• ২০২৬ অক্টোবর ০৬, মঙ্গলবার, ১৪৩৩ আশ্বিন ২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৪:১০ পূর্বাহ্ন
English
পরিচালনাপর্ষদ
আমাদের সাথে থাকুন আপনি ও ... www.timebanglanews.com

*গ্যাস মিলেছে, এবার মজুদ নিশ্চিতের লড়াই।*

  • প্রকাশিত ০৪:১০ পূর্বাহ্ন মঙ্গলবার, অক্টোবর ০৬, ২০২৬
*গ্যাস মিলেছে, এবার মজুদ নিশ্চিতের লড়াই।*
Time Bangla news
ফজলে এলাহী সুমন | সাভার প্রতিনিধি | টাইম বাংলা নিউজ।

*গ্যাস মিলেছে, এবার মজুদ নিশ্চিতের লড়াই।* 


 *উপশিরোনাম:* জামালপুর-১ কূপের পর আরও দুটি কূপ খননে বাপেক্স; সফল হলে শুরু হতে পারে বাণিজ্যিক উৎপাদন, জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে গ্যাস।

জামালপুরের মাদারগঞ্জে দেশের ৩০তম গ্যাসক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত জামালপুর-১-এ গ্যাসের সন্ধান পাওয়ার পর এবার আরও দুটি কূপ খননের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি (বাপেক্স)। নতুন কূপ দুটিতে গ্যাসের মজুদ ও উৎপাদন সক্ষমতা নিশ্চিত হওয়ার পরই বাণিজ্যিকভাবে উত্তোলন শুরু এবং জাতীয় গ্যাস সঞ্চালন লাইনে সংযোগ দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

বাপেক্সের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রথম কূপে গ্যাসের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়ার পর একটি অনুসন্ধানমূলক ও একটি উন্নয়নমূলক কূপ খননের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে কূপ দুটির প্রাথমিক সিভিল ওয়ার্ক শুরু হয়েছে। প্রতিটি কূপ প্রায় ২ হাজার ৫০০ মিটার গভীর পর্যন্ত খননের পরিকল্পনা রয়েছে।

জামালপুর-১ অনুসন্ধান কূপ খনন প্রকল্পের পরিচালক মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক জানান, প্রথম কূপ থেকে দৈনিক গড়ে প্রায় ১০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বাণিজ্যিক উৎপাদনে যাওয়ার আগে নতুন দুটি কূপে গ্যাসের উপস্থিতি, মজুদ ও উৎপাদন সক্ষমতা যাচাই করা হবে।

বাপেক্স সূত্র জানায়, মাদারগঞ্জ উপজেলার বালিজুড়ি ইউনিয়নের তারতাপাড়া এলাকায় ১৯৮০ সালে পরিচালিত সিসমিক জরিপে প্রথম গ্যাসের সম্ভাবনার ইঙ্গিত পাওয়া যায়। পরে ২০১৪-১৫ অর্থবছরে সিসমিক ডেটা সংগ্রহ এবং ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ক্লোজ গ্রিড সিসমিক সার্ভে করা হয়। এসব তথ্য বিশ্লেষণের ভিত্তিতে ২০২৫ সালের ২৪ জানুয়ারি জামালপুর-১ অনুসন্ধান কূপ খননের কাজ শুরু করে বাপেক্স।

প্রায় ২ হাজার ৬০০ মিটার গভীর করে খনন করা প্রথম কূপে ১ হাজার ৪৪১ থেকে ১ হাজার ৪৪৫ মিটার গভীরতায় গ্যাসসমৃদ্ধ স্তরের সন্ধান পাওয়া যায়। গত বছরের ১ জুন কূপটিতে গ্যাসের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়ার কথা জানায় বাপেক্স। সংশ্লিষ্টদের হিসাবে, সেখানে প্রায় ৭ দশমিক ২ মিলিয়ন চাপের গ্যাস পাওয়া গেছে।

প্রাথমিক মূল্যায়নে জামালপুর-১ কূপ থেকে প্রতিদিন ৫ থেকে ১০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদন করা সম্ভব হতে পারে। চূড়ান্ত মজুদ নিরূপণ শেষ হলে এ কূপের গ্যাস ১২ থেকে ৩০ বছর পর্যন্ত সরবরাহের সম্ভাবনা রয়েছে বলেও জানিয়েছে বাপেক্সের সূত্র।

৫ দশমিক ৮৮৫ একর জমিতে স্থাপন করা হয়েছে জামালপুর-১ অনুসন্ধান কূপ। প্রকল্পটির প্রাথমিক অনুসন্ধান কার্যক্রমে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১৬৮ কোটি টাকা।

বাপেক্সের পরিকল্পনা অনুযায়ী, নতুন দুই কূপে গ্যাসের মজুদ ও উৎপাদন সক্ষমতা নিশ্চিত হওয়ার পর উৎপাদিত গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার জন্য প্রয়োজনীয় প্রকল্প প্রস্তাবনা চূড়ান্ত করা হবে। একই সঙ্গে জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে অবস্থিত যমুনা ফার্টিলাইজার কারখানায় উৎপাদিত গ্যাসের একটি অংশ সরবরাহের সম্ভাবনাও বিবেচনায় রয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মাদারগঞ্জে গ্যাসের মজুদ নিশ্চিত হলে যমুনা নদীর ওপারের এলাকাগুলোতেও ভবিষ্যতে অনুসন্ধান কার্যক্রম সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হতে পারে। এতে নতুন গ্যাসসম্পদের সন্ধান পাওয়ার সম্ভাবনাও বাড়বে।

দীর্ঘ সময় পর মাদারগঞ্জে গ্যাস অনুসন্ধান কার্যক্রম ফের গতি পাওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যেও তৈরি হয়েছে আশাবাদ। গ্যাসক্ষেত্রটি উৎপাদনে গেলে কর্মসংস্থানের পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্য ও স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করছেন তারা।

স্থানীয় বাসিন্দা নুরুল ইসলাম ও আবুল কালাম বলেন, এলাকায় গ্যাসের কূপ খনন হওয়ায় তারা আশাবাদী। প্রকল্পের বিভিন্ন কাজে স্থানীয় বাসিন্দাদের অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি হবে বলেও প্রত্যাশা তাদের।

সর্বশেষ