• ২০২৬ অগাস্ট ০৫, বুধবার, ১৪৩৩ শ্রাবণ ২১
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৫:০৮ অপরাহ্ন
English
পরিচালনাপর্ষদ
আমাদের সাথে থাকুন আপনি ও ... www.timebanglanews.com

অভিজিতের তোপের মুখে তসলিমা নাসরিন, বললেন আমরা আলাদা

  • প্রকাশিত ০৫:০৮ অপরাহ্ন বুধবার, অগাস্ট ০৫, ২০২৬
অভিজিতের তোপের মুখে তসলিমা নাসরিন, বললেন আমরা আলাদা
File
রেজাউল ইসলাম আশিক

বাংলাদেশে সরকারবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মাধ্যমে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দেশটির রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে নির্বাসিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন ও ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রধান অভিজিৎ দীপকের মধ্যে তীব্র মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে একে অপরের বক্তব্যের জবাব দিতে গিয়ে দুজনই নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেছেন। ভারতের সংবাদমাধ্যম জিনিউজ বাংলা এ খবর জানিয়েছে।

সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তসলিমা নাসরিন দাবি করেন, বাংলাদেশে যে আন্দোলনকে ছাত্রদের অধিকার ও স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন হিসেবে তুলে ধরা হয়েছিল, তার নেপথ্যে ছিল ভিন্ন একটি এজেন্ডা। তার ভাষ্য, আন্দোলনের প্রকৃত উদ্দেশ্য আড়ালে পড়ে গিয়ে ধর্মান্ধ ও মৌলবাদী শক্তির উত্থান ঘটেছে। তিনি আরও মন্তব্য করেন, আন্দোলনের শুরুতে যারা এটিকে সমর্থন করেছিলেন, তারা শেষ পর্যন্ত প্রতারিত বা ‘বোকা বনে গেছেন’। কারণ আন্দোলনের পরিণতি সম্পর্কে সাধারণ মানুষ ও প্রগতিশীল সমাজ যে প্রত্যাশা করেছিল, বাস্তবে তার উল্টো ঘটেছে। তসলিমার এই মন্তব্যের জবাব দিয়ে সামাজিক মাধ্যমে সরব হন সিজেপি প্রধান অভিজিৎ দীপক। তিনি তসলিমার অবস্থানের তীব্র সমালোচনা করে লেখেন, আমরা আলাদা।

দীপকের মতে, কোনও দেশের নাগরিক আন্দোলনকে কেবল একপেশে বা মৌলবাদী দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে বিচার করা ঠিক নয়। তার যুক্তি, আন্দোলনের একাংশের রাজনৈতিক পরিণতি বা চরমপন্থী গোষ্ঠীর সুযোগ নেওয়া মানেই এই নয় যে, অধিকার প্রতিষ্ঠার মূল লড়াইটি ভুল বা অসৎ ছিল।

তিনি আরও বলেন, ভারতে বৈষম্য, স্বৈরাচার বা অগণতান্ত্রিকতার বিরুদ্ধে যেসব আন্দোলন হয়, সেগুলো ভিন্ন নীতি ও সাংবিধানিক মূল্যবোধের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়। এছাড়া বাংলাদেশ বা অন্য কোনও দেশের নির্দিষ্ট আন্দোলন ব্যর্থ হয়েছে বা মৌলবাদের দিকে গেছে এমন অভিযোগের দায় সব প্রগতিশীল বা অধিকারকামী মানুষের ওপর চাপিয়ে দেওয়াও অনুচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি। এদিকে, দুই ব্যক্তির এই মতবিরোধ সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। একাংশের নেটিজেন তসলিমা নাসরিনের আশঙ্কার সঙ্গে একমত হয়ে দাবি করছেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে বাংলাদেশে সহিংসতা ও ধর্মীয় বৈষম্য বেড়েছে।

অন্যদিকে অনেকেই অভিজিৎ দীপকের বক্তব্যকে সমর্থন করে বলছেন, নাগরিক আন্দোলনের মূল লক্ষ্য গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষা করা। কেউ রাজনৈতিক সুবিধা নিলেই পুরো গণআন্দোলনকে প্রতারণা বা ভুয়া বলে আখ্যায়িত করা আন্দোলনকারীদের আত্মত্যাগের প্রতি অবিচার।

সর্বশেষ