• ২০২৬ অক্টোবর ২০, মঙ্গলবার, ১৪৩৩ কার্তিক ৪
  • সর্বশেষ আপডেট : ১২:১০ পূর্বাহ্ন
English
পরিচালনাপর্ষদ
আমাদের সাথে থাকুন আপনি ও ... www.timebanglanews.com

নিষেধাজ্ঞা নদীতে, তেঁতুলিয়ায় চলছে ইলিশের রমরমা বাণিজ্য।*

  • প্রকাশিত ০৪:১০ পূর্বাহ্ন মঙ্গলবার, অক্টোবর ২০, ২০২৬
নিষেধাজ্ঞা নদীতে, তেঁতুলিয়ায় চলছে ইলিশের রমরমা বাণিজ্য।*
Time Bangla news
ফজলে এলাহী সুমন | সাভার প্রতিনিধি | টাইম বাংলা নিউজ।

*নিষেধাজ্ঞা নদীতে, তেঁতুলিয়ায় চলছে ইলিশের রমরমা বাণিজ্য।*


 *উপশিরোনাম:* তেঁতুলিয়ায় নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ইলিশ শিকার, তীরেই চলছে বেচাকেনা।

পটুয়াখালীর তেঁতুলিয়া নদীতে মা ইলিশ শিকারে সরকারি নিষেধাজ্ঞা থাকলেও তা অমান্য করে মাছ ধরার অভিযোগ উঠেছে। বাউফল ও দশমিনা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দিন-রাত ইলিশ শিকার এবং নদীতীরবর্তী বসতি ও বাড়িতে সেসব মাছ বিক্রির খবর পাওয়া যাচ্ছে। কোথাও মুঠোফোনে যোগাযোগ করে ক্রেতাদের কাছে মাছ পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

নদীতে ইলিশ শিকার ও বিক্রির কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা তৈরি হয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, প্রশাসনের নজরদারির ঘাটতি কাজে লাগিয়ে এক শ্রেণির জেলে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করছেন। অভিযানের আগাম খবর জেলেদের কাছে পৌঁছে যাওয়ার অভিযোগও করেছেন কেউ কেউ। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা যায়নি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাউফল উপজেলার কাছিপাড়া ইউনিয়নের কারখানা ও ধুলিয়া, মঠবাড়িয়া, নাজিরপুর ইউনিয়নের নিমদি, চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের বিভিন্ন পয়েন্ট এবং কালাইয়া ইউনিয়নের বগি এলাকায় অবৈধভাবে মা ইলিশ শিকারের অভিযোগ রয়েছে। দশমিনা উপজেলার নদীতীরবর্তী বিভিন্ন স্থানেও একই ধরনের অভিযোগ উঠেছে।

 *নদীতে শিকার, লোকালয়ে বিক্রি* 

অভিযোগ অনুযায়ী, নদী থেকে ইলিশ ধরে সেগুলো দ্রুত তীরবর্তী এলাকায় নিয়ে বিক্রি করা হচ্ছে। কোথাও বাড়িতে বসে মাছ বিক্রি হচ্ছে, আবার কোথাও মুঠোফোনে ক্রেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, এভাবে বিক্রি হওয়ায় অবৈধ মাছের বেচাকেনা শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ছে।

স্থানীয় সূত্রের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে এক কেজির বেশি ওজনের ইলিশ প্রতি কেজি ১ হাজার ৭০০ থেকে ২ হাজার টাকা, ছোট ইলিশ ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা এবং জাটকা ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে এসব দরের স্বাধীন যাচাই পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, শুধু নদীতে অভিযান পরিচালনা করলেই হবে না; অবৈধভাবে আহরণ করা মাছের বিক্রয়কেন্দ্র, নদীতীরবর্তী এলাকা ও বাজারেও নজরদারি বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে মাছ শিকার ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

দশমিনা উপজেলার কাটাখালি গ্রামের বাসিন্দা মো. শাজাহান গাজী বলেন, মা ইলিশের অবৈধ বেচাকেনার অভিযোগগুলো গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা প্রয়োজন। নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকা কারও অবহেলা কিংবা যোগসাজশের প্রমাণ পাওয়া গেলে তাঁর বিরুদ্ধেও আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

 *অভিযান চলছে, কঠোর হওয়ার আশ্বাস প্রশাসনের* 

দশমিনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাহমুদ হাসান মৃধা বলেন, মা ইলিশ রক্ষায় শুরু থেকেই অভিযান চালানো হচ্ছে। এরই মধ্যে কয়েকটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা জব্দ করা হয়েছে। পাশাপাশি কয়েক লাখ মিটার অবৈধ মাছ ধরার জাল জব্দ করে ধ্বংস করা হয়েছে।

নদী থেকে মাছ ধরে তীরবর্তী এলাকায় বিক্রির বিষয়ে তিনি বলেন, সংবাদকর্মীদের মাধ্যমে তাঁরা এ-সংক্রান্ত কয়েকটি ভিডিও পেয়েছেন। সেগুলোতে বাড়ি ও নদীতীরবর্তী এলাকায় মাছ বিক্রির দৃশ্য দেখা গেছে। অবৈধভাবে মাছ বিক্রির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা করতে মৎস্য বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ইউএনও বলেন, নিষেধাজ্ঞা চলাকালে তেঁতুলিয়া নদীতে অবৈধভাবে মাছ ধরার সুযোগ দেওয়া হবে না। এ জন্য প্রশাসনের অভিযান পরিচালনাকারী ট্রলার নিয়মিত নদীতে টহল দিচ্ছে।

অন্যদিকে বাউফল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সালে আহমেদ বলেন, মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগ নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। তারপরও কিছু অসাধু জেলে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে মাছ শিকার করছেন।

তিনি জানান, নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রাখতে অভিযান আরও জোরদার করা হচ্ছে। মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

সূত্র: কালবেলা।

সর্বশেষ