• ২০২৬ অক্টোবর ২১, বুধবার, ১৪৩৩ কার্তিক ৫
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৪:১০ পূর্বাহ্ন
English
পরিচালনাপর্ষদ
আমাদের সাথে থাকুন আপনি ও ... www.timebanglanews.com

আরসিইপিতে চোখ বাংলাদেশের, লক্ষ্য রপ্তানি ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি।*

  • প্রকাশিত ০৪:১০ পূর্বাহ্ন বুধবার, অক্টোবর ২১, ২০২৬
আরসিইপিতে চোখ বাংলাদেশের, লক্ষ্য রপ্তানি ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি।*
Time Bangla news
ফজলে এলাহী সুমন | সাভার প্রতিনিধি | টাইম বাংলা নিউজ।

*আরসিইপিতে চোখ বাংলাদেশের, লক্ষ্য রপ্তানি ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি।* 

 *বৈশ্বিক বাণিজ্যে নতুন সুযোগ তৈরি এবং রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণের লক্ষ্যে আঞ্চলিক বাণিজ্য জোটে যুক্ত হওয়ার উদ্যোগ নিচ্ছে বাংলাদেশ। ভারতের সঙ্গে প্রস্তাবিত সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (সেপা) নিয়ে অগ্রগতি না থাকায় আপাতত চীনের নেতৃত্বাধীন আঞ্চলিক সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (আরসিইপি) ঘিরে আগ্রহ বাড়াচ্ছে সরকার। একই সঙ্গে জাপান, চীনসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে আলোচনাও এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।* 

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, আরসিইপিতে যোগদানের বিষয়ে চলতি সপ্তাহেই আনুষ্ঠানিক আবেদন জমা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। বাণিজ্য সচিব মো. সেলিম উদ্দিন জানিয়েছেন, প্রধান উপদেষ্টার সম্মতির ভিত্তিতে এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তবে জোটটিতে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তির প্রক্রিয়া দীর্ঘ হতে পারে। সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে পৃথক আলোচনা ও সমঝোতার প্রয়োজন হওয়ায় এতে দুই থেকে তিন বছর সময় লাগতে পারে।

 *২৩টি দেশের বাজার নয়, ১৫ দেশের অর্থনৈতিক জোট* 

আরসিইপি বিশ্বের বৃহত্তম আঞ্চলিক বাণিজ্য চুক্তিগুলোর একটি। এর ১৫ সদস্য দেশের সম্মিলিত জনসংখ্যা প্রায় ২৩০ কোটি এবং অর্থনৈতিক বাজারের আকার প্রায় ২৬ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন ডলার। চীন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও থাইল্যান্ডসহ এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ অর্থনীতিগুলো এই জোটের অন্তর্ভুক্ত।

বাংলাদেশের জন্য এ জোটে যুক্ত হওয়ার সম্ভাব্য সুবিধা হলো—বৃহৎ বাজারে পণ্য রপ্তানির সুযোগ বৃদ্ধি, আঞ্চলিক সরবরাহব্যবস্থায় অংশগ্রহণ এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ। তবে সদস্যপদ পেলেই সব পণ্যে তাৎক্ষণিক শুল্কমুক্ত সুবিধা মিলবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। চুক্তির শর্ত, পণ্যের উৎপত্তি বিধি এবং সংশ্লিষ্ট দেশের বাণিজ্যনীতি অনুযায়ী সুবিধার পরিমাণ নির্ধারিত হবে।

 *জাপান-চীনের সঙ্গে এফটিএ আলোচনাও চলবে* 

বাণিজ্য সচিবের ভাষ্য অনুযায়ী, আরসিইপিতে যোগদানের প্রক্রিয়া চলার পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে। বিশেষ করে জাপানের সঙ্গে এফটিএ স্বাক্ষরের আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। আরসিইপিতে সদস্যপদ পাওয়ার আগেই জাপানের সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার সম্ভাবনাও দেখছে সরকার।

