• ২০২৬ অগাস্ট ৩১, সোমবার, ১৪৩৩ ভাদ্র ১৬
  • সর্বশেষ আপডেট : ১১:০৮ পূর্বাহ্ন
English
পরিচালনাপর্ষদ
আমাদের সাথে থাকুন আপনি ও ... www.timebanglanews.com

ডিজেল ছেড়ে বিদ্যুতের পথে বিআরটিসি: ২০০ ইলেকট্রিক বাসে বদলে যাবে গণপরিবহনের চিত্র ।

  • প্রকাশিত ১১:০৮ পূর্বাহ্ন সোমবার, অগাস্ট ৩১, ২০২৬
ডিজেল ছেড়ে বিদ্যুতের পথে বিআরটিসি: ২০০ ইলেকট্রিক বাসে বদলে যাবে গণপরিবহনের চিত্র ।
Time Bangla news
ফজলে এলাহি সুমন সাভার প্রতিনিধি

ডিজেল ছেড়ে বিদ্যুতের পথে বিআরটিসি: ২০০ ইলেকট্রিক বাসে বদলে যাবে গণপরিবহনের চিত্র ।


জ্বালানিনির্ভর গণপরিবহন থেকে ধীরে ধীরে পরিবেশবান্ধব ও poor প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থায় যাওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন (বিআরটিসি)। এর অংশ হিসেবে সংস্থাটির বহরে ২০০টি ইলেকট্রিক বাস যুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বাসের পাশাপাশি চার্জিং স্টেশন ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামোও গড়ে তোলা হবে।

এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে প্রায় ৮০০ কোটি টাকার ঋণ সহায়তার পরিকল্পনা রয়েছে। এরই মধ্যে ইলেকট্রিক বাস ও সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে সংগ্রহের নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।

বিআরটিসি সূত্রে জানা গেছে, প্রথম ধাপে ১০০টি ইলেকট্রিক বাস কেনার প্রস্তুতি চলছে। পরবর্তী ধাপে আরও ১০০টি বাস বহরে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রথম পর্যায়ের ১০০ বাস, চার্জিং স্টেশন এবং আনুষঙ্গিক অবকাঠামোর জন্য প্রায় ৪০০ কোটি টাকা ব্যয়ের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

সরকারের এ উদ্যোগের পেছনে বিআরটিসির পুরোনো বাসের বহর, রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় বৃদ্ধি, জ্বালানি ব্যয়ের চাপ এবং পরিবেশদূষণ কমানোর প্রয়োজনীয়তাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। নতুন প্রযুক্তির বাসের মাধ্যমে গণপরিবহন ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক করার লক্ষ্যও রয়েছে।

রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বাস সংগ্রহ

দ্রুত ইলেকট্রিক বাস বহরে যুক্ত করতে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড এবং বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরি (বিএমটিএফ)-এর মাধ্যমে ৫০টি করে মোট ১০০টি বাস সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে।

বিআরটিসির কর্মকর্তারা বলছেন, এ পদ্ধতিতে বাস সংগ্রহের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ রক্ষণাবেক্ষণ ও কারিগরি সহায়তা ব্যবস্থাকেও সহজ করা সম্ভব হবে। কারণ ইলেকট্রিক বাস পরিচালনায় শুধু যানবাহন সংগ্রহ করলেই হবে না; ব্যাটারি ব্যবস্থাপনা, যন্ত্রাংশের সরবরাহ, প্রশিক্ষিত জনবল ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের সক্ষমতাও নিশ্চিত করতে হবে।

ডিপোতে তৈরি হবে চার্জিং অবকাঠামো

ইলেকট্রিক বাস পরিচালনার জন্য দেশের প্রচলিত বাস ডিপোগুলোকে নতুনভাবে প্রস্তুত করার কাজও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। প্রথম পর্যায়ে ঢাকার মতিঝিল, মিরপুর, কল্যাণপুর, গাবতলী ও জোয়ারসাহারা ডিপোকে ই-বাস পরিচালনার উপযোগী করার পরিকল্পনা রয়েছে।

এর বাইরে গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ ও নরসিংদীর ডিপোগুলোকেও পর্যায়ক্রমে এ ব্যবস্থার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। কোন স্থানে চার্জিং স্টেশন স্থাপন করা হবে, বাস কোথায় পার্কিং করা হবে এবং পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ সংযোগ কীভাবে নিশ্চিত করা হবে—এসব বিষয়ও পরিকল্পনার মধ্যে রাখা হয়েছে।

