• ২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৫, মঙ্গলবার, ১৪৩৩ ভাদ্র ৩১
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:০৯ পূর্বাহ্ন
English
পরিচালনাপর্ষদ
আমাদের সাথে থাকুন আপনি ও ... www.timebanglanews.com

কে এই মোহাম্মদ আলী জিন্না ,ইতিহাস কি বলে ?

  • প্রকাশিত ১০:০৯ পূর্বাহ্ন মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬
কে এই মোহাম্মদ আলী জিন্না ,ইতিহাস কি বলে ?
File
রেজাউল ইসলাম আশিক

আসুন এক মহান জাতীয় নেতাকে একটু চিনি জানি এবং শ্রদ্ধাভরে কৃতজ্ঞতা চিত্তে তাঁর জন্য দোয়া করি ১১ই সেপ্টেম্বর তার মৃত্যুবার্ষিকীতে।


মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ ছিলেন পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা, প্রথম গভর্নর-জেনারেল এবং একজন প্রখ্যাত আইনজীবী ও রাজনীতিবিদ। 


আগে তার সম্পর্কে জানুন এরপর বিবেকের কাছে প্রশ্ন করুন ।তার পর মতামত জানাবেন ।

এমনই স্ক্রিপ্ট প্রোথিত করে দিয়েছে আমাদের মননে যেখানে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ কে বড় ভিলেন হিসেবে দেখিয়ে। যা সম্পূর্ণ তাদের নিজেদের স্বার্থে এবং দীর্ঘ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে।


জিন্নাহ করাচিতে জন্মগ্রহণ করেন।তিনি লন্ডনেরঐতিহ্যবাহী  লিঙ্কনস ইন থেকে ব্যারিস্টার এট ল' সনদ লাভ করেন। বিশ শতকের প্রথম দুই দশকে তিনি ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসেরগুরুত্বপূর্ণ নেতা হয়ে উঠেন। এসময় তিনি হিন্দু-মুসলিম ঐক্যের পৃষ্ঠপোষকতা করেন। ১৯১৬ সালে কংগ্রেস ও মুসলিম লীগের মধ্যে লখনৌ চুক্তির সময় তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। এসময় জিন্নাহ মুসলিম লীগেরও সদস্য ছিলেন। হোম রুল আন্দোলন সংগঠনে জিন্নাহ অন্যতম প্রধান নেতা হয়ে উঠেন। মুসলিমদের রাজনৈতিক অধিকার রক্ষার জন্য তিনি চৌদ্দ দফা সাংবিধানিক সংস্কার পরিকল্পনা প্রস্তাব করেন। কংগ্রেস মহাত্মা গান্ধীর সত্যাগ্রহে অংশ নিলে ১৯২০ সালে তিনি কংগ্রেস থেকে পদত্যাগ করেন। রাজনৈতিক দাবি আদায়ের ক্ষেত্রে তিনি নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার পক্ষে ছিলেন।


জিন্নাহর আলাদা মুসলিম রাষ্ট্রের বা দ্বিজাতিতত্ত্বের (পাকিস্তান) দাবি ১৯৪০ সালের লাহোর প্রস্তাবের সময় থেকেই জোরালো ছিল। ১৯৪৬ সালের দাঙ্গা সেই দাবিকে আরও ত্বরান্বিত ও অনিবার্য করে তোলে।


সেখানে থেকেই অত্যন্ত বিচক্ষণতার পরিচয় দিয়ে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ মর্মে মর্মে উপলব্ধি করলেন যে মুসলমানদেরকে নিয়ে আলাদা রাষ্ট্র গঠন করতে হবে এবং তিনি সেটা করতে পেরেছেন আমাদের আরো মুসলিম নেতাদেরকে সঙ্গে নিয়ে।যার মধ্যে অন্যতম ছিলেন হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী,শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক এবং খাজা নাজিমুদ্দীনের মতো শীর্ষ স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ।


কিন্তু এই পথ এতো মসৃণ ছিলো না কারণ জহরলাল নেহেরুর মতো ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রিনিটি কলেজে (Trinity College, Cambridge) পড়ুয়া বিচক্ষণ রাজনীতিবিদকেও তাঁকে মোকাবেলা করতে হয়েছে মুসলমানদের জন্য আলাদা রাষ্ট্র গঠন করতে।


যেখানে জহরলাল নেহেরুর সাথে আবার ব্রিটিশ শেষ ভাইসরয় লর্ড মাউন্টব্যাটেন এর স্ত্রীর অন্য মাত্রার এক গভীর প্রণয় ছিলো। দেশভাগের পরও সেই প্রণয় আমৃত্যু ছিলো চিঠি আদান-প্রদানে। আরেক দিন লিখবো সেই কাহিনী কারণ সেই প্রেমের সাথে জড়িয়ে আছে দেশভাগ এবং কাশ্মীর ও পাঞ্জাব সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমান হওয়ার পরও পাকিস্তান পায়নি পেয়েছে ভারত।


 মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ মৃত্যুবরণ করলেন ১৯৪৮ সালের ১১ই সেপ্টেম্বর।


দেশ ভাগ হলো ১৯৪৭ সালের ১৪ই আগস্ট।


 ভাষা আন্দোলন হলো ১৯৫২সালে । 

স্বাধীনতা যুদ্ধ হলো ১৯৭১ সালে।


তাহলে এখানে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ কিভাবে দোষী হতে পারেন?


আবার কার্জন হলে যে ঘটনা হয়েছে সেখানে কি তিনি বাংলা ভাষার বিরুদ্ধে বলেছেন?

না বলেননি কিন্তু তার বক্তব্যের একটা অংশকে ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে জনগণের মধ্যে ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে।


এরপর ভাষা আন্দোলনে যারা শহীদ হয়েছেন তাঁরা কেউ একজনও মিছিলে গিয়ে শহীদ হননি কেউ রাস্তায় হেঁটে যাচ্ছিলেন, কেউ দোকানে ছিলেন ইত্যাদি।


আর সেই গোলাগু/লিও তো পাকিস্তানের আদেশে হয়নি। হয়েছে তখনকার ১৯৫২ সালের সরকারের অধীনে। যা সরাসরি মানুষের উপরে ও হয়নি। মিছিলকে ছত্রভঙ্গ করতে হয়েছে।


২১শে ফেব্রুয়ারি আন্দোলনের সময় পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় প্রধানমন্ত্রী ছিলেন খাজা নাজিমুদ্দীন এবং পূর্ব পাকিস্তানের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন নুরুল আমিন। অর্থাৎ, ২১শে ফেব্রুয়ারির গুলির নির্দেশ নুরুল আমিন সরকারের আমলের প্রশাসনের ছিল।

সরাসরি পশ্চিম পাকিস্তানের প্রশাসনের নয়।


আবার বাস্তব প্রমাণ দেখুন পৃথিবীর মধ্যে অন্যতম বড় দেশ ভারত। যাদের অনেকগুলো অঙ্গরাজ্য স্টেইট বা প্রদেশ রয়েছে। যাদের প্রত্যেকের ভাষা আলাদা কিন্তু ভারতের অন্যতম একটি প্রধান সরকারি ও দাপ্তরিক ভাষা,রাষ্ট্রীয় ভাষা হিন্দি। তাহলে সেই দেশের সেই সকল প্রদেশের মানুষ কি ভাষার জন্য আন্দোলন করেছেন?


নাকি রাষ্ট্রীয় ভাষা হিন্দি মেনে নিয়েছেন?

ভারতে আন্দোলন হলো না তাহলে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে কেন হলো?

কারণ ভারত উস্কে দিয়েছে এবং সেখানে থেকেই আগাতে আগাতে ৭১ -এ এসে সফল হয়েছে।


মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ মৃত্যুর আগে বলে গেছেন তাঁর সমাধীতে যেন উর্দু ভাষার পাশাপাশি বাংলাতেও এপিটাফ লেখা হয় এবং বাস্তব প্রমাণ দেখুন ছবিতে সেটাই হয়েছে।


পাকিস্তানের সংবিধানে ১৯৫৬ সালে বাংলাকেও রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা দেওয়া হয়েছিল।


এখানে থেকেও বড় একটা প্রমাণ মেলে যে পাকিস্তান বা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ কখনোই পূর্ব পাকিস্তানের সাথে কোন বৈষম্য করেননি।যার অগুনিত প্রমাণ আছে কিন্তু এখানে লিখতে গেলে লেখাটি বড় হয়ে যাবে।


করাচির সমাধিতে এপিটাফ লেখা হয়েছে যখন তখন কিন্তু অলরেডি দুই পাকিস্তান ভারতের ষড়যন্ত্রে আম্লীগের সহযোগিতায় আলাদা হয়ে গেছে কিন্তু এরপরও ওখানে বাংলায় লেখা রয়ে গেছে।


পাকিস্তানে তো আরো বড় বড় পাঁচটি প্রদেশ ছিলো আছে যাদের ভাষাও উর্দু না তাহলে সেখানে অন্য প্রদেশের আর কোন ভাষা কেন নেই?


এখানে থেকে কি প্রমাণ হয় না যে পাকিস্তান বা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ কখনোই বাংলাদেশের শক্র ছিলো না কিন্তু বন্ধু ছিলো?

সর্বশেষ