বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইসরায়েল–ইরান সরাসরি সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ঢাকা থেকে মধ্যপ্রাচ্যগামী সব ফ্লাইট পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত ঘোষণা করেছে। এতে করে পুরো অঞ্চলে চরম উত্তেজনার পাশাপাশি বিমান চলাচল নিয়েও দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমায় অস্থিরতা ও যুদ্ধ পরিস্থিতি বিরাজ করায় যাত্রীদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
স্থগিত হওয়া রুটগুলোর মধ্যে রয়েছে—
সৌদি আরবের জেদ্দা, রিয়াদ ও দাম্মাম; সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই ও আবুধাবি; কাতার, কুয়েত ও ওমানগামী সব ফ্লাইট।
বিমান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। আকাশসীমা নিরাপদ বিবেচিত হলেই পুনরায় ফ্লাইট চালুর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
দীর্ঘদিনের ছায়াযুদ্ধের অবসান ঘটিয়ে এবার সরাসরি সংঘাতে জড়িয়েছে ইরান ও ইসরায়েল। তেহরান আনুষ্ঠানিকভাবে ‘অপারেশন ফতেহ খাইবার’ শুরুর ঘোষণা দিয়েছে। অভিযানের আওতায় ইসরায়েলের বিভিন্ন কৌশলগত স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি করেছে ইরান।
অন্যদিকে, তেহরান দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছিল যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে সরকারবিরোধী আন্দোলনে মদত দিয়ে শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের চেষ্টা চালাচ্ছে। সাম্প্রতিক উত্তেজনার ধারাবাহিকতায় দুই পক্ষ এখন প্রকাশ্য সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছে।
ইরানের সামরিক সূত্রের দাবি, ইসরায়েলের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। বিশেষ করে বাহরাইন ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন স্থাপনাগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের কথা জানিয়েছে তারা।
ইরানের পক্ষ থেকে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে—তাদের সার্বভৌমত্বে আঘাত হানা হলে বা ইসরায়েলকে সামরিক সহায়তা দেওয়া হলে অঞ্চলের অন্যান্য মার্কিন ঘাঁটিও হামলার আওতায় আসতে পারে।
সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে তা মধ্যপ্রাচ্য ছাড়িয়ে বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও অর্থনীতিতেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
মতামত দিন