• ২০২৬ সেপ্টেম্বর ০৪, শুক্রবার, ১৪৩৩ ভাদ্র ২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ০১:০৯ অপরাহ্ন
English
পরিচালনাপর্ষদ
আমাদের সাথে থাকুন আপনি ও ... www.timebanglanews.com

১৯৯৩-৯৪ সালের ডিবেটের ভিডিওতে ভাইরাল হওয়া সেই মেধাবী ছাত্রীর অজনা গল্প ।

  • প্রকাশিত ০১:০৯ অপরাহ্ন শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ০৪, ২০২৬
১৯৯৩-৯৪ সালের ডিবেটের ভিডিওতে ভাইরাল হওয়া সেই মেধাবী ছাত্রীর অজনা গল্প ।
File
রেজাউল ইসলাম আশিক

বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে আলোচিত বিতর্ক প্রতিযোগিতা ছিলো ১৯৯৩-৯৪ সালেরটা। অনলাইনের সুবাদে এটা আমরা অনেকেই দেখেছি পরে। মুগ্ধও হয়েছি। বিভিন্ন সময় এটার ক্লিপ সামনে এসেছে, আসে। সেখানে সবাই-ই তার তার জায়গাতে সেরা ছিলো। বিশেষত এই ব্যক্তির কথা বলার ধরণ ছিলো অসাধারণ! মুগ্ধ হয়ে শুনে যাওয়ার মতো উপস্থাপনা ছিলো।


মাঝেমাঝেই মনে হতো, এখন তিনি কোথায় আর কী অবস্থায় আছেন? এবং যা জানলাম, তাতে রীতিমতো অবাক!

একেই সম্ভবত বলে ট্যালেন্ট!

উনার নাম রেবেকা শাফি। ঢাকার ধানমন্ডিতে তার জন্ম ও বেড়ে ওঠা। পেয়েছিলেন শিক্ষিত এক পরিবার। তার বাবা ও মা ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও অধ্যাপিকা।


রেবেকা শাফি বাংলাদেশে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের পড়াশোনার পাশাপাশি, একই সময়ে লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের ও এবং এ লেভেলও সম্পন্ন করেন। এরপর উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। ক্যালিফোর্নিয়ার বিখ্যাত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ক্যালটেকে পদার্থবিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করেন। স্নাতক পর্যায়ে তিনি ৪-এর মধ্যে ৪.০০ সিজিপিএ অর্জন করেন।


বিশ্বের অন্যতম কঠিন একাডেমিক পরিবেশে এই ফল- তার একাডেমিক দক্ষতারই পরিচয় দেয়। এরপর হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি থেকে পদার্থবিজ্ঞানে পিএইচডি করেন। তার গবেষণার মূল বিষয় ছিলো, মহাবিশ্বের রহস্যময় ব্ল্যাক হোল বা কৃষ্ণগহ্বর। ব্ল্যাক হোল কত দ্রুত ঘোরে তা পরিমাপ করা নিয়ে তিনি বিস্তর কাজ করেছেন। ফিজিক্স ও মহাকাশ নিয়ে কাজের পর, তার গবেষণার ক্ষেত্র পুরোপুরি বদলে যায়। তিনি মানুষের মস্তিষ্ক ও জেনেটিক্স নিয়ে কাজ শুরু করেন।


বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব মেন্টাল হেলথ প্রতিষ্ঠানে রিসার্চ ফেলো হিসেবে তিনি কাজ করছেন। মানুষের মস্তিষ্কের গঠন এবং জিনগত বৈশিষ্ট্যের মধ্যে কী ধরনের সম্পর্ক রয়েছে, রেবেকার গবেষণার অন্যতম বিষয় এটি।

অর্থাৎ বিটিভির স্কুল বিতর্কের মঞ্চ থেকে ক্যালটেকে ফিজিক্স, তারপর হার্ভার্ডে ব্ল্যাক হোল নিয়ে গবেষণা এবং বর্তমানে মানুষের মস্তিষ্ক নিয়ে কাজ। নিজেকে একটি নির্দিষ্ট গণ্ডিতে আটকে না রেখে, নতুন জগতে প্রবেশের সাহস দেখিয়েছেন।

বিজ্ঞানের বিষয় বদলেছে, কিন্তু অজানাকে জানার তীব্র কৌতূহলটি তার ভেতরে একইরকম রয়ে গেছে।

এখন অনেকেই বলতে পারেন, তার মেধা দিয়ে তিনি নিজে উপরে গেছেন। কিন্তু এ দেশের কোনো কাজে আসেননি।

এই প্রশ্ন করার আগে আপনাকে আরেকটা প্রশ্ন নিজেকেই করতে হবে যে, এই দেশে মেধার মূল্য আসলে কতটা? তিনি কি পারতেন তার মেধাকে এভাবেই বিকাশ করতে এখানেও? এ ব্যর্থতা কি রেবেকা শাফির নাকি আমাদের রাষ্ট্রের!

সর্বশেষ