প্রকাশ : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৩০
এএমদক্ষিণ-পশ্চিম ইউরোপের দেশ পর্তুগালে হাজারবছরের ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে এখনো টিকে আছে শত শত প্রাচীন জলপাই গাছ। শুধু বেঁচে থাকাই নয়, এসব গাছের অনেকগুলো নিয়মিত ফলও দিচ্ছে। গবেষকদের মতে, কয়েকটি গাছের বয়স ২ হাজার বছরেরও বেশি।
পর্তুগালের ইউনিভার্সিটি অব ট্রাস-ওস-মন্টেস অ্যান্ড আল্টো দৌরো (ইউটিএডি) পরিচালিত গবেষণায় এসব গাছের দীর্ঘায়ুর তথ্য উঠে এসেছে। গবেষকদের হিসাবে, দেশটির সবচেয়ে পুরোনো জলপাই গাছগুলোর একটি রয়েছে বেজা জেলার ভিডিগুেইরার হারদাদে দো পেসো এস্টেটে। ‘অলিভেইরা দো পেসো’ নামের গাছটির বয়স ২০২১ সালের মূল্যায়ন অনুযায়ী ৩ হাজার ৭০০ বছরেরও বেশি।
২০২৪ সালের পর্তুগিজ ‘ট্রি অব দ্য ইয়ার’ প্রতিযোগিতায় গাছটি তৃতীয় স্থান অর্জন করে।
৩ হাজার ৩৫০ বছরের জলপাই গাছ
পর্তুগালের আরেকটি বিখ্যাত প্রাচীন জলপাই গাছ হলো ‘অলিভেইরা দো মুচাও’। আব্রান্তেস পৌরসভায় অবস্থিত গাছটির বয়স আনুমানিক ৩ হাজার ৩৫০ বছর।
গবেষকদের মতে, গাছটি ফিনিশীয়, সেল্টিবেরীয় ও রোমান সভ্যতার সমসাময়িক। দীর্ঘ সময় ধরে নানা পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে টিকে থাকা এই গাছ এখনো জলপাই উৎপাদন করছে। ২০২২ সালের ইউরোপিয়ান ‘ট্রি অব দ্য ইয়ার’ প্রতিযোগিতায় গাছটি পঞ্চম স্থান অর্জন করেছিল।
এ ছাড়া সান্তা ইরিয়া দে আজোয়ায় প্রায় ২ হাজার ৮৫০ বছরের পুরোনো একটি জলপাই গাছ রয়েছে। মনসারাজ, এস্ত্রেমোজ, মন্তেমোর-ও-নোভো, লাগোয়া, বেজা, ভিলামৌরা, এভোরা এবং পোর্তোর সেরালভেস পার্কসহ দেশটির বিভিন্ন এলাকাতেও বহু প্রাচীন জলপাই গাছ রয়েছে
কীভাবে এত বছর বেঁচে থাকে?
গবেষকদের মতে, জলপাই গাছের দীর্ঘায়ুর অন্যতম কারণ এর অসাধারণ পুনরুজ্জীবন ক্ষমতা। গাছের কাণ্ডের কোনো অংশ পুরোনো হয়ে গেলেও সেখান থেকে নতুন কুঁড়ি ও শাখা গজাতে পারে। ফলে পুরোনো কাণ্ড ক্ষতিগ্রস্ত হলেও গাছটি নতুন করে বেড়ে উঠতে এবং ফল দিতে পারে।
ইউটিএডির গবেষক হোসে লুইস লুজাডা, যিনি এসব গাছের বয়স নির্ধারণের বিশেষ পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছেন, বলেন, জলপাই গাছ সময়ের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রকৃতির অন্যতম সফল উদ্ভিদ।
গবেষকদের মতে, ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ুর সঙ্গে জলপাই গাছের ভালো অভিযোজন, দীর্ঘ খরা ও তীব্র গরম সহ্য করার ক্ষমতা এবং দ্রুত পুনরুজ্জীবিত হওয়ার বৈশিষ্ট্যই তাদের দীর্ঘজীবী করে তুলেছে।
বিশেষ পদ্ধতিতে নির্ধারণ করা হয় বয়স
ইউটিএডির গবেষক হোসে লুইস লুজাডা উদ্ভাবিত ও পেটেন্ট করা একটি বিশেষ গাণিতিক পদ্ধতি ব্যবহার করে এসব গাছের বয়স নির্ধারণ করা হয়েছে।
এই পদ্ধতিতে গাছের কাণ্ডের ব্যাস, উচ্চতা ও পরিধিসহ বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করে সম্ভাব্য বয়স হিসাব করা হয়। শুধু পর্তুগাল নয়, স্পেন ওফ্রান্সের প্রাচীন গাছের বয়স নির্ধারণেও এই পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে।
মতামত দিন