যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর ইরানে সামরিক হামলাকে অবৈধ ও অসাংবিধানিক বলে আখ্যা দিয়েছেন মার্কিন সিনেটর এডওয়ার্ড জে মার্কি।
এক বিবৃতিতে মার্কি বলেন, এই হামলার আগে কংগ্রেসের অনুমোদন নেওয়া হয়নি, যা যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানিক প্রক্রিয়ার পরিপন্থী। তার মতে, এ ধরনের একতরফা সামরিক পদক্ষেপ শুধু আইনি প্রশ্নই তোলে না, বরং দেশের সব নাগরিককে অপ্রয়োজনীয় ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেয়।
মার্কির ভাষ্য, ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যে বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিয়েছে। এতে ওই অঞ্চলে অবস্থানরত মার্কিন সেনা সদস্য ও বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়তে পারে। তিনি অভিযোগ করেন, ইরানের পারমাণবিক হুমকির তাৎক্ষণিকতা ট্রাম্প ধারাবাহিকভাবে অতিরঞ্জিত করেছেন—এমনকি কথিত “অপারেশন মিডনাইট হ্যামার” অভিযানের পরও, যেখানে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করেছে।
মার্কি আরও বলেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও নিজেই স্বীকার করেছেন যে ইরান বর্তমানে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করছে না। তার মতে, সামরিক হামলার আগে কূটনৈতিক সমাধানের যথেষ্ট সুযোগ ছিল, এবং এখনো সেই পথ খোলা রয়েছে।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, “এটি ট্রাম্পের সৃষ্টি করা সংকট। আমেরিকান জনগণ মধ্যপ্রাচ্যে আরেকটি অন্তহীন যুদ্ধ চায় না। তারা চায় না দেশের তরুণ-তরুণীদের বিদেশে পাঠানো হোক অনির্দিষ্টকালের যুদ্ধের জন্য, যখন দেশের ভেতরেই পরিবারগুলো স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় বহন করতে হিমশিম খাচ্ছে।”
শেষে তিনি সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, “প্রেসিডেন্ট যদি অবিলম্বে এই যুদ্ধের পথ থেকে সরে না আসেন, তবে কংগ্রেসকে হস্তক্ষেপ করতে হবে। ইরানের সঙ্গে আর কোনো যুদ্ধ নয়।”
মতামত দিন