*এক মাসেও মালিকের খোঁজ নেই, টাকা ফেরাতে পোশাকশ্রমিকের মাইকিং।*
*উপশিরোনাম:* কুড়িয়ে পাওয়া পাঁচ অঙ্কের অর্থ ফেরাতে এক হাজার টাকা খরচ, মালিকানা যাচাই করে টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত।
সড়কে কুড়িয়ে পাওয়া পাঁচ অঙ্কের টাকা প্রকৃত মালিককে ফিরিয়ে দিতে এক মাস ধরে চেষ্টা চালাচ্ছেন পোশাকশ্রমিক কবির মিয়া। বিভিন্নভাবে খোঁজ করেও মালিকের সন্ধান না পেয়ে শেষ পর্যন্ত নিজের এক হাজার টাকা খরচ করে এলাকায় মাইকিং করিয়েছেন তিনি।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) নরসিংদীর পলাশ উপজেলার ডাঙ্গা ইউনিয়ন ও ঘোড়াশাল পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় এ প্রচার চালানো হয়। কবির উপজেলার হাসনহাটা গ্রামের মো. আকবর আলীর ছেলে।
কবির জানান, গত ৩ অক্টোবর বিকেল পৌনে পাঁচটার দিকে কর্মস্থল থেকে ফেরার পথে ঘোড়াশাল-ডাঙ্গা সড়কের হাসনহাটা এলাকায় টাকাগুলো পড়ে থাকতে দেখেন তিনি। কুড়িয়ে পাওয়ার পর রাত ৯টা পর্যন্ত স্থানীয়দের সহায়তায় মালিকের খোঁজ করেন। পরে মসজিদের ইমামের পরামর্শে অপেক্ষা করতে থাকেন। প্রতিদিন সহকর্মী, অটোরিকশাচালক ও স্থানীয়দের কাছেও খোঁজ নেন। ঘটনার দিন প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের চরকা কারখানায় শ্রমিকদের বেতন দেওয়া হয়েছিল জানতে পেরে সেখানেও বিষয়টি জানান। কিন্তু এক মাসেও কেউ টাকা নিতে আসেননি।
শুক্রবারের মাইকিংয়ে টাকার সঠিক বিবরণ দিয়ে প্রকৃত মালিককে পূর্ব হাসনহাটার বাইতুন নূর জামে মসজিদের ইমামের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়। প্রচার করা হয় কবিরের মুঠোফোন নম্বরও। তবে কেউ টাকা দাবি করলে প্রকৃত মালিকানা নিশ্চিত হওয়ার জন্য তাঁকে টাকার পরিমাণ, নোটের ধরন ও অন্যান্য গোপনীয় বিবরণ জানাতে হবে। প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাইয়ের পরই টাকা ফেরত দেওয়া হবে।
কবির বলেন, ‘টাকাগুলো হয়তো কারও অনেক কষ্টের উপার্জন। অন্যের টাকা নিজের কাজে খরচ কিংবা দান করতে পারি না। আগামী সাত দিনের মধ্যে কেউ মালিকানা দাবি না করলে টাকাগুলো এতিমখানায় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
মসজিদের ইমাম নাজমুল হাসান বলেন, প্রকৃত মালিকের সন্ধান না পেয়ে কবির মাইকিংয়ের উদ্যোগ নিয়েছেন। অন্যের সম্পদ ফিরিয়ে দিতে তাঁর এই চেষ্টা সততার দৃষ্টান্ত।
মতামত দিন