদক মামলা নং-৮৩৮ (২১ ডিসেম্বর ২০২৫)-এর নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২১ ডিসেম্বর মরিচ্যা যৌথ চেকপোস্টে ইয়াবা পাচারের অভিযোগে পরিচালিত অভিযানের ঘটনায় জামাল উদ্দিনকে আসামি করা হয়।
একই ঘটনায় খুনিয়াপালং ইউনিয়নের পূর্ব ধেচুয়াপালং এলাকার হাবিবুল্লাহর ছেলে মো. ছৈয়দ নূরকে বিজিবি আটক করে বলে মামলার নথিতে উল্লেখ রয়েছে।
মামলার কাগজপত্রে আরও উল্লেখ রয়েছে, আটক ছৈয়দ নূর তদন্তকারী সংস্থা এবং আদালতের ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে জবানবন্দি দিয়েছেন। নথিতে তাঁর কক্সবাজার জেলা কারাগারে থাকার কথাও উল্লেখ রয়েছে।
১০–১২টি ফেইক আইডিতে অপপ্রচারের অভিযোগ
জামাল উদ্দিনকে ঘিরে নতুন করে সবচেয়ে গুরুতর যে অভিযোগটি সামনে এসেছে, তা হলো নামে-বেনামে প্রায় ১০–১২টি ফেইক আইডি ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ব্যক্তির বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও চরিত্রহনন করা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব আইডি থেকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিভিন্ন ব্যক্তিকে হেয় করা, মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো এবং সামাজিকভাবে তাঁদের বিব্রত করার চেষ্টা করা হয়েছে।
তবে ফেইক আইডিগুলোর সঙ্গে জামাল উদ্দিনের সরাসরি ছবিও সম্পৃক্ততার বিষয়টি নিশ্চিত করা হচ্ছে।
অবশেষে পুলিশের হাতে আটক
দীর্ঘদিন ধরে নানা অভিযোগের মধ্যে থাকার পর শুক্রবার (১৪ আগস্ট ২০২৬) রামু থানা পুলিশ জামাল উদ্দিনকে আটক করতে সক্ষম হয়েছে বলে জানা গেছে।
একদিকে মাদক মামলায় আসামি হিসেবে তাঁর নাম থাকা, অন্যদিকে দীর্ঘদিন প্রকাশ্যে চলাফেরা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফেইক আইডি ব্যবহার করে অপপ্রচারের অভিযোগ—সবকিছু মিলিয়ে তাঁর আটককে ঘিরে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।
এখন মূল প্রশ্ন হলো—মাদক মামলায় প্রকৃত ইয়াবার মালিক বলে আদালতে স্বীকারোক্তি দিয়েছে কারাবন্দী ছৈয়দ নুর।
তবে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা অভিযোগগুলো যদি তদন্তে সত্য প্রমাণিত হয়, তাহলে বিষয়টি শুধু একজন ব্যক্তির অপরাধের প্রশ্ন নয়—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফেইক আইডি ব্যবহার করে মানুষের চরিত্রহনন, মাদক সংশ্লিষ্টতা এবং অপরাধীচক্রের কার্যক্রমের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আরও কঠোর নজরদারির প্রয়োজনীয়তাও সামনে আসে।
মতামত দিন