• ২০২৬ অগাস্ট ২৫, মঙ্গলবার, ১৪৩৩ ভাদ্র ১০
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৮:০৮ অপরাহ্ন
English
পরিচালনাপর্ষদ
আমাদের সাথে থাকুন আপনি ও ... www.timebanglanews.com

ময়মনসিংহে ইনচার্জসহ ২৭ পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্য বদলি, কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা

  • প্রকাশিত ১০:০৮ অপরাহ্ন মঙ্গলবার, অগাস্ট ২৫, ২০২৬
ময়মনসিংহে ইনচার্জসহ ২৭ পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্য বদলি, কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা
Time Bangla news
ইমন সরকার ময়মনসিংহ জেলা প্রতিনিধি

ময়মনসিংহে ইনচার্জসহ ২৭ পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্য বদলি, কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা


ময়মনসিংহ নগরীর কোতোয়ালি মডেল থানার অধীন ১ নম্বর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জসহ ২৭ পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্যকে একযোগে বদলি করা হয়েছে। পৃথক আদেশে তাদের তাদের জেলার বিভিন্ন থানায় বদলি করা হয়েছে

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ময়মনসিংহ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) আব্দুল্লাহ আল মামুন। তবে তিনি জানিয়েছেন, গত ২১ আগস্ট নগরীতে যুবলীগের ঝটিকা মিছিলের ঘটনায় তাদের বদলি করা হয়নি। অন্য একটি প্রশাসনিক কারণে তাদের বদলি করা হয়েছে।।

বদলি হওয়া ২৭ জনের মধ্যে রয়েছেন- নগরীর কোতোয়ালি মডেল থানার অধীন ১ নম্বর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মাহাবুব মিল্কী, চার উপপরিদর্শক (এসআই), পাঁচ সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) এবং ১৭ কনস্টেবল।

জেলা পুলিশ সূত্র জানায়, গত শুক্রবার (২১ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে নগরীর ১ নম্বর পুলিশ ফাঁড়ির আওতাধীন গাঙ্গিনারপাড় মিন্টু কলেজ রোড এলাকায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগের নেতাকর্মীরা একটি ঝটিকা মিছিল বের করেন। মিছিলের ঘটনায় ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দায়িত্ব পালনে অবহেলার অভিযোগ ওঠে। এর পর থেকেই তাদের বদলি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।

তবে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ওই ঘটনার সঙ্গে বদলির কোনো সম্পর্ক নেই।

এদিকে ঝটিকা মিছিলের ঘটনায় গত চার দিনে পুলিশের ধারাবাহিক অভিযানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের ২০ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে জেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি হিমন শেখ, যুবলীগ নেতা হামিদুর রহমান আকাশ, মাসুদ, সাংস্কৃতিক জোটের নেতা ফরহাদ, যুবলীগ নেতা ওবায়দুল হক ও তানভীর ওরফে লিমনসহ কয়েকজন রয়েছেন। পরে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।।

কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম জানান, যুবলীগের ওই ঝটিকা মিছিলের ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা করা হয়েছে। থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাজহার বাদী হয়ে করা মামলায় ৪৩ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাত আরও ২০ থেকে ৩০ জনকে আসামি করা হয়েছে। এ মামলায় গ্রেপ্তার ২০ আসামিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

অন্যদিকে, জেলা পুলিশের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন পদে আগের সরকারের আমলের সুবিধাভোগী কর্মকর্তারা দায়িত্ব পালন করছেন–এমন অভিযোগ তুলেছেন বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দা। তাদের দাবি, এসব কর্মকর্তার সঙ্গে পলাতক আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের গোপন যোগাযোগ রয়েছে। এ কারণেই জেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রায়ই ঝটিকা মিছিল, বিক্ষোভ ও সমাবেশের মতো ঘটনা ঘটছে।

সম্প্রতি দিনের বেলায় নগরীর প্রাণকেন্দ্রে যুবলীগের ঝটিকা মিছিলের ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অনেকে। প্রকাশ্যে এমন মিছিলের ঘটনায় নগরীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।

ময়মনসিংহ রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান বলেন, ‘আমি সম্প্রতি ময়মনসিংহ রেঞ্জে যোগদান করেছি। মাত্র দায়িত্ব বুঝে নিয়ে কাজ শুরু করেছি। পর্যায়ক্রমে এসব বিষয় খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। পাশাপাশি কারও বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ থাকলে তা গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

সর্বশেষ