• ২০২৬ Jun ২১, রবিবার, ১৪৩৩ আষাঢ় ৭
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৯:০৬ অপরাহ্ন
English
পরিচালনাপর্ষদ
আমাদের সাথে থাকুন আপনি ও ... www.timebanglanews.com

বাংলাদেশিদের টার্গেট করে অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়। অপরাধ চক্রের প্রধান চিকনা রিপন গ্রেপ্তার।

  • প্রকাশিত ১০:০৬ অপরাহ্ন রবিবার, Jun ২১, ২০২৬
বাংলাদেশিদের টার্গেট করে অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়। অপরাধ চক্রের প্রধান  চিকনা রিপন গ্রেপ্তার।
file
হাসিনুর রহমান হাসু। টাইম বাংলা নিউজ ডেস্ক।

সৌদি আরবের জেদ্দা শহরে গোয়েন্দা পুলিশের এক বিশেষ অভিযানে বাংলাদেশি এক ভয়ংকর অপরাধচক্রের প্রধান রিপন হোসেন (ওরফে চিকনা রিপন) গ্রেপ্তার হয়েছে। অভিযানে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসী বাংলাদেশিদের টার্গেট করে অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের সঙ্গে জড়িত ছিল এই চক্রটি।

জানা যায়, রিপন হোসেন সৌদি আরবের রিয়াদ, জেদ্দা ও তাবুকসহ বিভিন্ন শহরে সক্রিয় একটি সংঘবদ্ধ চক্র পরিচালনা করত। তারা মূলত প্রবাসী বাংলাদেশি শ্রমিকদের লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে বিভিন্ন কৌশলে অপহরণ করে নির্জন স্থানে আটকে রাখত এবং পরিবারের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ দাবি করত।

ভুক্তভোগীদের পরিবারের সঙ্গে ভিডিও কলে যোগাযোগ করে নির্যাতনের দৃশ্য দেখিয়ে ভয়ভীতি সৃষ্টি করা হতো বলে অভিযোগ রয়েছে। মুক্তিপণ দিতে বিলম্ব হলে নির্যাতনের মাত্রা আরও বাড়ানো হতো। অনেককে দীর্ঘ সময় ধরে অমানবিক অবস্থায় আটকে রাখা হতো এবং পর্যাপ্ত খাবার বা চিকিৎসা দেওয়া হতো না।

সৌদি গোয়েন্দা পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, কিছু ভুক্তভোগী গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং কেউ কেউ মৃত্যুবরণও করেছেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। এ ধরনের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে রিপনের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অপরাধের প্রমাণ মিলেছে বলে জানা গেছে।

দীর্ঘদিন নজরদারির পর গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জেদ্দায় তার ভাড়া বাসায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়েছে, যা তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

বর্তমানে রিপন হোসেনকে কঠোর নিরাপত্তায় পুলিশি হেফাজতে রাখা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি তার অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিষয়ে কিছু তথ্য স্বীকার করেছেন বলে জানা গেছে। খুব শিগগিরই তাকে সৌদি আদালতে হাজির করা হবে।

এদিকে, তার বাংলাদেশের স্থায়ী ঠিকানা, সংশ্লিষ্ট জেলা এবং পারিবারিক পরিচয় নিশ্চিত করতে তদন্ত চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। পুরো চক্রের অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


সর্বশেষ