• ২০২৬ অগাস্ট ০৯, রবিবার, ১৪৩৩ শ্রাবণ ২৫
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৪:০৮ অপরাহ্ন
English
পরিচালনাপর্ষদ
আমাদের সাথে থাকুন আপনি ও ... www.timebanglanews.com

বহিষ্কৃত গাজী নজরুলও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন: শিশির মনির

  • প্রকাশিত ০৪:০৮ অপরাহ্ন রবিবার, অগাস্ট ০৯, ২০২৬
বহিষ্কৃত গাজী নজরুলও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন: শিশির মনির
জামায়াত নেতা ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। ছবি: টাইম বাংলা নিউজ
বিশেষ প্রতিনিধি মোঃ রুহুল আমিন

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দল থেকে বহিষ্কৃত হলেও সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করায় গাজী নজরুল ইসলাম ভোট দিতে পারবেন বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর নেতা ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। একই সঙ্গে তিনি জামায়াতের রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী ঘোষণা গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে একটি নতুন বার্তা বহন করছে বলেও মন্তব্য করেন।

রোববার (৯ আগস্ট) রাজধানীর হাইকোর্টের অ্যানেক্স ভবনে গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন নিয়ে আয়োজিত এক মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ এবং সংসদ সদস্যদের ভোটাধিকার নিয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন তিনি।

শিশির মনির বলেন, গাজী নজরুল ইসলাম বর্তমানে সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ফলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সাংবিধানিক অধিকার তার রয়েছে। দলীয় অবস্থান বা বহিষ্কারের বিষয়টি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগে বাধা হয়ে দাঁড়াবে না বলেও তিনি মত দেন।

তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ঘোষণা দেশের গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে নতুন একটি বার্তা দিয়েছে। দীর্ঘদিন পর রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক দলগুলোর সক্রিয় অংশগ্রহণ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে আরও শক্তিশালী করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে সামনে রেখে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ নিয়েও আলোচনা হয়। এ প্রসঙ্গে শিশির মনির বলেন, সংবিধানের বিধান এবং সংসদ সদস্যদের সাংবিধানিক দায়িত্বের বিষয়টি যথাযথভাবে বিবেচনা করেই ভোটাধিকার প্রয়োগের বিষয়টি নির্ধারিত হবে।

গুম প্রতিরোধ আইনের খসড়া নিয়ে সমালোচনা

এদিকে, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশকে আইনে পরিণত করতে সরকারের অনুমোদিত নতুন খসড়ারও সমালোচনা করেন মোহাম্মদ শিশির মনির। তিনি অভিযোগ করেন, নতুন খসড়াটি আন্তর্জাতিক মানদণ্ড থেকে পিছিয়ে গেছে এবং এতে কার্যকর তদন্তের ক্ষেত্রে বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তার দাবি, প্রস্তাবিত আইনে গুমের অভিযোগ তদন্তের দায়িত্ব পুলিশের ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে গুম-সংক্রান্ত তথ্যভান্ডার সংরক্ষণের দায়িত্বও সরকারের হাতে রাখা হয়েছে। এতে তদন্তের স্বাধীনতা এবং তথ্য প্রকাশের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।

তিনি বলেন, গুমের মতো গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় তদন্ত সম্পূর্ণ স্বাধীন ও নিরপেক্ষ হওয়া প্রয়োজন। কিন্তু প্রস্তাবিত আইনের কয়েকটি বিধান সেই লক্ষ্য পূরণে যথেষ্ট নয়।

শিশির মনিরের মতে, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আইনটি আরও পর্যালোচনা ও সংশোধন করা উচিত। পাশাপাশি ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে একটি স্বাধীন তদন্ত কাঠামো গড়ে তোলার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি বলেন, গুম-সংক্রান্ত মামলার তদন্ত, তথ্য সংরক্ষণ এবং জবাবদিহির বিষয়গুলো আরও শক্তিশালী না করা হলে আইনটির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাবে।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন এবং গুম প্রতিরোধ আইন—দুই গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে শিশির মনিরের এসব বক্তব্য রাজনৈতিক ও আইন অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। বিশেষ করে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বহিষ্কৃত হলেও সংসদ সদস্যদের ভোটাধিকার এবং গুম প্রতিরোধ আইনের খসড়া নিয়ে তার মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সর্বশেষ