জনশুনানিতে কুকুরের মুখোশ পরে ভারতের সরকারি অফিসে হাজির এক ব্যক্তি।
সরকারি দপ্তরে অভাব-অভিযোগের শুনানিতে সাধারণত মানুষ নিজেদের নানা দুর্দশার কথা জানাতে আসেন। কিন্তু ভারতের মধ্যপ্রদেশের খাণ্ডোয়া জেলার কালেক্টরেট অফিসে ঘটে গেল এক ব্যতিক্রমী ঘটনা। মঙ্গলবার সেখানে কুকুরের মুখোশ পরে হাজির হন এক ব্যক্তি, যা মুহূর্তেই সবার নজর কাড়ে। মূলত খাণ্ডোয়া শহরের পৌর নিগমের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলতেই এই অভিনব প্রতিবাদের আশ্রয় নেওয়া হয়।
এই অদ্ভুত প্রতিবাদ কর্মসূচিতে কুকুরের মুখোশ পরা ওই ব্যক্তির সঙ্গী হয়েছিলেন খাণ্ডোয়া পৌর নিগমের বিরোধী দলনেতা দীপক 'মুল্লু' রাঠোর। তিনি এই অভিনব উপায়ের মাধ্যমে বেওয়ারিশ কুকুর বন্ধ্যাকরণ কর্মসূচিতে ঘটা ব্যাপক দুর্নীতির দিকে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করার চেষ্টা করেন।
বিরোধী দলনেতা দীপক রাঠোরের অভিযোগ, বেওয়ারিশ কুকুর বন্ধ্যাকরণের নামে পৌর নিগম লাখ লাখ টাকার আর্থিক অনিয়ম করেছে। তার দাবি, এই বন্ধ্যাকরণ কর্মসূচি বাস্তবে নয়, কেবল কাগজ-কলমেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। এর জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি তহবিলের বিপুল অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। প্রচুর টাকা খরচের পরও। শহরে বেওয়ারিশ কুকুরের উপদ্রব এতটুকু কমেনি।
মঙ্গলবার জনশুনানি চলাকালীন কুকুরের মুখোশ পরা ওই প্রতিবাদীকে প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সামনে নিয়ে যান রাঠোর। কালেক্টরেট অফিসে উপস্থিত সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে সরকারি কর্মকর্তা সবারই মনোযোগ কাড়ে এই দৃশ্য। মুহূর্তের মধ্যেই এই অভিনব প্রতিবাদের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।
এদিকে, জেলা প্রশাসন এই অভিযোগ বেশ গুরুত্বের সঙ্গেই নিয়েছে এবং দ্রুত তদন্তের আশ্বাস দিয়েছে। অতিরিক্ত কালেক্টর কাশী রাম জানান, জনশুনানিতে কুকুর বন্ধ্যাকরণ কেন্দ্রের কার্যক্রম ও দুর্নীতি সংক্রান্ত অভিযোগটি তারা গ্রহণ করেছেন। পুরো ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করা হবে এবং কোনো অনিয়ম প্রমাণিত হলে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সূত্র: এনডিটিভি
মতামত দিন