• ২০২৬ সেপ্টেম্বর ০২, বুধবার, ১৪৩৩ ভাদ্র ১৮
  • সর্বশেষ আপডেট : ১১:০৯ পূর্বাহ্ন
English
পরিচালনাপর্ষদ
আমাদের সাথে থাকুন আপনি ও ... www.timebanglanews.com

স্পেয়ার পার্টস" ঘোষণায় কনটেইনারে বিলাসবহুল গাড়ি, চট্টগ্রাম বন্দরে লেক্সাস-বিএমডব্লিউ জব্দ*

  • প্রকাশিত ১২:০৯ অপরাহ্ন বুধবার, সেপ্টেম্বর ০২, ২০২৬
স্পেয়ার পার্টস" ঘোষণায় কনটেইনারে বিলাসবহুল গাড়ি, চট্টগ্রাম বন্দরে লেক্সাস-বিএমডব্লিউ জব্দ*
Time Bangla news
ফজলে এলাহী সুমন | সাভার প্রতিনিধি | টাইম বাংলা নিউজ

*"স্পেয়ার পার্টস" ঘোষণায় কনটেইনারে বিলাসবহুল গাড়ি, চট্টগ্রাম বন্দরে লেক্সাস-বিএমডব্লিউ জব্দ* 


কাগজে-কলমে পুরোনো গাড়ির যন্ত্রাংশ, গিয়ারবক্স ও ব্যবহৃত পেট্রল ইঞ্জিন। কিন্তু কনটেইনার খুলতেই বেরিয়ে এল বিলাসবহুল লেক্সাস ও বিএমডব্লিউ গাড়ির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। জাপান থেকে ‘ইউজড স্পেয়ার পার্টস’ ঘোষণায় চট্টগ্রাম বন্দরে আনা এই চালান থেকে উদ্ধার করা হয়েছে লেক্সাস এলএক্স ৬০০, লেক্সাস এসসি ৪৩০ ও বিএমডব্লিউ এম৫-এর বিভিন্ন যন্ত্রাংশ। কাস্টমসের প্রাথমিক হিসাবে, এসব গাড়ির সম্ভাব্য বাজারমূল্য প্রায় ১২ কোটি টাকা।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম বন্দরের পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনালে চালানটিতে অভিযান চালায় কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি)। পরে উদ্ধার করা পণ্য জব্দ করা হয়।

কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের যুগ্ম পরিচালক সাগর সেন জানান, চালানটি গত ১০ জুলাই চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছালেও প্রায় এক মাসেও এর বিপরীতে বিল অব এন্ট্রি দাখিল করা হয়নি। নিলামের মাধ্যমে পণ্য খালাসের চেষ্টা করা হচ্ছে—এমন তথ্যের ভিত্তিতে চালানটি পরীক্ষা করা হয়। তখনই ঘোষণার সঙ্গে পণ্যের বড় ধরনের অসঙ্গতি ধরা পড়ে।

 *তিন স্তরে সাজানো ছিল পণ্য* 

কাস্টমস সূত্র জানায়, জাপান থেকে ৪০ ফুটের একটি কনটেইনারে ১৬৭ প্যাকেজে মোট ৮ হাজার ১৮ কেজি পণ্য আনা হয়। আমদানির সময় পণ্যগুলোকে ‘পুরোনো গাড়ির যন্ত্রাংশ ও গিয়ারবক্সসহ ব্যবহৃত পেট্রল ইঞ্জিন’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল।

নটেইনারে পণ্য সাজানো ছিল কয়েকটি স্তরে। সামনের দিকে রাখা হয়েছিল অপেক্ষাকৃত সাধারণ গাড়ির যন্ত্রাংশ। এসবের আড়ালেই রাখা ছিল লেক্সাস ও বিএমডব্লিউর গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তল্লাশির সময় লেক্সাস এলএক্স ৬০০, লেক্সাস এসসি ৪৩০ ও বিএমডব্লিউ এম৫-এর বিভিন্ন যন্ত্রাংশের পাশাপাশি হোন্ডা বি১৮সি টাইপ-আর ইঞ্জিন, ফ্রন্ট হাফ বা হাফ-কাট, টায়ারসহ বিপুল পরিমাণ যন্ত্রাংশ পাওয়া যায়।

