ডেঙ্গু থেকে বাঁচতে এবং ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় করণীয়গুলো নিচে দেওয়া হলো:
- জ্বর হলেই পরীক্ষা: জ্বর আসার ৩ দিন পর্যন্ত অপেক্ষা না করে, লক্ষণ দেখা দেওয়ার সাথে সাথেই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ডেঙ্গু পরীক্ষা (NS1 বা Digenostic test) করাতে হবে।
- দেরি না করা: অবহেলা না করে দ্রুত স্থানীয় হাসপাতাল বা চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত ডেঙ্গু পরীক্ষার কিট ও পর্যাপ্ত স্যালাইন মজুত রয়েছে।
পর্যাপ্ত হাইড্রেশন (তরল খাবার গ্রহণ)
- শরীরে পানির ঘাটতি না রাখা: পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি, ডাবের পানি, ওরস্যালাইন, ফলের রস ও তরল খাবার খেতে হবে।
- লাল রঙের তরল পরিহার: বমি হলে রক্ত নাকি ফলের রস তা নিয়ে বিভ্রান্তি এড়াতে লাল রঙের জুস (যেমন বেত রুট বা ডালিম বা আনারের রস) খাওয়া থেকে বিরত থাকা ভালো।
ওষুধ ব্যবহারের ক্ষেত্রে সতর্কতা
- প্যারাসিটামল ব্যবহার: জ্বর ও ব্যথার জন্য শুধুমাত্র চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্যারাসিটামল খাওয়া যাবে।
- নিষিদ্ধ ওষুধ: কোনোভাবেই অ্যাসপিরিন (Aspirin) বা আইবুপ্রোফেন (Ibuprofen) জাতীয় নন-স্টেরয়েডাল অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি ওষুধ খাওয়া যাবে না, কারণ এগুলো রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।
- মশার কামড় এড়িয়ে চলা: দিনের বেলাতেও এডিস মশা কামড়াতে পারে। তাই পুরো শরীর ঢাকা পোশাক পরা এবং দিনে ও রাতে মশারি ব্যবহার করা উচিত।
- চারপাশ পরিষ্কার রাখা: বাড়ির আশপাশে বা টব, ড্রেন কিংবা জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে যেন এডিস মশা বংশবিস্তার করতে না পারে।
ঝুঁকিপূর্ণ লক্ষণ দেখা দিলে করণীয়
- অতিরিক্ত দুর্বলতা, তীব্র পেট ব্যথা, বারবার বমি হওয়া, মাড়ি বা নাক দিয়ে রক্ত পড়া কিংবা শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করাতে হবে। এ বছর ডেঙ্গুতে 'শক সিনড্রোম' জাতীয় জটিলতা বেশি দেখা দিচ্ছে, তাই একটু অবহেলাও বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে।
মতামত দিন