চীনের সঙ্গে সম্ভাব্য এফটিএ নিয়েও আলোচনা চলবে। আরসিইপিতে যোগদানের পর দ্বিপক্ষীয় চুক্তির মাধ্যমে অতিরিক্ত সুবিধা পাওয়ার সুযোগ থাকলে সেটিও বিবেচনায় নেওয়া হবে। অন্যদিকে, ভারতের সঙ্গে সেপা স্বাক্ষরের বিষয়ে আপাতত নতুন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না।

 *রপ্তানি বাড়ার সম্ভাবনা, সামনে শুল্ক সংস্কারের চাপ* 

অর্থনীতিবিদ ও রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি ইন্টিগ্রেশন ফর ডেভেলপমেন্টের (র‍্যাপিড) চেয়ারম্যান ড. আবদুর রাজ্জাক মনে করেন, বাংলাদেশের জন্য আরসিইপিতে যোগদানের উদ্যোগ যৌক্তিক হতে পারে। তবে এর সুফল পেতে হলে দেশের শুল্ক কাঠামোসহ বাণিজ্যনীতিতে প্রয়োজনীয় সংস্কার আনতে হবে। তাঁর মতে, বাংলাদেশের শুল্কহার আন্তর্জাতিক মানের তুলনায় বেশি হওয়ায় প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বাড়াতে এ ক্ষেত্রে পরিবর্তন জরুরি।

ভারতের সঙ্গে সেপা নিয়ে অগ্রগতি না হওয়ার পেছনে রাজনৈতিক বিবেচনা রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে নির্বাচনের পর রাজনৈতিক সরকারের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হবে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের ধারণা, আরসিইপিতে যুক্ত হতে পারলে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় প্রায় ৫০০ কোটি ডলার পর্যন্ত বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এ লক্ষ্য অর্জন নির্ভর করবে চুক্তির শর্ত, পণ্যের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা, বাজারে প্রবেশের সুযোগ এবং দেশের উৎপাদন ও রপ্তানি ব্যবস্থার প্রস্তুতির ওপর।

 *তৈরি পোশাক, বস্ত্র ও ওষুধশিল্পে নতুন সুযোগ* 

বাংলাদেশ-চীন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সাধারণ সম্পাদক আল মামুন মৃধার মতে, আরসিইপিতে যোগ দিতে পারলে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক, বস্ত্র, ওষুধসহ বিভিন্ন খাতের রপ্তানি সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং আঞ্চলিক উৎপাদনব্যবস্থার সঙ্গে বাংলাদেশের সংযোগ জোরদার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

বিশেষ করে স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের পর বাংলাদেশের জন্য আন্তর্জাতিক বাজারে বাণিজ্যিক সুবিধা ধরে রাখা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। এ পরিস্থিতিতে নতুন বাণিজ্য চুক্তি বাজার সম্প্রসারণে সহায়ক হতে পারে। তবে এলডিসি-পরবর্তী শুল্কসুবিধা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বজায় থাকবে না; সংশ্লিষ্ট দেশের সঙ্গে চুক্তি ও বাজারপ্রবেশের শর্তের ওপর তা নির্ভর করবে।

সব মিলিয়ে, আরসিইপিতে যুক্ত হওয়ার উদ্যোগ বাংলাদেশের বাণিজ্যনীতিতে নতুন দিক উন্মোচন করতে পারে। তবে সম্ভাবনাকে বাস্তব সুফলে রূপ দিতে শুল্ক সংস্কার, রপ্তানি পণ্যে বৈচিত্র্য, উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখার ওপর জোর দিতে হবে। একই সঙ্গে চুক্তির শর্তগুলো সতর্কতার সঙ্গে পর্যালোচনা করে দেশীয় শিল্পের স্বার্থ ও দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক লাভের মধ্যে ভারসাম্য নিশ্চিত করাও হবে সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ।

সর্বশেষ