কাস্টমস কর্মকর্তাদের ধারণা, উদ্ধার করা বিভিন্ন অংশ একত্র করে পূর্ণাঙ্গ গাড়ি তৈরি করা সম্ভব কি না, সেটি বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হবে।

 *শুল্ক-কর সর্বোচ্চ ৬২১ শতাংশ* 

সিআইআইডির কর্মকর্তারা বলছেন, গাড়ির ধরন অনুযায়ী এসব পণ্যের ওপর শুল্ক-কর ১০৩ শতাংশ থেকে সর্বোচ্চ ৬২১ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। ফলে চালানে ঘোষিত পণ্যের সঙ্গে প্রকৃত পণ্যের পার্থক্য থাকলে শুল্ক ফাঁকির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।

সগর সেন বলেন, চালানটি খালাস করতে আমদানিকারক বা সংশ্লিষ্ট কেউ এগিয়ে এলে বিশেষজ্ঞ মতামতের ভিত্তিতে পণ্যের শ্রেণিবিন্যাস করা হবে। এরপর প্রযোজ্য শুল্ক-কর ও জরিমানা পরিশোধ করতে হবে।

 *গাড়িগুলোর মূল্য কয়েক কোটি টাকা** 

কাস্টমসের প্রাথমিক হিসাবে, লেক্সাস এলএক্স ৬০০-এর সম্ভাব্য বাজারমূল্য ৬ থেকে ৯ কোটি টাকা। লেক্সাস এসসি ৪৩০-এর মূল্য ৫০ থেকে ৯০ লাখ টাকা এবং বিএমডব্লিউ এম৫-এর মূল্য ৩ থেকে ৮ কোটি টাকা হতে পারে।

তবে কাস্টমস কর্মকর্তারা বলছেন, এগুলো প্রাথমিক হিসাব। উদ্ধার করা অংশগুলোর প্রকৃত মূল্য, অবস্থা ও শুল্কযোগ্যতা যাচাই শেষে চূড়ান্ত মূল্য নির্ধারণ করা হবে।

 *

আগের চালান নিয়েও প্রশ্ন* 

চট্টগ্রাম বন্দরের এই চালানের আমদানিকারক ঢাকার ক্রাউন অটোমোবাইল সার্ভিসেস। কাস্টমস সূত্র বলছে, একই আমদানিকারকের বিরুদ্ধে এর আগেও মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে বিলাসবহুল গাড়ি আমদানির অভিযোগ উঠেছে।

এর আগে মোংলা বন্দর দিয়ে চারটি বিলাসবহুল গাড়ি কয়েকটি অংশে বিভক্ত বা সিকেডি (CKD) অবস্থায় আনার ঘটনা ধরা পড়ে। সেগুলোও আমদানির সময় পুরোনো গাড়ির যন্ত্রাংশ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল। শুল্ক ফাঁকির অভিযোগে গাড়িগুলো জব্দ করে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। এনবিআরের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিটি গাড়ির মূল্য এক কোটি টাকার বেশি।

 *খতিয়ে দেখা হচ্ছে আর্থিক লেনদেন* 

চট্টগ্রামের চালানটি নিয়ে শুধু পণ্যের শ্রেণিবিন্যাস ও শুল্ক-কর নির্ধারণেই সীমাবদ্ধ নেই তদন্ত। এর আমদানি মূল্য, অর্থ পরিশোধের ধরন, বাণিজ্যিক দলিলপত্র এবং সংশ্লিষ্ট আর্থিক লেনদেনও যাচাই করা হচ্ছে।

কাস্টমস গোয়েন্দারা দেখছেন, চালানটির সঙ্গে অস্বাভাবিক আর্থিক লেনদেন কিংবা অর্থপাচারের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না।

বর্তমানে চালানটির প্রকৃত পণ্য, মূল্য ও শুল্কযোগ্যতা নির্ধারণের কাজ চলছে। তদন্ত শেষে রাজস্ব ফাঁকি বা অন্য কোনো অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে আমদানিকারকসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর।

সর্বশেষ