*মাটির বাড়ির তিনতলা বিস্ময়, টিকে আছে চার দশক ধরে।*
ইট-পাথর, সিমেন্ট আর রডের আধুনিক নির্মাণশৈলীর যুগে মাটির তৈরি তিনতলা একটি বাড়ি যেন গ্রামীণ স্থাপত্যের বিস্ময়। নওগাঁর পোরশা উপজেলার নিতপুর ইউনিয়নের বাঙ্গালপাড়া গ্রামে প্রায় ৪২ বছর ধরে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে ব্যতিক্রমী এই বাড়ি। সময়ের পরিবর্তন, প্রাকৃতিক প্রতিকূলতা আর আধুনিক নির্মাণের বিস্তারের মধ্যেও বাড়িটির অস্তিত্ব এখনো অটুট।
বালুমাটি, বাঁশ ও তালের তীর ব্যবহার করে নির্মিত বাড়িটির ছাউনিতে রয়েছে ঢেউটিন। ছয় কক্ষের এই বাড়ি নির্মাণে আশির দশকে ব্যয় হয়েছিল দেড় লাখ টাকার বেশি। প্রচলিত নির্মাণসামগ্রীর বাইরে গিয়ে তৈরি বাড়িটি এখন স্থানীয় মানুষের কৌতূহল ও আগ্রহের কেন্দ্র।
বাড়িটির নির্মাতা প্রয়াত শামসুজ্জোহা পোরশা উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ে সহকারী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। দুই ছেলে ও দুই মেয়ের এই জনক নিজের বসবাসের জন্য বাড়িটি নির্মাণ করেন। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথমে বাড়িটি ছিল দুইতলা। পরে পাশের এক আত্মীয় নিজেদের বাড়ির চেয়ে উঁচু ভবন নির্মাণ করলে অনেকটা অভিমান থেকেই নিজের বাড়িতে আরও একটি তলা যুক্ত করেন তিনি।
শামসুজ্জোহার ছোট ছেলে বকুল সরকার বলেন, ‘বাবার কাছে শুনেছি, প্রথমে বাড়িটি দুইতলা ছিল। পরে আমাদের এক আত্মীয় পাশেই আরও উঁচু বাড়ি নির্মাণ করেন। এতে বাবা অভিমান করে বাড়িটিকে তিনতলা করেন।’
২০১১ সালে শামসুজ্জোহা মারা যান। তবে তাঁর হাতে গড়া বাড়িটি এখনো পরিবারের কাছে স্মৃতি ও ভালোবাসার এক অনন্য নিদর্শন। বর্তমানে পরিবারের সদস্যসংখ্যা কমে যাওয়ায় বাড়িটির নিচতলাতেই বেশি বসবাস করা হয়। ওপরের দুইতলা তুলনামূলক কম ব্যবহৃত হয়।
সাধারণ নির্মাণসামগ্রী ছাড়াই মাটির তৈরি একটি বাড়ি কীভাবে চার দশকের বেশি সময় ধরে টিকে রয়েছে, তা নিয়ে রয়েছে স্বাভাবিক কৌতূহল। গ্রামীণ ঐতিহ্য ও পুরোনো নির্মাণকৌশলের এমন নিদর্শন শুধু একটি পরিবারের আবাসস্থল নয়, বরং হারিয়ে যেতে বসা দেশীয় স্থাপত্যধারারও স্মারক।
*তথ্যসূত্র:* কালবেলা।
মতামত দিন