• ২০২৬ অগাস্ট ০২, রবিবার, ১৪৩৩ শ্রাবণ ১৮
  • সর্বশেষ আপডেট : ০১:০৮ অপরাহ্ন
English
পরিচালনাপর্ষদ
আমাদের সাথে থাকুন আপনি ও ... www.timebanglanews.com

কথিত সন্ত্রাসী চক্রের গোপন আস্তানায় ডিবির অভিযান, অস্ত্র-মাদকসহ গ্রেপ্তার ৩

  • প্রকাশিত ০১:০৮ অপরাহ্ন রবিবার, অগাস্ট ০২, ২০২৬
কথিত সন্ত্রাসী চক্রের গোপন আস্তানায় ডিবির অভিযান, অস্ত্র-মাদকসহ গ্রেপ্তার ৩
Time Bangla news
রাকিবুল ইসলাম রবিন, শেরপুর উপজেলা প্রতিনিধি।

কথিত সন্ত্রাসী চক্রের গোপন আস্তানায় ডিবির অভিযান, অস্ত্র-মাদকসহ গ্রেপ্তার ৩


বগুড়া সদর উপজেলার ঠেঙ্গামারা এলাকায় করতোয়া নদীর তীরবর্তী জঙ্গলঘেরা একটি দুর্গম স্থানে অভিযান চালিয়ে কথিত একটি সন্ত্রাসী চক্রের গোপন আস্তানা উচ্ছেদ করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। এ সময় চক্রের কথিত প্রধানসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি বিদেশি রিভলবার, দেশীয় অস্ত্র, মাদকদ্রব্য, নগদ টাকা এবং নির্যাতনে ব্যবহারের অভিযোগ থাকা একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বৈদ্যুতিক শকার উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ডিবি পুলিশ সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে করতোয়া নদীর তীরে একটি পেপার মিল ও টিএমএসএস কারখানার পেছনের নির্জন এলাকায় তাঁবু ও পলিথিন দিয়ে তৈরি অস্থায়ী আস্তানায় অবস্থান করে একটি সংঘবদ্ধ চক্র বিভিন্ন ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছিল। পুলিশের দাবি, চক্রটি মাদক কারবারের পাশাপাশি অপহরণ, ভয়ভীতি প্রদর্শন, নির্যাতন এবং জিম্মি করে অর্থ আদায়ের মতো অপরাধের সঙ্গে জড়িত ছিল।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদের সার্বিক নির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে ডিবি পুলিশের একটি বিশেষ দল শনিবার (২ আগষ্ট) গভীর রাতে ওই এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। কয়েক ঘণ্টাব্যাপী অভিযানে চক্রের কথিত প্রধান রকি, তাঁর সহযোগী রাকিবসহ তিনজনকে আটক করা হয়। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে আরও পাঁচ থেকে সাতজন সদস্য করতোয়া নদী সাঁতরে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয় বলে জানিয়েছে ডিবি।

অভিযানে ঘটনাস্থল থেকে একটি বিদেশি রিভলবার, তিনটি চায়নিজ কুড়াল, একটি ধারালো চাপাতি, কয়েকটি দেশীয় অস্ত্র, বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য, মাদক বিক্রির নগদ অর্থ এবং প্রায় ২৫ হাজার ভোল্ট ক্ষমতাসম্পন্ন একটি বৈদ্যুতিক শকার উদ্ধার করা হয়। পুলিশের ভাষ্য, অপহরণ করে আনা ব্যক্তিদের ভয়ভীতি প্রদর্শন ও শারীরিক নির্যাতনের কাজে শকারটি ব্যবহার করা হতো।

ডিবি পুলিশের ইনচার্জ ইন্সপেক্টর ইকবাল বাহার জানান, গ্রেপ্তার হওয়া রকি ও রাকিবের বিরুদ্ধে অস্ত্র, মাদক এবং ফেনসিডিল-সংক্রান্ত একাধিক মামলা রয়েছে। তাঁরা পূর্বেও গ্রেপ্তার হয়ে জামিনে মুক্তি পেয়েছিলেন। পরবর্তীতে লোকালয় ছেড়ে নদীর তীরবর্তী দুর্গম এলাকায় গোপন আস্তানা গড়ে পুনরায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।

তিনি আরও বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। একই সঙ্গে পালিয়ে যাওয়া অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে ডিবি পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। উদ্ধার হওয়া অস্ত্র, মাদক ও অন্যান্য আলামত পরীক্ষার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে বলেও তিনি জানান।

পুলিশের দাবি, এ অভিযানের মাধ্যমে এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় একটি সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের কার্যক্রমে বড় ধরনের ধাক্কা দেওয়া সম্ভব হয়েছে। তবে মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো তদন্তাধীন বিষয় হিসেবে বিবেচিত হবে।

সর্বশেষ