• ২০২৬ মার্চ ২৯, রবিবার, ১৪৩২ চৈত্র ১৪
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৪:০৩ পূর্বাহ্ন
English
পরিচালনাপর্ষদ
আমাদের সাথে থাকুন আপনি ও ... www.timebanglanews.com

নরসিংদীতে অনুমোদনহীন ক্লিনিক ও তাই ডায়াগনিকস্টিক সেন্টার রমরমা ব্যবসা বিপন্ন জনস্বাস্থ্য

  • প্রকাশিত ০৪:০৩ পূর্বাহ্ন রবিবার, মার্চ ২৯, ২০২৬
নরসিংদীতে অনুমোদনহীন ক্লিনিক ও তাই ডায়াগনিকস্টিক সেন্টার রমরমা ব্যবসা বিপন্ন জনস্বাস্থ্য
Time Bangla news
আক্তারুজ্জামান বাবু

নরসিংদীতে অনুমোদনহীন ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের রমরমা ব্যবসা: বিপন্ন জনস্বাস্থ্য


​নরসিংদী আক্তারুজ্জামান বাবু জেলা প্রতিনিধি 


​নরসিংদী জেলাজুড়ে ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠেছে অসংখ্য প্রাইভেট ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার। এর মধ্যে অনেক প্রতিষ্ঠানেরই নেই বৈধ লাইসেন্স কিংবা নিজস্ব নিবন্ধিত চিকিৎসক। সাইনবোর্ডে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নাম ব্যবহার করে রোগীদের আকৃষ্ট করা হলেও বাস্তবে সেখানে সেবা দিচ্ছেন অদক্ষ ও অপ্রশিক্ষিত জনবল। ফলে প্রতিনিয়ত ভুল চিকিৎসার শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ।

​দালাল চক্রের সিন্ডিকেট ও কমিশন বাণিজ্য

​অনুসন্ধানে জানা গেছে, নরসিংদী সদর হাসপাতাল ও জেলা হাসপাতালকে ঘিরে একটি শক্তিশালী দালাল চক্র সক্রিয়। প্রতিদিন সকালে এই চক্রটি হাসপাতালের গেটে ও টিকিট কাউন্টারে অবস্থান নেয়। সহজ-সরল রোগীদের নানা প্রলোভন দেখিয়ে তারা নির্দিষ্ট কিছু প্রাইভেট ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে যায়। এই কমিশন বাণিজ্যের পেছনে ক্লিনিক মালিকদের সঙ্গে দালালের সরাসরি যোগসাজশ রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এমনকি সরকারি হাসপাতালের কিছু অসাধু কর্মচারীর বিরুদ্ধেও রোগী রেফার করার বিনিময়ে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

​৫ ই আগস্টের পর 

​নরসিংদীর বর্তমান সিভিল সার্জন ডা. সৈয়দ আমিরুল ইসলাম শামীম দায়িত্ব নেওয়ার পর জেলার স্বাস্থ্যসেবায় আমূল পরিবর্তনের আশা করেছিল স্থানীয়রা। তবে বাস্তবে দৃশ্যপট ভিন্ন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সূত্র দাবি করেছে, জেলার বিভিন্ন ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে মাসোহারা আদায়ের যে সংস্কৃতি তা এখনো বন্ধ হয়নি। যদিও সিভিল সার্জন ব্যক্তিগতভাবে সজ্জন ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত, তবে প্রশাসনিক কঠোরতার অভাবে অবৈধ প্রতিষ্ঠানগুলো এখনো বহাল তবিয়তে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, দাপ্তরিক কাজের চেয়ে তিনি সভা-সেমিনার ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে বেশি মনোযোগী হওয়ায় মাঠ পর্যায়ের তদারকি ঝিমিয়ে পড়েছে। অবশেষে তিনি ব্যর্থতার দায়ে বদলি হয়েছেন । জেলা হাসপাতালে তত্ত্বাবধায়ক ডাক্তার মিজানুর রহমান তিনিও দীর্ঘদিন যাবত দায়িত্বে আছেন জেলা হাসপাতালে চলছে ঝিমিয়ে ঝিমিয়ে আড়াইশো শয্যার একটি হাসপাতাল দীর্ঘদিন যাবৎ নির্মাণ হয়েছে কিন্তু তদারকির অভাবে আলোর মুখ দেখছেনা ।

