• ২০২৬ অক্টোবর ০৮, বৃহস্পতিবার, ১৪৩৩ আশ্বিন ২২
  • সর্বশেষ আপডেট : ০২:১০ পূর্বাহ্ন
English
পরিচালনাপর্ষদ
আমাদের সাথে থাকুন আপনি ও ... www.timebanglanews.com

*ক্ষেত থেকে প্লেট—সবজিতে কীটনাশক, বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি।*

  • প্রকাশিত ০৪:১০ পূর্বাহ্ন বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ০৮, ২০২৬
*ক্ষেত থেকে প্লেট—সবজিতে কীটনাশক, বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি।*
Time Bangla news
ফজলে এলাহী সুমন | সাভার প্রতিনিধি | টাইম বাংলা নিউজ।

*ক্ষেত থেকে প্লেট—সবজিতে কীটনাশক, বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি।* 


 *উপশিরোনাম:* কীটনাশকের অবশিষ্টাংশ ও ভারী ধাতু নিয়ে উদ্বেগ, নিয়ম না মেনেই বাজারে আসছে অনেক ফসল। 

ক্ষেতে ফসল উৎপাদন হচ্ছে, বাজারে উঠছে, সেখান থেকে যাচ্ছে সরাসরি ভোক্তার রান্নাঘরে। কিন্তু এই দীর্ঘ যাত্রাপথে নিরাপদ খাদ্যের নিশ্চয়তা কতটা? সাম্প্রতিক বিভিন্ন গবেষণায় বেগুন, শসা ও টমেটোসহ কয়েক ধরনের সবজিতে অনুমোদিত সীমার বেশি কীটনাশকের অবশিষ্টাংশ ও ভারী ধাতু পাওয়ার তথ্য সামনে এসেছে। ফলে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় থাকা সবজি নিয়েই বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকির আশঙ্কা।

সমস্যার শুরু অনেক সময় মাঠ থেকেই। ফসলে পোকা বা রোগ দেখা দিলে কীটনাশক ব্যবহারের ক্ষেত্রে কৃষকদের বড় একটি অংশ নির্ভর করেন স্থানীয় বিক্রেতাদের ওপর। কোন ওষুধ কত মাত্রায় প্রয়োগ করতে হবে, প্রয়োগের পর কত দিন অপেক্ষা করে ফসল সংগ্রহ করা নিরাপদ—এসব বিষয়ে যথাযথ নির্দেশনা না থাকায় অনেক ক্ষেত্রেই নিয়ম মানা হচ্ছে না।

সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, কিছু কীটনাশকে ম্যানকোজেব ও কারটাপ গ্রুপের রাসায়নিক উপাদান ব্যবহৃত হয়। এসব রাসায়নিকের বিষাক্ততা নিয়ে বিভিন্ন দেশে কঠোর বিধিনিষেধ রয়েছে। অথচ মাঠপর্যায়ে এগুলোর ব্যবহার, মাত্রা এবং বিক্রয়ব্যবস্থা কতটা নিয়ন্ত্রিত—তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

আরেক দফা ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে বাজারজাতকরণের সময়। ক্ষেত থেকে সংগ্রহের পর সবজি যায় স্থানীয় আড়তে, সেখান থেকে বিভিন্ন বাজারে। এই পুরো প্রক্রিয়ায় পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যবিধি অনেক ক্ষেত্রেই উপেক্ষিত।

রাজধানীর খিলক্ষেত বাজারে দেখা গেছে, নোংরা ও দূষিত পানিতে শাক-সবজি ধুয়ে নেওয়া হচ্ছে। ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত চলে এ কাজ। যে পানি ব্যবহারের উপযোগী কি না, তা নিয়েই যেখানে প্রশ্ন রয়েছে, সেই পানিতে ধোয়া সবজি শেষ পর্যন্ত পৌঁছে যাচ্ছে ভোক্তার প্লেটে।

সবজির বাহ্যিক সৌন্দর্যও এখানে বড় বিভ্রান্তি তৈরি করছে। বাজারে দাঁড়িয়ে দেখে বোঝার উপায় নেই কোনো সবজিতে কীটনাশকের মাত্রা বেশি কি না। আবার অনেক ভোক্তার ধারণা, বাড়িতে এনে ভালোভাবে ধুলেই ক্ষতিকর রাসায়নিক দূর হয়ে যাবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ধোয়া বা পানিতে ভিজিয়ে রাখার মাধ্যমে সব ধরনের অবশিষ্টাংশ পুরোপুরি দূর হওয়ার নিশ্চয়তা নেই।

খাদ্য নিরাপত্তা ও প্রক্রিয়াজাতকরণ ইনস্টিটিউটের গবেষক অধ্যাপক ড. হাবিবুর রহমান বলেন, কীটনাশক প্রয়োগের পর নির্ধারিত সময় না মেনে ফসল বাজারে তোলা হলে ঝুঁকি বাড়ে। সাধারণত কীটনাশক প্রয়োগের পর প্রায় সাত দিন অপেক্ষা করে ফসল সংগ্রহের কথা থাকলেও অনেক কৃষক তিন দিনের মধ্যেই তা বাজারজাত করেন। এতে সবজিতে কীটনাশকের অবশিষ্টাংশ থেকে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।

তিনি বলেন, কীটনাশক ব্যবহার মানেই সবজি বিষাক্ত—এমন নয়। তবে অতিরিক্ত ও অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার, ভুল মাত্রা এবং ফসল তোলার আগে প্রয়োজনীয় বিরতি না মানলে দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এমনকি দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতির আশঙ্কাও রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নিরাপদ সবজি নিশ্চিত করতে শুধু কৃষককে সচেতন করলেই হবে না। কীটনাশক বিক্রেতা, কৃষি বিভাগের মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা, আড়তদার, পরিবহনকারী ও বাজার ব্যবস্থাপনা—পুরো সরবরাহব্যবস্থাকে নজরদারির আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে বাজারে আসা সবজির নিয়মিত নমুনা পরীক্ষা এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা জরুরি।

কারণ, ক্ষেতের ফসল তখনই নিরাপদ খাদ্য হয়ে ওঠে, যখন উৎপাদন থেকে ভোক্তার প্লেট পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়। এখন প্রশ্ন—আমাদের সবজির সেই নিরাপত্তা কতটা নিশ্চিত?

সর্বশেষ