• ২০২৬ সেপ্টেম্বর ০৩, বৃহস্পতিবার, ১৪৩৩ ভাদ্র ১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০১:০৯ অপরাহ্ন
English
পরিচালনাপর্ষদ
আমাদের সাথে থাকুন আপনি ও ... www.timebanglanews.com

সিলেট দলীয় কার্যালয় উদ্বোধন: দাওয়াত পাননি ৩ শীর্ষ বিএনপি নেতা

  • প্রকাশিত ০১:০৯ অপরাহ্ন বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ০৩, ২০২৬
সিলেট দলীয় কার্যালয় উদ্বোধন: দাওয়াত পাননি ৩ শীর্ষ বিএনপি নেতা
Time Bangla news
সিলেট অফিস :

সিলেট মহানগর বিএনপির নতুন অস্থায়ী কার্যালয়ের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানকে ঘিরে কোন্দল ও মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্ব আবারো প্রকাশ্যে এসেছে। দলের তিন শীর্ষ নেতা—যাঁরা প্রত্যেকেই আসন্ন সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিএনপির সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী—তাঁদের এই গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ না জানানো নিয়ে জেলা ও মহানগর রাজনীতিতে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে। তৃণমূল নেতাকর্মীদের একাংশের মধ্যে এ নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

​গত মঙ্গলবার দুপুরে নগরের তোপখানা এলাকায় সিলেট-১ (নগর ও সদর) আসনের সংসদ সদস্য ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরের বাসভবন চত্বরে অস্থায়ীভাবে এই কার্যালয়ের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। ফিতা কেটে কার্যালয় উদ্বোধনের পর এক সংক্ষিপ্ত দোয়া ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হলেও সেখানে অনুপস্থিত ছিলেন দলের একাধিক হেভিওয়েট নেতা।

এ বিষয়ে নিয়ে মহানগর বিএনপির অনেক নেতা নিজেদের ফেইসবুক আইডিতে পোস্ট দিয়ে ব্যাখ্যা চেয়েছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মহানগর বিএনপির বহুল কাঙ্ক্ষিত এই কার্যালয় উদ্বোধনী পর্বে দাওয়াত পাননি সিলেট সিটি কর্পোরেশনের বর্তমান প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী, মহানগর বিএনপির সদ্য বিদায়ী ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী এবং জেলা বিএনপির প্রথম যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইশতিয়াক আহমেদ সিদ্দিকী।

​স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাদ পড়া এই তিন নেতাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে সিলেটে দলীয় রাজনীতিতে প্রভাবশালী এবং আগামী নির্বাচনে দলীয় মনোনয়নের জোরালো দাবিদার। এমন গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের বাদ দিয়ে কার্যালয় উদ্বোধনকে ইতিপূর্বে গড়ে ওঠা 'রাজনৈতিক সৌজন্যের চরম ব্যত্যয়' বলে মনে করছেন সাধারণ নেতাকর্মীরা।

উপ উপেক্ষিত হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী সংক্ষিপ্ত ও সতর্ক প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, "এ নিয়ে আমি এই মুহূর্তে কোনো মন্তব্য করতে চাই না।"

​তবে নিজের ক্ষোভ লুকিয়ে রাখেননি মহানগর বিএনপির সদ্য বিদায়ী ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী।

তিনি বলেন, "মহানগরের একটি স্থায়ী বা অস্থায়ী অফিস উদ্বোধনের মতো বড় কর্মসূচিতে আমাকে একটা দাওয়াত পর্যন্ত দেওয়ার প্রয়োজনবোধ করেননি বর্তমান দায়িত্বশীলরা। তবে এতে আমার রাজনৈতিক অবস্থানে কোনো প্রভাব পড়বে না। দলের দুঃসময়ে রাজপথে ছিলাম, বর্তমানেও আছি এবং ভবিষ্যতেও দলীয় আদর্শ নিয়ে বেঁচে থাকব।

সিলেটে বিএনপির রাজনীতি দীর্ঘদিন ধরেই দুটি মূল ধারায় বিভক্ত। স্থানীয় নেতাকর্মীরা জানান, প্রকাশ্যে বড় ধরনের সঙ্ঘাত না থাকলেও আড়ালে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর পৃথক দুটি শক্ত বলয় রয়েছে।

​দল ক্ষমতায় আসার পর থেকে এই দুই মেরুর মধ্যে 'মনস্তাত্ত্বিক দূরত্ব' বহুগুণ বেড়েছে এবং একটি নীরব 'ঠাণ্ডা লড়াই' রূপ নিয়েছে। এই দুই বলয়ের অধীনে আবার ছোট-ছোট একাধিক উপবলয় তৈরি হয়েছে। মূলত আসন্ন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনকে সামনে রেখে নিজ নিজ বলয়ের পাল্লা ভারী করা এবং প্রতিপক্ষ প্রার্থীকে রাজনীতিতে কোণঠাসা করার কৌশল থেকেই এমন ঘটনা ঘটছে বলে নিশ্চিত করেছে দলীয় একাধিক সূত্র।

​নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক জানান, সিলেটে অতীতে জেলা ও মহানগর বিএনপি আলাদা কর্মসূচি করলেও একে অপরকে আমন্ত্রণ জানানোর একটি চমৎকার রেওয়াজ ছিল। বিশেষ করে নতুন অফিস উদ্বোধনের মতো দলীয় মিলনের দিনে জেলার সভাপতি কিংবা বিদায়ী নগর নেতাদের সম্পূর্ণ এড়িয়ে যাওয়া ভালো কোনো বার্তা বহন করে না। এতে মাঠপর্যায়ের কর্মীদের মধ্যে বিভাজন আরও স্পষ্ট হবে।

তবে সব ধরনের অভিযোগ ও বিভেদের কথা অস্বীকার করেছেন সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাছিম হোসেইন। তিনি বলেন, "যেহেতু এটি একেবারেই মহানগর বিএনপির নিজস্ব দলীয় কার্যালয় উদ্বোধন, তাই নিয়ম অনুযায়ী মহানগর কমিটি ও আওতাধীন ওয়ার্ড পর্যায়ের দায়িত্বশীলদেরই কেবল আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। কোনো নির্দিষ্ট নেতা বা মেয়র পদপ্রার্থীকে পাশ কাটানো কিংবা দলে কোনো বিভেদ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে এমনটা করা হয়নি।"

সর্বশেষ