দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলা সাংবিধানিক অধিকার উল্লেখ করে দুর্নীতিবিরোধী জাতীয় সমন্বয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক জনাব সরোয়ার ওয়াদুদ চৌধুরী তার দীর্ঘদিনের মালিকানাধীন জমি জবরদখল, কারখানার মালামাল সরিয়ে নেওয়া এবং সন্ত্রাসী হামলার অভিযোগ করেছেন।
অভিযোগকারী জানান, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের হোল্ডিং নং ৩৩/১৬ এলাকার আদি বাসিন্দা হিসেবে তিনি প্রায় ৩০ বছর ধরে সেখানে বসবাস ও ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। তার মালিকানাধীন কে এম চৌধুরী রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রিজে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কারখানা পরিচালিত হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, স্থানীয় বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড, ডাঃ বজলুর রহমান সড়ক নির্মাণ এবং কাজীরগাঁও কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ নির্মাণে তিনি সহযোগিতা করেছেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১১ জুন তার কারখানার সামনের প্রধান সড়কের পাশে দুর্নীতিবিরোধী জাতীয় সমন্বয় কমিটির জন্য এক শতাংশ জমি দান করে একটি স্থায়ী কার্যালয় নির্মাণ করা হয়। ওই অনুষ্ঠানে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, পেশাজীবী ও মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে সম্পৃক্ত বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন বলে তিনি দাবি করেন। অনুষ্ঠানটি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচার ও প্রকাশিত হয়েছে বলেও জানান তিনি।
অভিযোগকারীর দাবি, পরবর্তীতে স্থানীয় শ্রমিক লীগ নেতা নুরুল হাসান, তার পরিবারের সদস্য এবং কয়েকজন ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী তার জমি ও কার্যালয়ে জবরদখলের চেষ্টা চালান। এ সময় দুর্নীতিবিরোধী জাতীয় সমন্বয় কমিটির কার্যালয়ের বেইজমেন্ট, গ্রেটবিম, কলাম, রড, দেয়াল, মোটরসহ বিভিন্ন নির্মাণসামগ্রী এবং তার কারখানার মেশিন ও অন্যান্য মালামাল সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এ বিষয়ে থানায় এবং স্থানীয় সংসদ সদস্যের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি। যদিও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে দ্রুত মালামাল উদ্ধারের আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল বলে জানান অভিযোগকারী।
তিনি বলেন, গত ১৪, ১৫ ও ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে অসুস্থ অবস্থায় বাসায় বিশ্রামে ছিলেন। এ সময় ১৬ সেপ্টেম্বর তার জমি জবরদখলের চেষ্টা করা হলে স্থানীয় মসজিদ কমিটি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বাধা দেন।
অভিযোগকারীর ভাষ্য অনুযায়ী, পরবর্তীতে স্থানীয় থানার কয়েকজন পুলিশ সদস্য ঘটনাস্থলে গিয়ে জনগণকে ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং জবরদখলের কাজে সহযোগিতা করেন। বিষয়টি নিয়ে তিনি ওয়ারী বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনারসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে অভিযোগ করেন।
তিনি আরও জানান, পুলিশ কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে সরেজমিনে তদন্তের সময় স্থানীয় জনগণের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এ সময় তিনি তার মালিকানার দলিল, আদালতের আদেশসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করেন।
তবে পরদিন অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে জবরদখলকারীদের সহযোগিতা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
অভিযোগকারী দাবি করেন, তিনি অসুস্থ শরীর নিয়ে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের একাধিকবার ফোন করলেও কাঙ্ক্ষিত সহযোগিতা পাননি। এমনকি আইনি সহায়তার জন্য ঘুষ দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় তাকে পরোক্ষভাবে আর্থিক লেনদেনের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ সন্ধ্যায় কাজীরগাঁও কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ কমিটির সঙ্গে সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে বৈঠকে যোগ দিতে যাওয়ার সময় তার ওপর হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
অভিযোগ অনুযায়ী, মসজিদ কমিটির সভাপতির বাসা থেকে বের হয়ে গাড়িতে ওঠার পর কয়েকজন ব্যক্তি তাকে এবং তার সঙ্গে থাকা লোকজনকে জোরপূর্বক গাড়ি থেকে নামিয়ে মারধর করেন। এ সময় ধারালো ও অন্যান্য অস্ত্র ব্যবহার করে মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয় বলে দাবি করেন তিনি। একপর্যায়ে তিনি অচেতন হয়ে পড়েন।
পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। পরবর্তীতে পরিবারের সদস্যরা তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা ও বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করান বলে জানান অভিযোগকারী। বর্তমানে তার দাঁতের মাড়িসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ব্যথা রয়েছে বলেও তিনি জানান।
ঘটনার পর তিনি সংশ্লিষ্ট পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, সাধারণ মানুষ ন্যায়বিচার ও নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকার রাখে। দুর্নীতি, জবরদখল ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কথা বলার কারণে কোনো নাগরিক যেন হয়রানি বা হামলার শিকার না হন, সে বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
তিনি বলেন, "দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলা আমার সাংবিধানিক অধিকার। ঘুষ দেওয়া ও ঘুষ নেওয়া সমান অপরাধ। মহান আল্লাহ পাক ব্যতীত কেউ আমার কণ্ঠরোধ করতে পারবে না, ইনশাআল্লাহ।"
দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, দুর্নীতির বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ এবং জুলুম-নির্যাতনের বিরুদ্ধে জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানিয়ে তিনি দেশবাসীর কাছে দোয়া কামনা করেন।
তবে এ ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের বক্তব্য জানা প্রয়োজন।
মতামত দিন