• ২০২৬ ফেব্রুয়ারী ২৬, বৃহস্পতিবার, ১৪৩২ ফাল্গুন ১৪
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৮:০২ পূর্বাহ্ন
English
পরিচালনাপর্ষদ
আমাদের সাথে থাকুন আপনি ও ... www.timebanglanews.com

সাংঘাতিকদের কারণে সাংবাদিকরা কোণঠাসা

  • প্রকাশিত ০৮:০২ পূর্বাহ্ন বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারী ২৬, ২০২৬
সাংঘাতিকদের কারণে সাংবাদিকরা কোণঠাসা
file
হাসিনুর রহমান হাসু। টাইম বাংলা নিউজ ডেস্ক।

সাংবাদিকতা সমাজের দর্পণ—এটি শুধু একটি পেশা নয়, বরং সত্য, ন্যায় ও জনস্বার্থ রক্ষার এক মহান অঙ্গীকার। আদর্শ সাংবাদিকতার মূল ভিত্তি হলো সততা, নিরপেক্ষতা ও সাহসিকতা। কিন্তু দুঃখজনকভাবে কিছু অপেশাদার ও নীতিহীন ব্যক্তির কর্মকাণ্ডের কারণে আজ এই পবিত্র পেশা প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে।

কেউ কেউ ক্ষমতার কাছাকাছি থাকতে গিয়ে নীতি-আদর্শ বিসর্জন দেন, তোষামোদকে পেশা মনে করেন। অথচ সাংবাদিকতার আসল শক্তি স্বাধীনতা ও জবাবদিহিতায়। সত্যের পক্ষে দাঁড়ানোই একজন প্রকৃত সাংবাদিকের পরিচয়—কোনো গোষ্ঠী বা স্বার্থের মুখপাত্র হওয়া নয়।

বর্তমান সময়ে সোশ্যাল মিডিয়া ও ইউটিউবভিত্তিক কনটেন্ট তৈরির প্রসার ঘটেছে। এটি ইতিবাচক দিক হলেও পেশাদার সাংবাদিকতা ও সাধারণ কনটেন্ট নির্মাতার মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে অনেক ক্ষেত্রেই এই সীমারেখা অস্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ফলে সাধারণ পাঠক-দর্শক বিভ্রান্ত হচ্ছেন—কে প্রকৃত সাংবাদিক, আর কে কেবল পরিচয় ব্যবহার করছেন, তা বোঝা কঠিন হয়ে পড়ছে।

কিছু ব্যক্তি ‘সাংবাদিক’ পরিচয়কে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছেন। যখন তারা ধরা পড়েন, তখন পুরো সাংবাদিক সমাজই প্রশ্নের মুখে পড়ে। এতে প্রকৃত, সৎ ও পেশাদার সাংবাদিকদের সম্মান ক্ষুণ্ন হয়—যারা নিষ্ঠা ও ত্যাগের মাধ্যমে সমাজের জন্য কাজ করে চলেছেন।

এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য প্রয়োজন সুস্পষ্ট নীতিমালা, কার্যকর তদারকি এবং পেশাদার সংগঠনগুলোর সক্রিয় ভূমিকা। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সাংবাদিক সংগঠনগুলোর সমন্বিত উদ্যোগে নিবন্ধন, পরিচয় যাচাই ও নৈতিক মানদণ্ড কঠোরভাবে প্রয়োগ করা জরুরি। পাশাপাশি গণমাধ্যম-সচেতনতা বৃদ্ধি করে পাঠকদেরও সচেতন করতে হবে।

অন্যথায় অপেশাদার ও তোষামোদনির্ভর চর্চা বাড়তেই থাকবে, আর প্রকৃত সাংবাদিকরা কোণঠাসা হয়ে পড়বেন। সাংবাদিকতার মর্যাদা ও বিশ্বাসযোগ্যতা রক্ষায় এখনই সময় সঠিক পদক্ষেপ নেওয়ার।


সর্বশেষ