• ২০২৬ সেপ্টেম্বর ০৭, সোমবার, ১৪৩৩ ভাদ্র ২৩
  • সর্বশেষ আপডেট : ১২:০৯ অপরাহ্ন
English
পরিচালনাপর্ষদ
আমাদের সাথে থাকুন আপনি ও ... www.timebanglanews.com

মিটার নেই, বিদ্যুৎও ব্যবহার হয়নি—তবু ৬৯২ টাকার বিল!*

  • প্রকাশিত ০১:০৯ অপরাহ্ন সোমবার, সেপ্টেম্বর ০৭, ২০২৬
মিটার নেই, বিদ্যুৎও ব্যবহার হয়নি—তবু ৬৯২ টাকার বিল!*
Time Bangla news
ফজলে এলাহী সুমন | সাভার প্রতিনিধি | টাইম বাংলা নিউজ

*মিটার নেই, বিদ্যুৎও ব্যবহার হয়নি—তবু ৬৯২ টাকার বিল!* 


মিটারই বসেনি। বিদ্যুৎ সংযোগও চালু হয়নি। অথচ গ্রাহকের নামে তৈরি হয়েছে ৬৯২ টাকার বিদ্যুৎ বিল। জামালপুরের মাদারগঞ্জে পল্লী বিদ্যুতের এমন বিলিং ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে পুরো ব্যবস্থাপনা ও তদারকি নিয়ে।

ঘটনাটি ঘটেছে মাদারগঞ্জ উপজেলার চরপাকেরদহ ইউনিয়নের তেঘরিয়া বাজার এলাকায়। ভুক্তভোগী নিমাই চন্দ্র সরকার নতুন একটি মিটার সংযোগের জন্য আবেদন করেছিলেন। কিন্তু সংযোগ দেওয়ার আগেই তার নামে আগস্ট মাসের বিল হিসেবে ৬৯২ টাকা দেখিয়ে বিলের কাগজ পাঠানো হয়েছে।

নিমাই চন্দ্র সরকারের বাড়িতে আগে থেকেই দুটি আবাসিক ও দুটি বাণিজ্যিক মিটার রয়েছে। নতুন সংযোগের জন্য পৃথক ওয়্যারিং বোর্ডও প্রস্তুত করা হয়েছে। তবে শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বাড়িতে দৃশ্যমান চারটি মিটার থাকলেও নতুন মিটারটি এখনো স্থাপন করা হয়নি।

তারপরও গ্রাহকের নামে এসেছে পাঁচটি বিল। এর মধ্যে নতুন মিটারের নামে দেখানো হয়েছে ৬৯২ টাকা।

 *সংযোগ ছাড়াই বিল—হিসাব হলো কীভাবে?* 

ঘটনাটি সামনে আসার পর স্থানীয়দের মধ্যে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন। বিদ্যুৎ ব্যবহারই যেখানে শুরু হয়নি, সেখানে ব্যবহার বাবদ বিল তৈরি হলো কীভাবে? কোনো মিটার রিডিং ছাড়াই কি সফটওয়্যারে বিল তৈরি করা হয়েছে? নাকি বিলিং প্রক্রিয়ায় হয়েছে অন্য কোনো গরমিল?

স্থানীয়দের দাবি, ঘটনাটি শুধু ‘ভুল’ বলে এড়িয়ে না গিয়ে বিল তৈরির পুরো প্রক্রিয়া যাচাই করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে কার অনুমোদন বা কোন প্রক্রিয়ায় নতুন মিটারের নামে বিল তৈরি হয়েছে, সেটিও তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা।

‘ *কথা বলেই বিল করা হয়েছে’* 

তেঘরিয়া অভিযোগ কেন্দ্রের ইনচার্জ মোখলেছুর রহমানের দাবি, নিমাই সরকারের সঙ্গে কথা বলেই বিলটি করা হয়েছে।

তবে মিটার কিংবা বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকলেও কীভাবে বিল তৈরি করা সম্ভব—এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এটা ভুল হয়ে গেছে।’

 *সফটওয়্যার পরিবর্তনের দায়?* 

জামালপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মাদারগঞ্জ জোনাল অফিসের সহকারী জেনারেল ম্যানেজার (ওএন্ডএম) আবু সালেহ মো. নাঈম বলেন, সফটওয়্যার পরিবর্তনের কারণে এমন সমস্যা হয়েছে।

তবে সফটওয়্যার পরিবর্তনের কারণে ঠিক কীভাবে মিটার স্থাপনের আগেই গ্রাহকের নামে ৬৯২ টাকার বিল তৈরি হলো, সে বিষয়ে তিনি সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।

 *ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারও নেই স্পষ্ট উত্তর* 

মাদারগঞ্জ জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) সৈয়দা ফারজানা ইয়াসমিনের কাছেও এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনিও স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।

তিনি বলেন, মিটার বা সংযোগ ছাড়া কীভাবে বিল আসে, তা তার জানা নেই। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রণকারী কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন তিনি।

 **প্রশ্নের মুখে বিলিং ব্যবস্থা** 

মিটার স্থাপনের আগেই বিদ্যুৎ বিল তৈরির এ ঘটনায় পল্লী বিদ্যুতের বিলিং সফটওয়্যার, গ্রাহক তথ্য ব্যবস্থাপনা এবং মাঠপর্যায়ের তদারকি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে।

একদিকে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ঘটনাটিকে ‘ভুল’ বলছেন, অন্যদিকে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলছেন, বিষয়টি তার জানা নেই। আর এর মধ্যেই প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে—বিদ্যুৎ সংযোগই যেখানে চালু হয়নি, সেখানে ৬৯২ টাকার বিলের হিসাব এলো কোথা থেকে?

ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্ত হলে বিল তৈরির প্রকৃত কারণ এবং এর পেছনে দায়িত্বে অবহেলা বা কারিগরি ত্রুটি ছিল কি না, তা স্পষ্ট হতে পারে।

সর্বশেষ