• ২০২৬ অক্টোবর ২১, বুধবার, ১৪৩৩ কার্তিক ৫
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৪:১০ পূর্বাহ্ন
English
পরিচালনাপর্ষদ
আমাদের সাথে থাকুন আপনি ও ... www.timebanglanews.com

১৯ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য, তবু নেই চীনা ব্যাংক—বাংলাদেশে চীনা ব্যাংক আনতে তৎপরতা।

  • প্রকাশিত ০৫:১০ পূর্বাহ্ন বুধবার, অক্টোবর ২১, ২০২৬
১৯ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য, তবু নেই চীনা ব্যাংক—বাংলাদেশে চীনা ব্যাংক আনতে তৎপরতা।
Time Bangla news
ফজলে এলাহী সুমন | সাভার প্রতিনিধি | টাইম বাংলা নিউজ।

*১৯ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য, তবু নেই চীনা ব্যাংক—বাংলাদেশে চীনা ব্যাংক আনতে তৎপরতা।* 

বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বছরে ১৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বাণিজ্য হলেও দেশে এখন পর্যন্ত সরাসরি কার্যক্রম পরিচালনা করছে না কোনো চীনা ব্যাংক। এই ব্যবধান ঘোচাতে চীনা আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরু এবং বিনিয়োগে অর্থায়নের সুযোগ কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়েছে ইনভেস্ট বাংলাদেশ।

এ লক্ষ্যে মঙ্গলবার বেইজিংয়ে এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট ব্যাংক অব চায়নার (চায়না এক্সিম ব্যাংক) সদর দপ্তরে আয়োজন করা হয় ‘বাংলাদেশ ডে’। এতে চীনের ১১টি আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন খাতের ২৬টি কোম্পানির প্রতিনিধিরা অংশ নেন। ইনভেস্ট বাংলাদেশের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ছিল ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড কমার্শিয়াল ব্যাংক অব চায়না, এগ্রিকালচারাল ব্যাংক অব চায়না ও ব্যাংক অব চায়না। অবকাঠামো, প্রকৌশল, বিদ্যুৎ, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, তথ্যপ্রযুক্তি, ইলেকট্রনিকস, শিল্পপ্রযুক্তি, পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ও কৃষিপ্রযুক্তিসহ বিভিন্ন খাতের চীনা কোম্পানিগুলোও এতে অংশ নেয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী। বক্তব্য দেন চায়না এক্সিম ব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট ওয়াং কাং এবং চীনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. নাজমুল ইসলাম।

 *বাণিজ্য বাড়লেও আর্থিক সংযোগে ঘাটতি* 

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংক ও ইনভেস্ট বাংলাদেশ যৌথভাবে ‘দ্য নেক্সট ফ্রন্টিয়ার: বাংলাদেশ-চায়না ফাইন্যান্সিয়াল কানেক্টিভিটি’ শীর্ষক একটি উপস্থাপনা তুলে ধরে। এতে বলা হয়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ১৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। অথচ এত বড় বাণিজ্যিক সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশে চীনা ব্যাংকের সরাসরি কার্যক্রম নেই।

উপস্থাপনায় কম্বোডিয়া, শ্রীলঙ্কা ও মিয়ানমারের উদাহরণ তুলে ধরে বলা হয়, এসব দেশে চীনা ব্যাংক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও এ ধরনের উপস্থিতি বাড়ানো গেলে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অর্থায়নের সুযোগ সম্প্রসারিত হতে পারে।

বাংলাদেশে চীনা ব্যাংকের কার্যক্রম চালুর সম্ভাবনা তুলে ধরার পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়। বিশেষ করে বাণিজ্য অর্থায়ন, যন্ত্রপাতি কেনা, চলতি মূলধন এবং দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের জন্য অর্থায়নের সুযোগ সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তা আলোচনায় উঠে আসে।

 *বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগের আহ্বান* 

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত বিনিয়োগ খাত, চাইনিজ ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন এবং মোংলা অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগের সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়। এসব ক্ষেত্রে চীনা কোম্পানি ও তাদের অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ বাড়ানোর উপায় নিয়ে আলোচনা করেন প্রতিনিধিরা।

চায়না এক্সিম ব্যাংকের পক্ষ থেকেও বাংলাদেশে চলমান সহযোগিতা ও অর্থায়ন কার্যক্রমের চিত্র তুলে ধরা হয়। ব্যাংকটির ভাইস প্রেসিডেন্ট ওয়াং কাং জানান, অবকাঠামো, জ্বালানি, কৃষি, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও উৎপাদনশিল্পসহ বিভিন্ন খাতে বাংলাদেশে তাঁদের ব্যাংকের প্রায় ৪০টি প্রকল্প রয়েছে।

তিনি বলেন, বস্ত্র ও স্বাস্থ্যসেবার মতো অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাতে আরও বেশি শীর্ষস্থানীয় চীনা কোম্পানিকে সরাসরি বিনিয়োগে উৎসাহিত করা হবে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের উৎপাদন ও সেবাভিত্তিক অর্থনীতির বিকাশে অর্থায়ন অব্যাহত রাখার আশা প্রকাশ করেন তিনি।

 *আর্থিক সংযোগ বাড়লে লাভ দুই দেশের* 

ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের সহযোগিতাকে পরবর্তী পর্যায়ে নিতে আর্থিক সংযোগ জোরদার করা জরুরি। বাংলাদেশে বিনিয়োগকারী চীনা কোম্পানিগুলোর জন্য সহজ ও কার্যকর বাণিজ্য অর্থায়ন, যন্ত্রপাতি কেনার ঋণ, চলতি মূলধন এবং দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ সহায়তা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে বিপুল বাণিজ্যিক লেনদেন এই অর্থায়নের চাহিদার বিষয়টি স্পষ্ট করে। অন্যদিকে, বাংলাদেশি কোম্পানিগুলোর প্রয়োজন প্রযুক্তি, ব্যবসা সম্প্রসারণ এবং উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে কার্যকর অংশীদারত্ব। বাংলাদেশে চীনা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের উপস্থিতি বাড়লে উভয় দেশের ব্যবসায়ীরা উপকৃত হবেন এবং বিনিয়োগ বাস্তবায়নের পথ সহজ হবে।

অনুষ্ঠানের পর নেটওয়ার্কিং পর্বে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিরা বিনিয়োগ, অর্থায়ন ও সম্ভাব্য ব্যবসায়িক অংশীদারত্ব নিয়ে আলোচনা করেন।

বাংলাদেশের এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো, চীনের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্কের পাশাপাশি আর্থিক সহযোগিতাও সম্প্রসারণ করা। চীনা ব্যাংকগুলো বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরু করলে দেশটিতে বিনিয়োগকারী চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর অর্থায়ন পাওয়া সহজ হতে পারে। পাশাপাশি বাংলাদেশের স্থানীয় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্যও নতুন অংশীদারত্বের সুযোগ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে বাংলাদেশে চীনা ব্যাংকের শাখা বা কার্যালয় চালুর বিষয়ে এখনো কোনো নির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত কিংবা সময়সীমা ঘোষণা করা হয়নি। ফলে বেইজিংয়ের এ আয়োজনকে আপাতত বিনিয়োগের আগ্রহ তৈরি ও আর্থিকভাবে সহযোগিতার সম্ভাবনা যাচাইয়ের উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রস্তাবটি বাস্তবে রূপ নিতে হলে সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন, বাজারের সম্ভাবনা এবং চীনা ব্যাংকগুলোর বাণিজ্যিক সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সর্বশেষ