​স্বাস্থ্যমন্ত্রীর তৎপরতা ও নতুন আশার আলো

​সারাদেশের ন্যায় নরসিংদীতেও স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কড়া নির্দেশনায় দালাল বিরোধী অভিযান শুরু হয়েছে। এতে অনেক ক্ষেত্রে চিকিৎসকদের কর্মস্থলে উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়েছে। নরসিংদীর কৃতি সন্তান,  সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা সরদার সাখাওয়াত হোসেন  (বকুল)-এর সরাসরি তদারকি ও স্বাস্থ্য খাতের সংস্কার প্রচেষ্টাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন সাধারণ মানুষ। তবে তৃণমূল পর্যায়ে অনিয়ম রোধে স্থানীয় স্বাস্থ্য প্রশাসনের আরও কঠোর হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

​একটি বৈধ ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার স্থাপনের প্রয়োজনীয় শর্তাবলী:

​স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের (DGHS) নিয়ম অনুযায়ী একটি বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান পরিচালনার জন্য নিম্নোক্ত নথিপত্র ও শর্ত পূরণ বাধ্যতামূলক:

​অনলাইন আবেদন ও নিবন্ধন: স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পোর্টাল থেকে প্রাপ্ত বৈধ লাইসেন্স।

​বিএমডিসি সনদ: বাংলাদেশ মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিল (BMDC) কর্তৃক নিবন্ধিত পূর্ণকালীন চিকিৎসক।

​পরিবেশ ছাড়পত্র: পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে প্রাপ্ত অনাপত্তিপত্র।

​ট্রেড লাইসেন্স: স্থানীয় পৌরসভা বা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে প্রাপ্ত হালনাগাদ লাইসেন্স।

​ট্যাক্স ও ভ্যাট সনদ: টিন (TIN) সার্টিফিকেট ও ভ্যাট রেজিস্ট্রেশন।

​নার্স ও টেকনিশিয়ান: সরকারি স্বীকৃতিপ্রাপ্ত নার্স ও ল্যাব টেকনিশিয়ানের নিয়োগপত্র ও সনদ।

​অগ্নি নির্বাপক সনদ: ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ছাড়পত্র।

​বর্জ্য ব্যবস্থাপনা: হাসপাতালের বর্জ্য অপসারণের জন্য নির্দিষ্ট চুক্তি ও ব্যবস্থা।

​নরসিংদীর বর্তমান চিত্র:

​সদ্য সমাপ্ত একটি জরিপ ও সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, নরসিংদী জেলায় লাইসেন্সপ্রাপ্ত বৈধ ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সংখ্যা প্রায় ১২০টি (সংখ্যাটি সর্বশেষ তালিকা অনুযায়ী পরিবর্তনশীল)। তবে অভিযোগ রয়েছে, এর বাইরেও অন্তত ৫০-৬০টি প্রতিষ্ঠান আবেদন প্রক্রিয়াধীন রেখে বা কোনো অনুমোদন ছাড়াই কার্যক্রম পরিচালনা করছে। অনেক প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্সের মেয়াদ গত ২-৩ বছর ধরে নবায়ন করা হয়নি।

​উপসংহার:

নরসিংদীর স্বাস্থ্যখাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে দ্রুত অভিযান চালিয়ে অবৈধ ক্লিনিকগুলো সিলগালা করা এবং দালাল চক্রকে আইনের আওতায় আনা এখন সময়ের দাবি। জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি কমাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জোরালো ভূমিকা প্রত্যাশা করছে নরসিংদীবাসী।

 নরসিংদী জেলায় প্রায় ২৫০টি প্রাইভেট হাসপাতাল ক্লিনিক ডায়গনিক সেন্টার রয়েছে এর মধ্যে সরকারি পোর্টালে ৫৯টি নিবন্ধিত বাকিগুলো সরকারি নিবন্ধন পাওয়া যায়নি তবে একটি তথ্য বলেছে প্রায় একশ নিবন্ধন এবং আবেদন করিস না ।ক্লিনিক বর্জ্য যেখানে সেখানে ফেলাচ্ছে পরিবেশ দূষণ হচ্ছে ।

এখানে আওয়ামী লীগের একটি সিন্ডিকেট এখনো কাজ করছে নরসিংদী জেলা প্রাইভেট হাসপাতাল মালিক সমিতি আওয়ামী লীগের দখলে তারা বিভিন্ন ক্লিনিক থেকে চাঁদ উঠিয়ে এগুলো ম্যানেজ করে ।

নরসিংদীর কৃতি সন্তান স্বাস্থ্যমন্ত্রী বকুল একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার তিনি কারো কাছে মাথা নত করবেন না আওয়ামী লীগের সিন্ডিকেট ভেঙে দিবেন বলে আশা করছেন নরসিংদীবাসী ।

সর্বশেষ