*বিষে ডুবে গেছে খাল*
*উপশিরোনাম:* কুচকুচে কালো পানিতে হারিয়েছে মাছ, বন্ধ কৃষিকাজ; শিল্পবর্জ্যে তুরাগ-বালুও বিপন্ন।
পুন:লিখনে:
খালে এখন আর মাছ নেই। আশপাশের জমিতে চাষাবাদও বন্ধ। কোথাও জমি বিক্রি করে দিয়েছেন কৃষক। খালের পানির দুর্গন্ধে বসবাস কঠিন হয়ে পড়েছে। মরচে ধরে ক্ষয়ে যাচ্ছে টিনের চাল, নষ্ট হচ্ছে ঘরের সামগ্রী। আর জলাশয়ের পানি—কুচকুচে কালো।
গাজীপুরের পূবাইল ও টঙ্গী এলাকার খালপাড়ের মানুষের জীবনে শিল্পবর্জ্যের দূষণ এখন এমনই বাস্তবতা। হায়দারপুর খাল দিয়ে শিল্পকারখানা ও বাসাবাড়ির বর্জ্য প্রবাহিত হয়ে টঙ্গী খালে পড়ছে; সেখান থেকে দূষিত পানি যাচ্ছে তুরাগ ও বালু নদীতে। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে শিল্পাঞ্চলের পানিতে অনুমোদিত সীমার ওপরে সীসা, ক্যাডমিয়াম, ক্রোমিয়াম, নিকেল ও আয়রনের উপস্থিতির তথ্য উঠে এসেছে।
গাজীপুরের কয়েকটি এলাকায় পরীক্ষায় দ্রবীভূত আয়রন নিরাপদ সীমার প্রায় পাঁচ গুণ, সীসা ৩০ গুণ, ক্রোমিয়াম পাঁচ গুণ এবং নিকেল ছয় গুণ পর্যন্ত বেশি পাওয়া গেছে বলে গবেষকরা জানিয়েছেন। কিছু নমুনায় পানির PH ২ থেকে ৪ পর্যন্ত নেমে যাওয়ার তথ্যও পাওয়া গেছে।
এই দূষণের সরাসরি প্রভাব পড়ছে মানুষের জীবিকা ও পরিবেশে। স্থানীয়দের ভাষ্য, একসময় যে খালে মাছ ধরা হতো, এখন সেখানে জলজ প্রাণীর অস্তিত্বও প্রায় নেই। কৃষিজমিতে দূষিত পানি প্রবেশ করায় অনেক জায়গায় চাষাবাদ বন্ধ হয়ে গেছে।
দূষণের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সরকারি নজরদারিও বড় চ্যালেঞ্জের মুখে। গাজীপুরে প্রায় ৭ হাজার শিল্পকারখানা থাকলেও সংশ্লিষ্ট পরিবেশ অধিদপ্তরের কার্যালয়ে পরিদর্শক রয়েছেন মাত্র তিনজন। ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত তুরাগ দূষণের দায়ে ৪১টি প্রতিষ্ঠানকে ৩ কোটি ২৪ লাখ টাকা জরিমানা করা হলেও আদায় হয়েছে ২ কোটি ৯ লাখ টাকা।
শিল্পবর্জ্যের এই দূষণ শুধু একটি খাল বা একটি এলাকার সমস্যা নয়। হায়দারপুর খাল থেকে টঙ্গী খাল হয়ে তুরাগ ও বালু নদীতে দূষিত পানি পৌঁছানোর ফলে এর প্রভাব বৃহত্তর জলাভূমি ও নদী ব্যবস্থায় ছড়িয়ে পড়ছে।
ফলে প্রশ্ন উঠছে—শিল্পায়নের বিস্তারের সঙ্গে গাজীপুরের খাল, নদী, কৃষিজমি ও মানুষের জীবন রক্ষায় কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং নিয়মিত নজরদারি কতটা নিশ্চিত করা যাচ্ছে?
তথ্যসূত্র: ডেইলি স্টার।
মতামত দিন