*প্রাথমিক শিক্ষায় বড় বিনিয়োগ, শিক্ষার্থীরা পাবে পোশাক-জুতা, শিক্ষকদের হাতে ট্যাব।*
*উপশিরোনাম:* প্রাথমিক শিক্ষায় বড় পরিবর্তনের উদ্যোগ,
৪১ হাজার কোটি টাকার কর্মসূচি,নতুন শ্রেণিকক্ষ ও ডিজিটাল সরঞ্জাম। পোশাক পাবে কোটি শিক্ষার্থী। শিক্ষকদের জন্য
সাড়ে ৩ লাখের বেশি ট্যাব ।
প্রাথমিক শিক্ষার পরিবেশ ও গুণগত মান উন্নয়নে ৪১ হাজার ৯০ কোটি টাকার বড় কর্মসূচি হাতে নিয়েছে সরকার। পাঁচ বছর মেয়াদি পঞ্চম প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি (পিইডিপি-৫)-এর আওতায় দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১ কোটি ৬ লাখের বেশি শিক্ষার্থী বিনামূল্যে স্কুল পোশাক, জুতা, মোজা ও ব্যাগ পাবে। অন্যদিকে শিক্ষকদের দেওয়া হবে ট্যাব। পাশাপাশি বিদ্যালয়ে তৈরি হবে নতুন শ্রেণিকক্ষ, ওয়াশ ব্লক ও সীমানাপ্রাচীর।
২০২৬ সালের জুলাই থেকে ২০৩১ সালের জুন পর্যন্ত বাস্তবায়িত হতে যাওয়া এ কর্মসূচি গত বুধবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদন পেয়েছে।
কর্মসূচির মোট বরাদ্দের ২৫ দশমিক ২ শতাংশ ব্যয় হবে শিক্ষার্থীদের পোশাক ও শিক্ষা উপকরণ সরবরাহে। এ খাতে উপকৃত হবে ১ কোটি ৬ লাখ ১৭ হাজার ৯৬২ শিক্ষার্থী।
প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা বিস্তারে চালু হচ্ছে ‘এক শিক্ষক, এক ট্যাব’ উদ্যোগ। এর আওতায় শিক্ষকদের মধ্যে ৩ লাখ ৮৩ হাজার ৫১৩টি ট্যাব বিতরণ করা হবে। পাশাপাশি শ্রেণিকক্ষে স্থাপন করা হবে ২০ হাজার ইন্টার্যাক্টিভ ফ্ল্যাট প্যানেল ও প্রজেক্টর। এ খাতে মোট বরাদ্দের ৫ দশমিক ৯ শতাংশ ব্যয় ধরা হয়েছে।
বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়নেও থাকছে বড় বিনিয়োগ। মোট অর্থের ২৬ দশমিক ৪ শতাংশ দিয়ে ১৫ হাজার ৬৪১টি নতুন শ্রেণিকক্ষ, ১ হাজার ৫০০টি ওয়াশ ব্লক এবং ১০ হাজার সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ করা হবে।
এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের প্রাথমিক পর্যায়ের পড়া ও গণিতের দক্ষতা বাড়ানো এবং শিক্ষকদের পেশাগত সক্ষমতা উন্নয়নে ব্যয় হবে মোট বরাদ্দের ৭ দশমিক ৬ শতাংশ। এ কর্মসূচির আওতায় ৩ লাখ ১০ হাজার শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
পিইডিপি-৫-এর মোট ব্যয়ের মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে আসবে ৩৩ হাজার ২০৩ কোটি ২০ লাখ টাকা। বাকি ৭ হাজার ৮৮৭ কোটি ৩০ লাখ টাকা পাওয়া যাবে বিদেশি ঋণ ও অনুদান থেকে। বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি), ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ইউনিসেফসহ বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী এতে অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষণে কর্মসূচিটির বিনিয়োগের বিপরীতে সম্ভাব্য মুনাফার হার ১৭ দশমিক ৩ শতাংশ এবং সুবিধা-ব্যয় অনুপাত ২ দশমিক ৭ নির্ধারণ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, দীর্ঘ মেয়াদে মানবসম্পদ উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে এ উদ্যোগ।
একনেকে আরও ১৩ প্রকল্প অনুমোদন
এদিকে একই একনেক সভায় মোট ৫৮ হাজার ৮৮৮ কোটি ৯০ লাখ টাকা ব্যয়ের ১৩টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১১টি নতুন এবং দুটি সংশোধিত প্রকল্প।
অনুমোদিত প্রকল্পের মধ্যে বাংলাদেশ পুলিশের জন্য ৫ হাজার ৮৩০টি গাড়ি কেনার উদ্যোগও রয়েছে। দেশের ৬৩৯টি থানায় যানবাহনের সংকট মোকাবিলায় এ খাতে ব্যয় হবে ৬ হাজার ৬০৯ কোটি টাকা। বর্তমানে প্রতিটি থানায় গড়ে দুটি গাড়িও নেই।
গাড়ি কেনার জন্য নেওয়া দুটি প্রকল্পের একটিতে ৪ হাজার ৮২৯টি সাধারণ যানবাহন কিনতে ব্যয় হবে ৪ হাজার ৩২৮ কোটি ৯০ লাখ টাকা। অন্যটিতে ১ হাজার ১টি বিশেষায়িত গাড়ি কেনার জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ২ হাজার ২৮০ কোটি ১০ লাখ টাকা।
মতামত দিন