কষ্ট এসেছে, তাই বলে পথ থেমে যাবে কেন?
জীবনে সুখ-দুঃখ, পাওয়া-না পাওয়া এবং নানা ধরনের প্রতিকূলতা আসবেই। কখনো পরিস্থিতির কারণে মানুষ কষ্ট পায়, কখনো প্রিয়জনের আচরণে মন ভেঙে যায়, আবার কখনো নিজের ভুলের কারণেও কঠিন সময়ের মুখোমুখি হতে হয়। তবে কষ্ট বা প্রতিকূলতা এলেই সরে যাওয়া সবসময় সমাধান নয়।
ইসলামের দৃষ্টিতে দুনিয়ার জীবন একটি পরীক্ষা। সুখের সময়ে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করা এবং বিপদের সময়ে ধৈর্য ধারণ করা মুমিনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন,নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সঙ্গে আছেন।(সূরা আল-বাকারা)
জীবনে এমন অনেক সময় আসে, যখন মানুষ মনে করে আর হয়তো পরিস্থিতি সামলানো সম্ভব নয়। তখন অনেকেই আবেগের বশে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন। অথচ কঠিন সময়ে কিছুটা সময় নেওয়া, নিজের ভুল খুঁজে দেখা এবং অন্যের অবস্থাও বোঝার চেষ্টা করা প্রয়োজন।
বিশেষ করে পরিবার জীবনে ভুল বোঝাবুঝি বা মতের অমিল হওয়া অস্বাভাবিক নয়। একটি সমস্যা তৈরি হলেই আপনজন থেকে দূরে সরে যাওয়া সবসময় সঠিক পথ নয়। বরং শান্তভাবে কথা বলা, ভুল হলে স্বীকার করা, প্রয়োজন হলে ক্ষমা চাওয়া এবং অন্যের ভুল ক্ষমা করার মানসিকতা সম্পর্ককে টিকিয়ে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
অনেক সময় বড় কোনো সমস্যার কারণে নয়, বরং অভিমান, রাগ ও ধৈর্যের অভাবে সম্পর্কের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়। তাই কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে পরিস্থিতিকে কিছুটা সময় দেওয়া এবং আবেগের পরিবর্তে বিবেক দিয়ে চিন্তা করা জরুরি।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা আরও বলেন,আল্লাহর রহমত থেকে তোমরা নিরাশ হয়ো না। (সূরা আয-যুমার)
এই আয়াত মুমিনকে হতাশ না হয়ে আল্লাহর রহমতের ওপর আশা রাখতে শিক্ষা দেয়। জীবনের কোনো কঠিন সময়ই চিরস্থায়ী নয়। আজকের কষ্ট, ভুল বোঝাবুঝি কিংবা সংকট সময়ের সঙ্গে বদলে যেতে পারে।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, মুমিনের অবস্থা আশ্চর্যজনক। তার প্রতিটি অবস্থাতেই কল্যাণ রয়েছে। সুখ পেলে সে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করে, আর বিপদে পড়লে ধৈর্য ধারণ করে, উভয় অবস্থাই তার জন্য কল্যাণকর। (সহিহ মুসলিম)
তাই জীবনে কষ্ট এলে হাল ছেড়ে না দিয়ে পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করা দরকার। নিজের ভুল থাকলে সংশোধন করতে হবে, অন্যের ভুল হলে ক্ষমার সুযোগ তৈরি করতে হবে এবং যেখানে সম্পর্ক বা দায়িত্ব রক্ষা করার সুযোগ রয়েছে, সেখানে আন্তরিকভাবে চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।
তবে ধৈর্য ধারণের অর্থ অন্যায় বা নির্যাতন মেনে নেওয়া নয়। কোনো গুরুতর অন্যায় বা ক্ষতিকর পরিস্থিতি তৈরি হলে নিরাপদ ও ন্যায়সংগত সমাধানের পথ খুঁজে নেওয়াও জরুরি।
জীবনের প্রতিটি কঠিন সময় মানুষকে কিছু না কিছু শেখায়। কখনো তা ধৈর্য শেখায়, কখনো নিজের ভুল বুঝতে সাহায্য করে, আবার কখনো সম্পর্ক ও আপনজনের মূল্য উপলব্ধি করায়।
তাই কষ্ট এসেছে বলে পথ থামিয়ে দেওয়া নয়। বরং সবর, দোয়া, আত্মসমালোচনা, পারস্পরিক বোঝাপড়া এবং আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে সামনে এগিয়ে চলাই মুমিনের পথ।
হয়তো আজকের কঠিন সময়ই আগামী দিনের সুন্দর পরিবর্তনের কারণ হয়ে উঠবে। প্রয়োজন শুধু হতাশ না হয়ে সঠিক পথে থাকার চেষ্টা করা।
মতামত দিন