*পিল্লাইয়ের নোবেল জয়কে নিপীড়িত মানুষের বিজয় বলছে ফিলিস্তিন।*
*উপশিরোনাম:* আন্তর্জাতিক আইন প্রতিষ্ঠা ও ফিলিস্তিনে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা নথিবদ্ধ করার স্বীকৃতি হিসেবে দেখছে রামাল্লা।
দক্ষিণ আফ্রিকার বিশিষ্ট আইনবিদ ও মানবাধিকারকর্মী নাভি পিল্লাইকে ২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত করার ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছে ফিলিস্তিন। আন্তর্জাতিক আইন প্রতিষ্ঠা, মানবাধিকার রক্ষা এবং অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে সংঘটিত অপরাধের তথ্য নথিবদ্ধ করার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকার প্রশংসা করেছে ফিলিস্তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
শনিবার (১০ অক্টোবর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে তুরস্কের সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সি এ তথ্য জানিয়েছে।
ফিলিস্তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, পিল্লাইয়ের এই অর্জন সত্য ও নিপীড়িত মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের জন্য গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি। ফিলিস্তিনসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে নির্যাতিত মানুষের অধিকার রক্ষা এবং আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় তাঁর দীর্ঘদিনের ভূমিকার কথাও তুলে ধরেছে মন্ত্রণালয়।
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডবিষয়ক জাতিসংঘের স্বাধীন আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিশনের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন পিল্লাই। ওই সময়ে গাজায় সংঘটিত গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন, যৌন সহিংসতা এবং শিশুদের ওপর হামলার অভিযোগসহ বিভিন্ন ঘটনা নথিবদ্ধ করার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ।
ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের মতে, এ স্বীকৃতি যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের জবাবদিহির আওতায় আনার আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টাকে আরও জোরালো করবে।
*মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক আইনে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা*
৮৫ বছর বয়সী নাভি পিল্লাই দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের মধ্য দিয়ে নিজের পেশাগত ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের যাত্রা শুরু করেন। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থা ও মানবাধিকার সুরক্ষায় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন।
তিনি জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের বিচারক এবং রুয়ান্ডাবিষয়ক আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সভাপতির দায়িত্বেও ছিলেন তিনি।
আন্তর্জাতিক আইন প্রতিষ্ঠা, মানবাধিকার সুরক্ষা এবং সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে সংঘটিত অপরাধের বিচার নিশ্চিত করার প্রচেষ্টায় তাঁর দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা রয়েছে।
ফিলিস্তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আশা প্রকাশ করেছে, পিল্লাইয়ের এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি বিশ্বজুড়ে নিপীড়িত মানুষের অধিকার রক্ষা এবং অপরাধের বিচার নিশ্চিত করার দাবিকে আরও শক্তিশালী করবে।
মতামত দিন