সৌদি আরবে হুতিদের হামলায় নিহত শাজাহানপুরের শাহেদ: মরদেহের অপেক্ষায় স্বজনেরা
সৌদি আরবের একটি বিমানবন্দরে ইয়েমেনের বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুতিদের চালানো হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন মো. শাহেদ আহম্মেদ (৩২) নামের এক বাংলাদেশি যুবক। গত গতকাল শনিবার এই নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটে। নিহত শাহেদের বাড়ি বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার মাদলা ইউনিয়নের মাদলা গ্রামে।
শাহেদ ওই গ্রামের মো. রফিকুল ইসলাম মিঠু ও মোছা. শাহেরা বেগম দম্পতির সন্তান। মর্মান্তিক এই খবরের পর থেকে পুরো মাদলা গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে এলাকার পরিবেশ। নিহত শাহেদের পরিবার এখন তাঁর মরদেহের অপেক্ষায় পথচেয়ে বসে আছে।
এক মাস আগেই ছুটি কাটিয়ে ফিরেছিলেন শাহেদ
নিহতের চাচাতো ভাই মাসুম রানা জানান, শাহেদের বাবা মো. রফিকুল ইসলাম বহু বছর ধরেই সৌদি আরবে কর্মরত। প্রায় দুই বছর আগে তিনি শাহেদকেও নিজের কাছে সৌদি আরবে নিয়ে যান। এক মাস আগে শাহেদ দেশে ছুটিতে এসেছিলেন। ছুটি শেষে মাত্র কয়েক দিন আগে, গত ৯ অক্টোবর তিনি আবারও কর্মস্থল সৌদিতে ফিরে যান।
বর্তমানে নিহতের মা মোছা. শাহেরা বেগম ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে অবস্থান করছেন। পারিবারিক জীবনে শাহেদ দুই সন্তানের জনক। তাঁর কাউছার (১১) ও আব্দুল্লাহ (৬) নামের দুটি শিশুসন্তান রয়েছে। হঠাৎ করে শাহেদকে হারিয়ে দুই অবুঝ শিশুসহ পুরো পরিবার এখন দিশেহারা।
সরকারি খরচে মরদেহ ফেরানোর প্রস্তুতি
এ বিষয়ে শাজাহানপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) তাইফুর রহমান জানান, নিহত শাহেদের মরদেহ দ্রুত ও সরকারি খরচে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় সরকারি প্রক্রিয়া ও কাজ শুরু হয়েছে।
ইউএনও আরও বলেন, "আমি নিজে উদ্যোগী হয়ে বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছি এবং সার্বিক খোঁজখবর রাখছি। স্বজনদের প্রতি আমাদের পূর্ণ সমবেদনা রয়েছে এবং এই পরিবারটির যেকোনো সহায়তায় আমরা প্রস্তুত আছি।"
মতামত দিন