• ২০২৬ অক্টোবর ২৯, বৃহস্পতিবার, ১৪৩৩ কার্তিক ১৩
  • সর্বশেষ আপডেট : ০২:১০ পূর্বাহ্ন
English
পরিচালনাপর্ষদ
আমাদের সাথে থাকুন আপনি ও ... www.timebanglanews.com

ঋণখেলাপি থেকে ব্যাংক লুটপাট, আর্থিক খাতের সংকটের মূলে নিয়ন্ত্রণহীনতা: ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ*

  • প্রকাশিত ০৪:১০ পূর্বাহ্ন বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ২৯, ২০২৬
ঋণখেলাপি থেকে ব্যাংক লুটপাট, আর্থিক খাতের সংকটের মূলে নিয়ন্ত্রণহীনতা: ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ*
Time Bangla news
ফজলে এলাহী সুমন | সাভার প্রতিনিধি | টাইম বাংলা নিউজ।

*ঋণখেলাপি থেকে ব্যাংক লুটপাট, আর্থিক খাতের সংকটের মূলে নিয়ন্ত্রণহীনতা: ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ* 

দেশের ব্যাংক খাতে একসময় ঋণখেলাপির প্রবণতা থাকলেও ২০১০ সালের পর তা রূপ নেয় ব্যাংক লুটপাটের সংস্কৃতিতে। দুর্বল নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা, রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা এবং যাচাই-বাছাই ছাড়াই নতুন ব্যাংকের অনুমোদন দেওয়ার ফলে আর্থিক খাত আজ গভীর সংকটে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের পরিকল্পনা ও শিক্ষা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর মিরপুরে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) আয়োজনে দুই দিনব্যাপী বার্ষিক ব্যাংকিং সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে তিনি এসব কথা বলেন।

ব্যাংক খাতের অতীত অভিজ্ঞতা তুলে ধরে ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, ঋণখেলাপির সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে একসময় নানা সংস্কার ও বিধিবিধান প্রণয়ন করা হয়েছিল। এর মাধ্যমে ব্যাংক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি কয়েকটি বেসরকারি ব্যাংককে আন্তর্জাতিক মানেও উন্নীত করা সম্ভব হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে সেই অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হয় এবং ব্যাংক থেকে নিয়মনীতি উপেক্ষা করে অর্থ সরিয়ে নেওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়।

তিনি বলেন, ব্যাংক খাতের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যৎ নীতিমালা প্রণয়ন করা উচিত। অতীতে যথাযথ নিয়ন্ত্রণকাঠামো তৈরি না করেই বেসরকারি ব্যাংক প্রতিষ্ঠার অনুমতি দেওয়ার নেতিবাচক ফল দেখা গেছে। একপর্যায়ে উদ্যোক্তা-পরিচালকেরা সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের মোট আমানতের প্রায় ৩৫ শতাংশ ঋণ হিসেবে তুলে নিয়েছিলেন।

 *রাজনৈতিক প্রভাব ও দুর্বল নিয়ন্ত্রণে সংকট* 

ব্যাংক খাতে রাজনৈতিক প্রভাবের সমালোচনা করে সাবেক এই উপদেষ্টা বলেন, রাজনৈতিক সরকারের প্রভাবশালী ব্যক্তিরা রাষ্ট্রীয় ব্যাংকগুলোকে অন্যায় সুযোগ-সুবিধা বিতরণের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করেছেন। রাজনৈতিক কারণে কাউকে সুবিধা দিতে হলে এমন খাত বেছে নেওয়া উচিত, যাতে দেশের অর্থনীতির বড় ধরনের ক্ষতি না হয়। ব্যাংক ও আর্থিক খাতকে রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা অনুচিত।

তিনি আরও বলেন, ২০১০ সালের পর পর্যাপ্ত যাচাই-বাছাই ছাড়াই দলে দলে নতুন ব্যাংকের অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। এর ফলে কিছু ব্যাংক পরবর্তী সময়ে দেউলিয়া হয়ে পড়ে। এসব ব্যাংকের কোনো কোনোটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকেও আমানত সংগ্রহ করেছিল।

ব্যাংকের মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রেও কার্যকর আইন প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন তিনি। তাঁর মতে, একটি গোষ্ঠী বা পরিবার একাধিক ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারবে কি না, সে বিষয়ে সুস্পষ্ট বিধিনিষেধ থাকা দরকার ছিল। এ ধরনের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ ঠেকাতে প্রতিযোগিতাবিরোধী কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে কার্যকর আইন প্রয়োজন। বাংলাদেশে এ বিষয়ে যথাযথ আইনগত কাঠামোর ঘাটতি রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

 *ব্যাংকে আটকে শিক্ষকদের পেনশন ও কল্যাণ তহবিল* 

ব্যাংক খাতের সংকটের সরাসরি প্রভাব সাধারণ মানুষের ওপর পড়ার বিষয়টিও তুলে ধরেন ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ। তিনি বলেন, শিক্ষকদের বেতন-ভাতা, পেনশন ও কল্যাণ তহবিলের অর্থের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা কিছু ব্যাংক পরবর্তী সময়ে দেউলিয়া হয়ে পড়ে। এতে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের কোটি কোটি টাকার পেনশন ও কল্যাণ তহবিল আটকে যায়। এসব অর্থ এখনো আটকে থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছেন সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা।

ব্যাংক খাতে অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে কার্যকর নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে আর্থিক খাতকে সুরক্ষিত করতে হবে। তা না হলে পুরোনো সংকট আবারও ফিরে আসতে পারে।

সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর মো. কবির আহম্মদ, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের (বিএবি) সভাপতি ও ঢাকা ব্যাংকের চেয়ারম্যান আবদুল হাই সরকার, বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটান অঞ্চলের বিভাগীয় পরিচালক জ্যঁ পেম এবং অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশের (এবিবি) চেয়ারম্যান ও সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসরুর আরেফিন।

মূল প্রবন্ধ:  উপস্থাপন করেন বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) চেয়ারম্যান জায়েদী সাত্তার।

সর্বশেষ