বাংলাদেশীদের অপরাধ করাই যেন পেশা! প্রবাসেও অপরাধের স্বর্গরাজ্য। দুই মাস ডিপ ফ্রিজে রত্নার নিথর দেহ—সত্য উদঘাটনের অপেক্ষায় এক হৃদয়বিদারক ঘটনা।
অভিযোগ অনুযায়ী, সৌদি আরবের রিয়াদের মারগাব এলাকার একটি বাসায় টানা দুই মাস ধরে ডিপ ফ্রিজে রাখা ছিল প্রবাসী বাংলাদেশি নারী রত্নার নিথর দেহ। ঘটনাটি শুধু মর্মান্তিকই নয়, বরং নানা প্রশ্নেরও জন্ম দিয়েছে।
বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হচ্ছে, আতিকুর নামের এক ব্যক্তি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানিয়েছেন যে রত্না আত্মহত্যা করেছেন। তার ভাষ্যমতে, ভয়ে তিনি বিষয়টি কাউকে না জানিয়ে মরদেহটি ডিপ ফ্রিজে রেখে দেন। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে—যদি সেটিই সত্য হয়, তবে পাঁচ বা দশ দিন নয়, টানা দুই মাস একটি মরদেহ গোপন করে রাখা হলো কেন?
আরও অভিযোগ রয়েছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে ধরা পড়ার আগেই আতিকুরকে একটি চক্র নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়। একই সঙ্গে এমন দাবিও উঠেছে যে, সেই চক্রের সদস্যরাই পরে পুলিশকে খবর দিয়ে মরদেহ উদ্ধারের পথ তৈরি করে। এসব অভিযোগের সত্যতা অবশ্যই নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই হওয়া জরুরি।
এই ঘটনার পর স্বাভাবিকভাবেই কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এসেছে—
* এটি কি সত্যিই আত্মহত্যার ঘটনা, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো অপরাধ লুকিয়ে আছে?
* আতিকুরকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগের পেছনে কারা রয়েছে এবং তাদের উদ্দেশ্য কী?
* অভিযোগে উঠে আসা অপরাধী চক্রের সঙ্গে মাদক বা অন্যান্য অপরাধের কোনো যোগসূত্র আছে কি?
* ঘটনার নেপথ্যে কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তি বা সংগঠিত চক্র জড়িত কি না?
প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বের করা এখন তদন্তকারী সংস্থার দায়িত্ব। সত্য গোপন রেখে কোনো সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়।
একই সঙ্গে প্রবাসে বসবাসকারী কিছু বাংলাদেশির বিরুদ্ধে মানবপাচার, দেহব্যবসা, অপহরণ, মুক্তিপণ আদায় এবং অন্যান্য সংঘবদ্ধ অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগও সময়ে সময়ে সামনে আসে। তবে এসব অভিযোগে জড়িত ব্যক্তি বা চক্রকে বিচারের আওতায় আনতে হবে প্রমাণ ও আইনি প্রক্রিয়ার ভিত্তিতে। কোনো অপরাধই পুরো প্রবাসী বাংলাদেশি সমাজের পরিচয় হতে পারে না; কারণ অসংখ্য প্রবাসী সৎ পরিশ্রম ও সততার মাধ্যমে দেশের সম্মান বৃদ্ধি করে চলেছেন।
আমরা চাই, রত্নার মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য উদঘাটিত হোক, দোষী যে-ই হোক না কেন আইনের আওতায় আসুক, আর নির্দোষ কেউ যেন হয়রানির শিকার না হন। ন্যায়বিচারই হোক এই ঘটনার একমাত্র পরিণতি।
মতামত দিন