রুট নির্ধারণে হবে সম্ভাব্যতা যাচাই

ইলেকট্রিক বাস কোন কোন রুটে চালানো হলে কারিগরি ও আর্থিকভাবে বেশি কার্যকর হবে, তা নির্ধারণে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) মাধ্যমে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা করা হচ্ছে।

বিআরটিসির পরিকল্পনায় বাস কেনার পাশাপাশি রুট, বিদ্যুৎ সরবরাহ, চার্জিং ব্যবস্থা, ডিপো, রক্ষণাবেক্ষণ এবং রাজস্ব ব্যবস্থাপনাকে সমন্বিতভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে। অর্থাৎ শুধু বাস সংগ্রহ নয়, পুরো পরিচালন কাঠামোকে ইলেকট্রিক বাসের উপযোগী করে তোলার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

সংস্থাটির কর্মকর্তারা মনে করছেন, পুরোনো বাসের বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মেরামত ব্যয়ও বাড়ছে। একই সঙ্গে অনেক বাসের কার্যক্ষমতা কমে যাওয়ায় বহরের ওপর চাপ তৈরি হচ্ছে। এ অবস্থায় নতুন ইলেকট্রিক বাস যুক্ত হলে বহরের সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি পরিচালন ব্যয় ও পরিবেশদূষণ কমানোর সুযোগ তৈরি হবে।

নারী যাত্রীদের জন্যও আলাদা পরিকল্পনা

ইলেকট্রিক বাস প্রকল্পের সঙ্গে নারী যাত্রীদের জন্য বিশেষ পরিবহনসেবা সম্প্রসারণের বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে। ইতোমধ্যে বিআরটিসি ‘মহিলা বাস সার্ভিস’ বা ‘পিংক বাস’ চালু করেছে। ভবিষ্যতে নারী যাত্রীদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ যাতায়াত নিশ্চিত করতে ইলেকট্রিক বাসভিত্তিক সেবার সম্ভাবনাও দেখা হচ্ছে।

বিআরটিসির চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ মোল্লা (অতিরিক্ত সচিব) বলেন, ঢাকার গণপরিবহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফেরানো এবং পরিবেশবান্ধব যানবাহন চালুর ওপর সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। ইলেকট্রিক বাস চালুর পরিকল্পনাকে সমন্বিত পরিবহন ব্যবস্থা ও নগর পরিবহন আধুনিকায়নের অংশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

তিনি বলেন, ভবিষ্যতে ইলেকট্রিক বাসের সংখ্যা আরও বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনায় রাখা হচ্ছে। সে কারণে চার্জিং স্টেশন তৈরির সময় শুধু বর্তমান বহরের চাহিদা নয়, ভবিষ্যতে বাসের সংখ্যা বাড়লে অতিরিক্ত চাপ সামলানোর সক্ষমতাও বিবেচনা করা হচ্ছে।

প্রযুক্তিগত সক্ষমতা যাচাইয়ে গুরুত্ব

ইলেকট্রিক বাস কেনার আগে এর প্রযুক্তিগত সক্ষমতা যাচাইয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বাসের ব্যাটারি কতক্ষণ কার্যকর থাকবে, একবার চার্জে কত দূরত্ব অতিক্রম করতে পারবে, চার্জ হতে কত সময় লাগবে এবং বাংলাদেশের গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ায় ব্যাটারি ও অন্যান্য যন্ত্রাংশের কর্মক্ষমতা কেমন হবে—এসব বিষয় পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

এ ছাড়া বাংলাদেশের সড়কের বাস্তবতা, বাসের যাত্রী ধারণক্ষমতা, যন্ত্রাংশ সহজে পাওয়া যাবে কি না এবং দীর্ঘমেয়াদে রক্ষণাবেক্ষণে কত ব্যয় হবে—এসব বিষয়ও প্রযুক্তিগত স্পেসিফিকেশন তৈরির সময় বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।

বিআরটিসির প্রকৌশলী, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা এবং বুয়েটের বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে এ প্রযুক্তিগত বিষয়গুলো চূড়ান্ত করার কাজ চলছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে বিআরটিসির গণপরিবহন ব্যবস্থায় বড় ধরনের প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সূচনা হবে। ধাপে ধাপে পুরোনো জ্বালানিনির্ভর বাসের পরিবর্তে বিদ্যুৎচালিত বাস যুক্ত করার মাধ্যমে দেশের গণপরিবহন ব্যবস্থায় পরিবেশবান্ধব ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার আরও বাড়তে পারে।

সর্বশেষ