‘ *দেশের সবচেয়ে বড় দুর্নীতিবাজরা সমাজের বড় নেতা’*
*উপশিরোনাম:* সৎ মানুষের নির্বাচনে দাঁড়ানোর সুযোগ নেই বলে মন্তব্য; সমাজব্যবস্থার পরিবর্তন ও সৎ নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ; তজুমদ্দিনে চাঁদাবাজি, মাস্তানি ও হয়রানি বন্ধের ঘোষণা--স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের।
সমাজে সৎ ও যোগ্য ব্যক্তিদের রাজনীতিতে আসার পরিবেশ তৈরি হয়নি। বিপরীতে, দুর্নীতিবাজরা গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্বে উঠে আসছেন বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
তিনি বলেন, দেশের বর্তমান সমাজব্যবস্থায় ভালো মানুষের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ সীমিত হয়ে পড়েছে। সৎ ব্যক্তিদের রাজনীতি করার অনুকূল পরিবেশ গড়ে তোলা যায়নি। তবে এ পরিস্থিতি স্থায়ী হবে না বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকেলে ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলা পরিষদ হলরুমে উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের আয়োজনে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
স্পিকার বলেন, ইথিওপিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের অবস্থান তুলনা করলে দেশের অগ্রগতির প্রশ্নে আত্মসমালোচনার প্রয়োজন রয়েছে। সমাজের সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যক্তিরা বড় নেতা হয়ে উঠছেন। এ জন্য সাধারণ মানুষকে দায়ী না করে তিনি বিদ্যমান সমাজব্যবস্থার পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।
আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলের সমালোচনা করে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ওই সময়ে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের ওপর নির্যাতন, মিথ্যা মামলা ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আয়নাঘর ও নির্যাতনকেন্দ্রের বিষয়গুলোও তখন সাধারণ মানুষের অজানা ছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, আওয়ামী লীগ প্রশাসন ও সামরিক বাহিনীর বিভিন্ন ক্ষেত্রেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছিল।
তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটেছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, দলটির শাসনামলে নিপীড়নের শিকার ব্যক্তিরা এ পরিস্থিতি থেকে মুক্তি চেয়েছিলেন। ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর দলটির নেতাদের বিদেশে সম্পদ রেখে দেশ ছাড়ার বিষয়টিও বক্তব্যে উল্লেখ করেন স্পিকার।
নিজের রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যপদ থেকে পদত্যাগ করে এখন সাধারণ সদস্য হিসেবে রয়েছেন। সংসদ পরিচালনায় নিরপেক্ষতা বজায় রাখার চেষ্টা করছেন বলেও জানান তিনি।
তজুমদ্দিনের স্থানীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে স্পিকার বলেন, কেউ জমি বা বাড়িঘর দখল করলে কিংবা সাধারণ মানুষকে হয়রানি করলে প্রথমে স্থানীয় নেতাদের জানাতে হবে। নেতাকর্মীদের কেউ এসব অনিয়মে জড়িত থাকলে তাঁকে সরাসরি অবহিত করার আহ্বান জানান তিনি। এলাকায় কোনো ধরনের মাস্তানি, চাঁদাবাজি ও অপকর্ম বরদাশত করা হবে না বলেও সতর্ক করেন।
অনুষ্ঠানে তজুমদ্দিন উপজেলা বিএনপির সভাপতি গোলাম মোস্তফা মিন্টুর সভাপতিত্বে সঞ্চালনা করেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক ওমর আসাদ রিন্টু। এ সময় বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শেষে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শারদীয় দুর্গাপূজার শুভেচ্ছা বিনিময় করেন স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম।
মতামত দিন