*সহপাঠীর মৃত্যুর প্রতিবাদে উত্তাল আইআইইউসি, অবরোধে ৫০ কিমি যানজট।*
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে সড়ক দুর্ঘটনায় আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামের (আইআইইউসি) এক শিক্ষার্থীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে উত্তাল হয়ে উঠেছে ক্যাম্পাস। নিরাপদ সড়ক ও আট দফা দাবিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক এবং রেলপথ অবরোধ করেন বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। প্রায় পাঁচ ঘণ্টার অবরোধে মহাসড়কের অন্তত ৫০ কিলোমিটার এলাকায় যানজট ছড়িয়ে পড়ে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েন যাত্রী ও পরিবহনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
নিহত শিক্ষার্থীর নাম মাইশা মুশফিরাত। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের দ্বিতীয় সেমিস্টারের শিক্ষার্থী ছিলেন। তাঁর বাড়ি মিরসরাই উপজেলার খৈয়াছড়া ইউনিয়নে। তিনি সাখাওয়াত হোসেন ও সালমা আক্তার দম্পতির মেয়ে।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকাল ৯টা ২০ মিনিটের দিকে সীতাকুণ্ডের কুমিরায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মাইশাসহ তিন শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি অনুষ্ঠানে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য ক্যাম্পাসে যাচ্ছিলেন। মহাসড়ক পার হওয়ার অপেক্ষায় থাকার সময় পেছন থেকে একটি দ্রুতগতির লরি ৮ নম্বর রুটের একটি লোকাল বাসকে ধাক্কা দেয়। এতে নিয়ন্ত্রণ হারানো বাসটি তিন শিক্ষার্থীকে চাপা দেয়।
গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁদের উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বেলা ১১টার দিকে মাইশার মৃত্যু হয়। আহত অপর দুই ছাত্রীর একজনের অবস্থাও আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
সহপাঠীর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসের সামনে মহাসড়ক অবরোধ করেন। একই সঙ্গে রেললাইনে গাছের গুঁড়ি ফেলে ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। এতে সড়ক ও রেল যোগাযোগে বিঘ্ন ঘটে। পরিস্থিতির কারণে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সব ধরনের ক্লাস স্থগিত ঘোষণা করে।
আন্দোলনকারীরা আট দফা দাবি তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে—বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে মামলা দায়ের, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বাস ও লরির চালককে গ্রেপ্তার এবং সংশ্লিষ্ট মালিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ, কেডিএস ডিপোর অবৈধ পার্কিং বন্ধ, ক্যাম্পাসের প্রধান ফটকের দুই পাশে ফুটওভারব্রিজ নির্মাণ, নিহতের পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদান, শিক্ষার্থীদের নিরাপদ পারাপারে নিরাপত্তা জোরদার, মহাসড়কে গতিরোধক স্থাপন এবং সরকারি জায়গা দখল করে রাখা দুটি প্রতিষ্ঠান উচ্ছেদ করে সড়ক প্রশস্ত করা।
আন্দোলনরত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী আরমান শাহরিয়ার সৌরভ বলেন, এই মহাসড়ক দিয়ে প্রতিদিন শত শত যানবাহন দ্রুতগতিতে চলাচল করে। অথচ ঝুঁকিপূর্ণ এই এলাকায় শিক্ষার্থীদের নিরাপদ পারাপারের জন্য কোনো ফুটওভারব্রিজ নেই। প্রধান ফটকের দুই পাশেও গতিরোধকের ব্যবস্থা করা হয়নি।
সীতাকুণ্ড মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহিনুল ইসলাম জানান, শিক্ষার্থীদের অবরোধের কারণে যান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে।
পাঁচ ঘণ্টা পর শিক্ষার্থীরা মহাসড়ক থেকে অবরোধ তুলে নেন। তবে তাঁদের দাবিগুলোর বাস্তবায়ন নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
মতামত দিন